কথা শুনছে না সেনাবাহিনী, সরে যাচ্ছে পুলিশ, ভিত নড়ে গেছে সরকারের: ডা. জাফরুল্লাহ

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা তাঁর সেনাবাহিনী এখন শুনছে না। পুলিশ এখন আমাদেরকে বলছে আন্দোলনের মাঠে অবস্থান করতে। বোঝাই যাচ্ছে, সরকারের ভিত নড়ে গেছে’ – বলেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘২ মাস আগে প্রেসক্লাবের সামনে আমি দেখেছি পুলিশ আমাদেরকে বলেছে, স্যার যায়েন না, এইখানে থাকেন। সেটা দু’মাস আগের কথা। এখনকার পরিস্থিতি তো আরও পরিবর্তন হয়েছে।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যাদেরকে এত ভয় করেন পুলিশ ও র‌্যাবের ডিজি তারা এখন যোগাযোগ করছে বিভিন্ন জায়গায়। তাই আপনারও ভয় পাবেন না। তারা সর্বোচ্চ কি করতে পারে- ধরে নিয়ে যাবে, সর্বোচ্চ মেরে ফেলবে। ১৯৭১ সালে আমাদের মরে যাওয়ার কথা ছিল। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করতেই আমরা এখনও বেঁচে আছি।’

শনিবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ’৭১’র মুক্তিযুদ্ধ ও আজকের বাংলাদেশ, আসন্ন নির্বাচনে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা এবং করণীয় শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি কোনও মুক্তিযোদ্ধার মুখে শুনতে চাই না যে মাঠে পুলিশ আছে বলে আমরা যেতে পারছি না। কত লাখ পুলিশ এখানে আছে? আমাদের পক্ষে জনগণ আছে ১৮ কোটি। আমরা যেসব সমাবেশ করেছি সব জায়গায় পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। তবুও হেঁটে গিয়ে মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছে। এ ধরনের ঘটনা দেখা গেছে সত্তরের দশকে মাওলানা ভাসানীর ডাকে মানুষ যখন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমার প্রত্যাশা- এবারের জাতীয় সংসদে কমপক্ষে ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা নেতা থাকবে। তবেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা হবে। তারা ১৯৭১ সালে যেভাবে যুদ্ধ করেছিল দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সংসদেও সেভাবেই অবস্থান নেবেন।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। যেন সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে বা তার মত প্রকাশ করতে পারে। সরকার যখন স্বৈরাচারী হয়ে যায় তখন সে তার অতীত ভুলে যায়। আমরা চাই সেই অতীতকে মনে করিয়ে দিতে। একাত্তরে যুদ্ধ করে আমরা যেমন স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম এখনো সেভাবেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আমরা দ্বিতীয় যে কথাটি দিয়েছিলাম সেটি হল ন্যায়বিচার। আমি কখনো বলিনি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে হবে। আমি বলেছি তাঁর ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সুবিচার পেলেই তিনি আজ কারাগারের বাইরে থাকতেন। আমরা কি টানা দুবার ক্ষমতায় থাকলে শেখ হাসিনার নামে ১৯২টা মামলা দিয়ে দিতাম?’

সরকারের ভিত নড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে সরকারের ভিত নড়ে গেছে। যখন বেনজির-আসাদুজ্জামানের মত লোকজন যোগাযোগ শুরু করে তখন বোঝা যায় ১ কোটি লোককে গ্রেফতার করা যায় না।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমরা বৈষম্য দূর করতে চাই। আজকে আমরা দেখছি কেউ কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। আর কেউ দরিদ্র থেকে যাচ্ছে। এ বৈষম্য আমরা দেখতে চাই না। বৈষম্যের কারণে মানুষের দুরবস্থা কি রকম হয় সেটা যদি দেখতে চান তাহলে ধানমন্ডিতে আমার হাসপাতালে আসতে পারেন। সেখানে মানুষ ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০০ টাকা দিতে পারে না।’ ‌

/ব্রে‌কিং‌নিউজ

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.