নৌকার পক্ষে নির্বাচনের ফল কব্জা করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের গুপ্ত মিটিং অনুষ্ঠিত!

গত ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন –
১) প্রধানমন্ত্রীর সচিব, সাজ্জাদুল হাসান
২) ফয়েজ আহমদ, জনপ্রশাসন সচিব
৩) হেলালউদ্দীন আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব
৪) কবির বিন আনোয়ার, সচিব পানিসম্পদ (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি)
৫) মহিবুল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব
৬) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম (মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) – সদস্য সচিব
৭) প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া
৮) কাজী নিশাত রসুল, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক জজ কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে)
৯) মেসবাহউদ্দিন, যুগ্মসচিব, (১১ বিসিএস) অফিসার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ।

এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন:
১. র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ
২. ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া
৩. ডিএমপির কাউন্টার টেররিজমের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম
৪. পুলিশ হেড কোয়োর্টারের ডিআইজি প্রশাসন হাবিবুর রহমান
৫. ডিএমপির ডিসি প্রলয় জোয়ার্দার (শেখ হাসিনার প্রাক্তন প্রটোকল অফিসার)

রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘন্টা ধরে চলা এ মিটিংয়ে সারাদেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্লান রিভিউ করা হয়। ডিআইজি হাবিব জানায়, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে, এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকী আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এ খেলা উৎরানো যাবে না।

বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবেনা, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুণ করে এমন অবস্থা তৈরী করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
আর শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে গেলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড়ের তান্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে, যেনো ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ভোটের ফ্লো ঠেকাতে না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে, বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠান্ডা করা হবে।

এরপর থেকে এ ধরণের সভা খুব বেশি করা যাবেনা, তবে কনসালটেশন করে কাজ করা হবে। খবর ডিআইজি হাবিব সূত্রের।

উল্লেখ্য, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে ৮ জন আওয়ামী দলীয় কর্মকর্তা দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারী আদেশ জারী করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়। কিন্তু গোপনে ঐসব কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে সারা দেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ৬ জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে। মুলত এখানে সব ধরণের অফিসারদের গমনাগমণ ঘটে থাকে, তাই বিরোধী পক্ষের চোখ এড়ানো সহজ হবে মনে করে জনবহুল এই স্থানে গুরুত্বপূর্ন সভাটি বসে।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.