যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের ফলাফল কব্জা করতে ৮ দলবাজ বিতর্কিত গোপালী পুলিশ কর্মকর্তাকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান!

বিশেষ প্রতিবেদক
আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে আ’লীগকে ক্ষমতায় আনতে ভয়াবহ উদ্যোগ নিয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। তার নির্দেশে পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। অফিসিয়াল পত্র মারফত চরম বিতর্কিত এবং আওয়ামী অফিসারদের (যারা এতদিন খুন, গুম, ধরপাকড় এবং গায়েবী মামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন) এই নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা মনিটিরিং তথা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ আদেশের ফলে জাতি জানতে পারলো, আসলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজটি কারা করতে যাচ্ছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের আইজিপির নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি প্রশাসন, অর্থ, টিএন্ডআইএম, ডিআইজি ও এআইজি অপারেশন্সকে নিয়ে ‘আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং ও কো অর্ডিনেশন কমিটি কেন্দ্রীয় করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক ‘আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং ও কো অর্ডিনেশন  কমিটি’র দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ৮ বিতর্কিত ও দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তাকে। এদের মধ্যে ডিজি র‌্যাব বেনজীর আহমেদ ও হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি অতিকুল ইসলামকে দেয়া হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ। ডিএমপির কমিশিনার এবং প্রলয় কুমার জোয়র্দার, ডিসি, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপকে দেয়া হয়েছে ঢাকা এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জ, এবং ঢাকা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এডিশনাল আইজি, এসবি মীর শহীদুল ইসলাম এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম (খুনি মনির)কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বরিশাল এবং খুলনা বিভাগ। এন্টি টেররিজম ইউনিটের এডিশনাল আইজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং ডিআইজি (এডমিন) হাবিবুর রহমান দেয়া হয়েছে সিলেট ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও মেট্রপলিটান এরিয়া।

এলাকা ভিত্তিক গঠিত এই ৪টি সেলের সদস্যরা নির্বাচন উপলক্ষে আইজিপির নেতৃত্বাধীন “আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং ও কোঅর্ডিনেটিং কমিটির” সদস্য করা হয়েছে। এলাকা ভিত্তিক এই ৪ সেলের কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনমাফিক অফিসার সংযুক্ত করতে পারবেন। এরা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন, নিয়ন্ত্রণ করবেন, এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। পুলিশ বাহিনীর মুভমেন্ট, অস্ত্র ও লজিস্টিক সাপ্লাই মনিটরিং করবেন। নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সিভিল প্রশাসন, বিভিন্ন বাহিনী, গোয়েন্দা, ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করবেন। পত্রপত্রিকা, গণমাধ্যম, ফেসবুক সহ সামাজিক মাধ্যম, টেলিফোন সহ সকল কিছু মনিটর করবেন, প্রয়োজনবোধে দরকারী ব্যবস্খা নিবেন। গার্মেন্ট্র শ্যমিক, পরিবহন শ্রমিক, ছাত্রদের উপর নজরদারী ও গোয়েন্দাগিরী করবেন। সহিসংতা, নৈরাজ্য, ও অপতৎপরতার নামে যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের উপর নজরদারী ও ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এর দ্বারা বিরোধী দলকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এরা। এমনকি আইনশৃঙ্খলার নামে যেকোনো বিষয় এরা তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। মোটকথা এই আদেশের বলে এসব অফিসাররা তাদের এরিয়ার যেকোনো বিষয় মনিটর ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনাররা তাদের অধীনে কাজ করবে, তারা চাইলে যতখুশি তত অফিসারকে তাদের সাথে সংযুক্ত করতে পারবেন।

কমিটির সদস্যদের ফিরিস্তি:

অতিরিক্ত আইজিপি প্রশাসন, মো. মোখলেছুর রহমান :
চরম দলবাজ কর্মকর্তা। সারা দেশে আ’লীগের লোকদের পুলিশে রিক্রট করার অন্যতম হোত ছিলেন তিনি। আওয়ামী দলবাজ অফিসারদের পোস্টিং প্রমোশন, ট্রেনিং, বিদেশ সফর  দিয়ে তাদের খুন খারাবি ও অপকর্মে উৎসাহিত করতেন। তিনি গায়েবী মামলার মাষ্টারমাইন্ড। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলেীগের নেতা ও নির্বাচিত জিএস ছিলেন। শেখ হাসিনার আইজিপি পদের অন্যতম ক্যান্ডিডেট।

বেনজীর আহমেদ, ডিজি র‌্যাব :
গত এক দশক ধরে হাজার হাজর গুম, খুন, অপহরণের নির্মম হুকুমদাতা। গোপালী পুলিশদের বস। শাপলা চত্তর হত্যাকান্ডের প্রধান কমান্ডার। নারী কেলেঙ্কারীতে চরম দুর্নাম কামিয়েছেন। বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী ও ছাত্রীরা তার শিকার। বড় রকমের দুর্নীতিবাজ। নিজস্ব এরিয়ার বাইরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের শিরোমনি! লীগের আইজিপি হওয়ার দাবীদার। শেখ হাসিনাকে আপা বলে ডাকে।

আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপি কমিশনার :
গুম, হত্যা, ধরপাকড়, গায়েবী মামলার নির্দেশদাতা। তার সময়ে বিরোধী দলের উপর চরম নির্যাতন গেছে। ২০১৫ সালে বিএনপির অবরোধের সময় তার নির্দেশে গাড়িতে পুলিশ নিজেরাই পেট্রল বোমা মেরে অগ্নিসংযোগ করে মামলা দেয়ার হোতা। তার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, “দেশবাসী জানে যে, সরকার টিকায়া রাখছে পুলিশ। তেরো সালে আন্দোলন দমাইছে পুলিশ, চৌদ্দ সালে ইলেকশনও করাইছে পুলিশ, গত তিন মাসে আগুন ধরাইছে পুলিশ!”

প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, ডিসি, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ, সিটিটিসি :
স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ মানে কিলিং গ্রুপ। পুলিশ সদর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত এআইজি হিসাবে পদ বাগিয়েছিলেন প্রলয়, যখন তিনি ছিলেন একজন নবীন এডিশনাল এসপি। তার দুই ধাপ ওপরে পদ বাগাতে কতটা প্রভাব লাগে অনুমান করে নিতে হবে, যখন ঐপদের জন্য যোগ্য শত শত অফিসার ছিল। এভাবেই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে দাপটের সাথে আছে প্রলয়, পুলিশ সদর দপ্তরে যাকে সবাই এক নামে ‘র’ এর সরাসরি এজেন্ট বলেই চেনে। এটা পুলিশ সদর দপ্তরে ওপেন সিক্রেট। কট্টর হিন্দুবাদী এই কর্মকর্তার বিভিন্ন কর্মকান্ডে খোদ পুলিশের আওয়ামী সমর্থনকারী উচ্চপদস্থ মুসলিম কর্মকর্তারাও ক্ষিপ্ত। এই লোক পুলিশ বাহিনীতে প্রকাশ্যেই গঠন করেছে হিন্দু পুলিশ লীগ। পুলিশ সদর দপ্তরে বসে নিয়মিত ইসলাম ধর্মকে গালি গালাজ করা তার অভ্যাস। প্রলয় কুমারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুপারিশে অন্তত ৩০০০ হিন্দুকে পুলিশে নিয়োগ দেয়া হয়, শত শত পুলিশ গেছে শান্তিরক্ষী টিমে। মাসে অন্তত দুইবার করে প্রলয় কুমার ভারতের কলকাতায় অবস্থিত তার নিজ বাড়িতে যান বলে পুলিশ সদর দপ্তরের অনেকগুলো সূত্র নিশ্চিত করে।
২৪তম বিসিএস ব্যাচের শেষ ব্যক্তি প্রলয় শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার ছিল। চাকরিতে নানা গন্ডগোল তার শুরু থেকেই, কিন্তু টিকে আছে ক্ষমতার দাপটে। এমনকি তার বেসিক ট্রেনিংও নাই। তাকে আবার পুলিশের ২৪ ব্যাচের সভাপতি করা হয়েছে! তার বিরুদ্ধে পুলিশে অসংখ্য লোক বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত হলেও ‘র’ এর সরাসরি এজেন্ট হওয়ায় এবং হাসিনার সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে পারে না। ২০তম ব্যাচ এবং তদনিম্ন আওয়ামী পুলিশ অফিসারদের নেতা প্রলয়। বিরোধী দল, নির্যাতন, গুম, গায়েবী মামলার অন্যতম মাস্টার মাইন্ড। কর্মকর্তাদের প্রমোশন পোষ্টিং, এবং ক্রস ফায়ারের ভয় দিয়ে লোক হনে কাছ থেকে শত শথ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রলয়। বড়ই বিপজ্জনক সে, যখন তখন খুন করে ফেলে সে।

মীর শহিদুল ইসলাম. অতিরিক্ত আইজি, এসবি :
মুলত তিনি পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান। রাজনৈতিক ব্যত্তি;রে তালিক করা, এবং তাদের নামে মামলা, গ্রেফতার তার নির্দেশে হয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে কথিত মাইনরিটি নির্যাতনের গল্প তৈরী এবং  মামলার মূল মাস্টারমাইন্ড। এসব কাজ দেখিয়েই তার উন্নতি হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি), ডিএমপি :
গোপালী পুলিশের মধ্যে চরম ক্ষতিকর ‘কালা মনির’ বা ‘খুনি মনির’। শত শত গুম, খুন, সাজানো জঙ্গিবাদ সব তার হাতে তৈরি। পুলিশে যত ধরনের খারাপ কাজ হয়, সবগুলো খারাপ কাজের মাস্টার সে। আনসারউল্লাহ নাটক, জঙ্গি নাটক, ব্লগার জবাই এসব তারই অর্জন। রিমান্ডে নির্যাতন, গায়েবী মামলা, দলবাজি, গুম, শত শত খুন, ক্রস ফায়ারের নির্দেশদাতা।

আতিকুল ইসলাম, ডিআইজি হাইওয়ে পুলিশ :
বিএনপির আমলে বিভিন্ন সুবিধাজনক যায়গায় থেকে ভোল পাল্টে ভিতরের তথ্য সব ফাঁস করে দিয়েছে লীগের কাছে। দীর্ঘদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে থেকে আওয়ামী অফিসারদের রিক্রুট করেছে। বিরোধী দল নির্যাতনের অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

শফিকুল ইসলাম, এডিশনাল আইজি, এন্টি টেররিজম :
পদের নামের সাথেই পরিস্কার বোঝঅ যায় ফেইজ জঙ্গি নাটকের পরিকল্পনা তার। গুম, খুন, অপহরণ, ক্রসফায়ার, দলবাজি ইত্যাদি সব কাটাগরিতে মাষ্টার সে।

হাবিবুর রহমান: ডিআইজি (প্রশাসন) হেডকোয়ার্টার :
১৭ ব্যাচের গোপালী অফিসার। পুলিশকে আ’লীগের লাঠিয়ালে পরিণত করার মূল পরিকল্পনাকারী ব্যক্তি। বিরোধী দলের নামে গায়েবী মামলা দেয়া, ক্রসফায়ার ও পাইকারী গ্রেফতারের সাথে জড়িত।, সকল সিটি নির্বাচনে পুলিশী সেট-আপ সে করে। পুলিশে চেইন অব কমান্ড ভাঙ্গার মূল কারিগর ছিলেন তিনি।

এসব পুলিশ অফিসাররা গত এক দশক ধরে শেখ হাসিনার পোষ্য পুত্রদের মত কাজ করে অাসছে। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী খুন গুম অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে তাদের হাতে। এখন এসব ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সুষ্ঠূ নির্বাচন করতে। এটা কি সম্ভব? সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এদের  দিয়ে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ ভোট করা সম্ভব নয়।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.