নোয়াখালীর খুন গুম, গায়েবী মামলা ও বিএনপি নিধনের হোতা এসপি হান্নান শরীফ!

ইলিয়াস শরিফ, ২০তম বিসিএস ব্যাচের অফিসার, এসপি নোয়াখালী হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ী ফরিদপুর, তার বড় ভাই হান্নান শরীফ মিরপুর থানা আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। তিনি নোয়াখালীতে পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন ২০১৪ সালে।

নোয়াখালীতে যোগদান করে এসপি ইলিয়াস নোয়াখালীকে আওয়ামীলীগ ক্যাডারদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেন। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালী জেলার তিনটি ব্যতীত বাকী সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদে পুলিশের সহায়তায় ভোটকেন্দ্র দখলের মাধ্যমে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে জয়ী করেন। একই ভাবে সাতটি পৌরসভার নির্বাচনে সব কয়টিতে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে জয়ী করেন। এরপর ২০ দলীয় জোটকে ধ্বংস এবং নির্মূল করার জন্য গুম, খুন, পঙ্গুত্ব এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়া করেন। এসপি ইলিয়াসের নির্দেশে পুলিশ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের সুধারাম থানায় পাঁচ জনকে হত্যা করে এবং পাঁচ জনকে পঙ্গু করে, সোনাইমুড়ী থানায় পাঁচ জনকে খুন ও এক জনকে পঙ্গু করে, বেগমগঞ্জ থানায় তার উপস্থিতিতে ও সরাসরি নেতৃত্বে গত ০৭/০১/২০১৪ সালে দুই জনকে খুন এবং আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আলমকে গত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা করে, সেনবাগ থানায় একজনকে খুন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিন জনকে পঙ্গু এবং কবিরহাট থানায় এক জনকে পঙ্গু করে। তাছাড়া তার মদদে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতা কর্মীকে হত্যা করে এবং উল্টো বিরোধী জোটের হাজার হাজার নেতা কর্মীদের ঐসব হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। দুই শতের অধিক গায়েবী মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়া করে। পুরষ্কারস্বরূপ তাকে ১০১৫ সালে পিপিএম(সেবা) এবং ২০১৮ সালে বিপিএম(সেবা) পদকে ভূষিত করা হয়। আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মাকে ‘মা’ এবং সাংসদ একরামুল করিমের বউকে বোন ডেকে নোয়াখালীতে আত্মীয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এর ফলশ্রুতিতে তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এক জেলায় কর্মরত আছেন। আগামী নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি আসন পুলিশ দিয়ে ভোট দখলের মাধ্যমে সরকার দলকে উপহার দিবেন মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হন এবং সেভাবেই তিনি নোয়াখালীতে পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়েছেন।

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে এসপি ইলিয়াস শরীফ ছাত্রলীগের দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দেয়। নোয়াখালীতে বিসিএসে উর্ওীন যাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয় বিএনপি করে তাদের বিরুদ্ধে গোপনীয় প্রতিবেদন দিয়ে চাকুরীতে নিয়োগ বাতিল করে। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ থেকে বদলী-পদোন্নতি এবং থানার মাসোহারা নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পত্তির পাহাড়। বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের ক্রস-ফায়ারের ভয় দেখিয়েও তিনি হাতিয়ে নেন কোটি টাকা। তার দূর্নীতির বিষয়ে দুদক ৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নিলেও অদৃশ্য কারনে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.