শেখ হাসিনার ‘বদু কাকা’ ডিগবাজী দিয়ে এখন তার কিংসপার্টির প্রধান

।। বিশেষ রিপোর্ট।।
গোটা জাতি যখন একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অান্দোলন করছে তখন জনসমর্থন শূন্য এক নব্য গাদ্দারের আবির্ভাব ঘটেছে রাজনীতিতে।
স্বৈরাচার হাসিনার বদু কাকা ওরফে বদরুদ্দোজা চৌধুরী তার পক্ষে ডিগবাজী দিয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে কিছুদিন আগেও সোচ্চার থাকা বি চৌধুরীকে ব্যাংক ডাকাত হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বি-টিম হিসাবে মাঠে নামিয়েছে।তার নেতৃত্বে গঠন করা হচ্ছে কিংস পার্টি। হাসিনার পক্ষে একালের মীর জাফর বদরুদ্দেজা চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার মাঠে নামাছে।রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভার পাল্টা হিসাবে বি চৌধুরী বৃহস্পতিবার জনসভা করবে সাতক্ষীরায়।শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ডে কাল দুপুর ২ টায় তার জনসভার আয়োজন করেছে সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেয়া সাবেক এমপি গোলাম রেজা।
বি চৌধুরী তার কুলাংগার পুত্র মাহী বি চৌধুরীকে সংসদ সদস্য করানোর জন্য তার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের একাংশ নিয়ে পুরোপুরি ‘ইউটার্ন’ নিয়েছে। প্রতারক সর্দারনী হাসিনা এই কিংস পার্টিতে শুক্রবার আরো কিছু নামগোত্রহীন ভুইফোড় পার্টিকে যোগদান করাবে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে। ৭ নভেম্বর তারা দেখা করেছে বি চৌধুরীর সাথে।
গণভবনে হাসিনার সঙ্গে সংলাপ শেষেই তিনি স্পষ্ট করেন নিজের পল্টিবাজীর অবস্থান। জানিয়ে দেন, সংসদ বহাল রেখে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন। এরপর ৬ নভেম্বর হাসিনার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করে বলে এসেছে তফসিল পেছানো যাবে না।বিকল্পধারার মহাসচিব চিহ্নিত রাজাকার মেজর অব.আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বি চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইসির কাছে পৌছে দেন।
অথচ কিছু দিন আগেও বি চৌধুরী বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন দলকানা। সরকারের প্রতি অন্ধ। তাদের মেরুদন্ড একটি দলের কাছে রেখেছে।এই দলবাজ ইসি পুনর্গঠন করতে হবে।এদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। হাসিনার বদু চাচার কাছে এখন সেই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতর হয়েছে.।
বি চৌধুরী এই স্বৈরাচারী হায়েনা সরকারকে হঠাতে যে পাচ দফা দাবীতে সোচ্চার ছিলেন তা এখন গুলে খেয়ে প্রকাশ্য দালালী করছে।তিনি বলেছিলেন,
দেশ চরম স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারের কবলে পড়েছে। এই স্বৈরাচার দশ বছরে দেশ জাতি সব ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতারক মিথ্যাবাদী।নির্বাচনের আগে সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিতেই হবে।না হলে আমরা নির্বাচনে যাবো না।তিনি বলেছিলেন,এসরকারের শরীর অসুস্থ। অনেকটা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা রোগীর মতো সরকার।এদের আর দেশ চালাতে দেয়া যাবে না।
৮৬ বছর বয়স্ক সেই বি চৌধুরী এখন হাসিনার খেলার পুতুল। জাতিয় বেঈমান।বদু কাকা বলার পর খুব গোসসা করেছিলো বিচৌধুরী। তখন বদু কাকা শব্দটি বিষাক্ত মনে হলেও এখন সেই নাম বড় মধুর হয়ে গেছে।
তার জীবনের সব নাম যশ সম্মান খ্যাতি পদ পদবী যে দলের বদন্যতায়,যাদের পাতে খেয়ে দেয়ে আজ গালভরা নাম ডা.একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ,সেই পাতে বিস্টা ত্যাগ করছেন শেষ বয়সে এসে।

হুসেইন মু. এরশাদ এবং বি. চৌধুরী। দুজনেই পড়ন্ত বয়সে।দুজনেই রাষ্ট্রপ্রতি ছিলেন। আরো সাদৃশ্য হলো দুজনই এখন পল্টিবাজী -ডিগবাজীতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।সারাদেশের মানুষ এরশাদ কাকা”র সাথে আরেকজন নতুন কাকাকে পেলো “বদু কাকা ”!
আগামীতে হাসিনার আচলের তলে ঢুকে ক্ষমতার হালুয়া রুটি ভাগের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। ২নভেম্বর বি চৌধুরী হাসিনার সাথে সংলাপে গিয়ে তার জীবনের শেষ অভিপ্রায় হিসাবে বলেছেন, তিনি হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান আর তার লম্পট পুত্র মাহী বি চৌধুরীকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা দেখতে চান।
এরপর থেকে এরশাদ আর বদু কাকা পরস্পর জানি দুশমনে পরিনত হয়েছেন। বি চৌধুরী জাতীয়পার্টি ছেড়ে সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেয়া সাবেক এমপি গোলাম রেজার পক্ষে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরায় জনসভা করবে এটা জানতে পেরে এইচ এম এরশাদ আজ ৭ নভেম্বর ঘোষনা দিয়েছেন তিনি সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের চারটি ইউনিয়ন) আসনে প্রার্থী হবেন।
দেশের স্বৈরাচার হাসিনা কবলিত প্রতিটি মানুষ এই জাতীয় গাদ্দার নব্য পল্টিবাজ বদুকাকা এবং পুরানো রাজনৈতিক ক্লাউন এরশাদকে প্রতিহত করার সংকল্প নিয়েছে।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.