নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে

শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রীদের ভয়াবহ গলাবাজি এবং হাসিনার পালিত মাসুদা ভাট্টি টাইপের মানে চরিত্রহীনদের মিডিয়ার ক্রমাগত প্রচারণার কারনে দেশের মানুষ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো যে, হাসিনার কাছ থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচন পাওয়া মোটেও সম্ভব নয়। যে কারনে গোটা দেশময় পাবলিকের মনে এক প্রকার ঘৃণাবোধ জন্মেছিলো বিএনপির ওপরে। কেনো তারা কিছু করছে না। কেনো আন্দোলন করছে না, এরকম দাবি সব জায়গা থেকেই করা হচ্ছে। অথচ বিএনপি পুরনো ভুল থেকে রিকভার করে এমন পন্থা অবলম্বন করতে চেয়েছিলো, যেটা বেগম জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান থেকেই সুস্পষ্ট হয়েছিলো।
.
বিরোধী দলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকে অসাড়, বিরোধিতার খ্যাতিরে বিরোধিতা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছিলো সরকার। কিন্তু খালেদা জিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের সিনিয়র সিটিজেন, সুশীল সমাজ এবং দেশের ভিতরে গেম প্লান করার যোগ্যতা রাখেন এরকম ব্যক্তিদের নিয়ে যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন কুড়ি দল বিশেষ জোট গঠনের পথে হাটলো এবং সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এক প্রকার ছাড় দিয়েই বিএনপি সহ কুড়ি দলীয় জোট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে ফেললো, তখন এক যুগ ধরে দখলদার প্রধানমন্ত্রীর পায়ের নিচের মাটি একটু একটু করে সরে যেতে লাগলো। এটাই বিএনপির ক্রেডিট বলতে হবে যে, তাদের কট্টর বিরোধী মতের লোকদের নিজের বলয়ে এনে তাদের মুখ দিয়েই নিজের কথা বলাচ্ছে। জাতীয় সমস্যাকে দলের হিসেবে বিবেচনায় নিতে চায়নি বিএনপি। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক এই কৌশলে শেখ হাসিনা পুরোপুরি পরাস্ত।

ফলে হাসিনার সরকারের গলাবাজি আর তিরস্কারের জন্য তৈরি মিডিয়ার সকল ফোকাস বিএনপি জামায়াতের ওপর থেকে সরে গিয়ে এখন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড কামাল এবং তার সহযোগীদের ওপর পড়লো। তাদের বিতর্কিত করার, হেনস্তা করার নানাবিধ কৌশল প্রয়োগ করতে লাগলো সরকার ও সরকারের পালিত দালালরা। সাথে যোগ দিলো সরকারের আজ্ঞাবহ মিডিয়া এবং তাদের দালালরা। কিন্তু মাঝ পথে হোচট খেয়ে গেলো ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সম্পুর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেফতার করার ভিতর দিয়ে। যে বিষয়ে একাধিক মামলা হয়, সেই মামলাগুলোকে একটি মামলায় রূপান্তর করাই আইন আদালতের প্রসিডিউর। ফলে ঐ মামলায় হাইকোর্ট বেঞ্চের আগাম জামিনে থাকা ব্যারিস্টার মইনুলকে গ্রেফতারী পরোয়ানা দেওয়ার কোন এখতিয়ার নিম্ন আদালতের ছিলো না। ড কামাল হোসেন এ কারনেই আইন মন্ত্রীকে ভৎর্সণা করে  বলেছেন, ‘তোমাকে কে এ অধিকার দিলো, আইনের ব্যাখ্যা দাও।’ ব্যাখ্যা আর কি দেবে, তাদের তো শেষ চেষ্টা করে দেখতে হবে, এই যা। সমস্যা হয়েছে, সরকারের পতনের জন্য যে পরিমান গোয়ার্তুমী বাকি ছিলো, সেটাও পূর্ণ হয়ে গেছে।

রাজনৈতিক এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিষয়টি পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়ে গেছে যে, হাসিনার অধিনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল এবং সম্মানিত সকল নাগরিকদের অনীহা রয়েছে। কিন্তু সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছে শেখ হাসিনা। বিরোধী দলের কথামত ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া শেখ হাসিনার যেমন প্রেস্টিজ ইস্যূ যেমন তেমনি তার মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশ নেতাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে।

সব দিক বিবেচনায় নিজের এবং দলের বিশ্বস্ত নেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েই দরকষাকষি করে চলছেন তিনি। কিছুদিন আগে ঢাকা সফর করে যাওয়া  যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মূখ্য সহকারী মন্ত্রী এলিস ওয়ালেস এবং কর্মকর্তারা নির্বাচন বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রীদের সাথে আলোচনা করে তিনটি অপশন দিয়েছিন। সরকারও সময় নিয়েছে এগুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এসব অপশান কেবল মুখের কথা নয়, সরকারের জন্য চয়েজ মাত্র।
.
প্রথমটি অপশন, বিরোধী দলগুলার সঙ্গে সংলাপে বসে সব দলের অংশগ্রহনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কার্যকর পথ বের করা।
দ্বিতীয় হলো, সরকার নিজেরা পদতাগ করে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব দেয়া, যাতে তিনি সকল দলের সাথে পরামর্শ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে তদারকি সরকার গঠন করতে পারেন।

তৃতীয়টি হলো, সরকার জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে। নির্বাচনী তফসিল ঘেষিত হবে, কিন্তু নির্বাচন হবে না। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গোলযোগ হলে কি করণীয়, হবে সেটা সংবিধানে বর্ণিত আছে। এ অবস্থায় সরকার আরো তিন মাস ক্ষমতা কন্টিনিউ করতে পারে। কিন্তু এরপরে নির্বাচন না হলে সংবিধান অটোমোটিক চয়েজ দিয়ে দেবে। নিরপেক্ষ ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে সংবিধানিক কোন বাধা থাকবে না।

হয়তো এই তিন/চার মাসে সরকার আরো কিছু হিসাব নিকাশ করতে পারবে, কিন্তু নিজেদের অধিনে কোন নির্বাচনের চেষ্টা চালাতে পারবে না। অতএব, এত অপশানের ভিরে হাসিনার জন্য একটাই অপশান কনফার্ম হয়েছে যে, পুনরায় ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করা হলে সরকারের সাথে দাতাগোষ্ঠির সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত সকল দাতা গোষ্ঠিও সরকারকে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছে। আগামী দশ দিনের ভিতরে সরকারকে তার পছন্দ জানাতেই হবে। এটাই হচ্ছে ডা. জাফরুল্লাহর আলটিমেটাম। তিনি বলেছেন, আগামী দশ দিনের ভিতরেই কিছু একটা হয়ে যাবে।

/ফেসবুক

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.