গুম হওয়া এক বিএনপি নেতা ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে হাসপাতালে আসলেন যেভাবে – সাক্ষাৎকার!

গত  ৩০শে সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ থেকে ফেরার সময় রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে এক সাথে তুলে নিয়ে যায় ৪জনকে। তার মধ্যে একজনের বাড়ি নোয়াখালীতে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন প্রভাবশালী নেতা  (নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হলো না)। দেখা হয় পিজি হাসপাতালের ইমার্জেন্সী বেডে।  আমি নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে গিয়েছিলাম হাসপাতালে, ইমার্জেন্সী ওয়ার্ডের বেডে চোখ পড়তেই দেখি এক লোক কাতরাচ্ছে সমস্ত শরীরে আঘাতের চিহ্ন! এদিক সেদিক তাকিয়ে লোকটির পাশে দাঁড়ালাম, জিজ্ঞেস করলাম এমনটা হল কি করে? তিনি খুব কষ্টে ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন এক লোমহর্ষক কাহিনী, যা শুনে শরীরের লোম শিউরে ওঠে। আমি জিজ্ঞেস করলাম বলল কিভাবে হাসপাতালে এলো।

জানতে চাইলাম পুরো ঘটনা। বললেন পূরো কাহিনী, যা এখানে লিখলে হয়তো তার পরিচয় ওরা জেনে যাবে এবং আবার তুলে নিয়ে যাবে। তাই সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরলাম,

ঘটনার বর্ণনা : ঐ রাতে গ্রেফতার করে কোনো পুলিশ থানায় নিয়ে যায়নি, কোন এক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাতেই বেধড়ক পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলেছিল, তারপর পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে জ্ঞান ফেরানোর পর পরদিন সারাদিন একটা গাড়িতে রাখে। রাতে তার লোকাল এমপির কাছে ফোন করে কথা বলে আবার পিডায়, আবার অজ্ঞান হয়ে গেলে সে অবস্থায় আবার নিয়ে যায় অজানা কোনো স্থানে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাটিতে ফেলার পর তার জ্ঞান ফিরলে ঘাতক দল বলে, তোর এলাকার এমপি বলেছেন তোকে ওপারে পাঠাতে। দোয়া কলমা পড়ে নে। ঠিক সে সময় একটা ফোন আসলো, একজন অফিসার কথা বলা শেষে বললো- যা বেঁচে গেলি! এখানে থাক্। তখন ঐ অফিসারের পা জড়িয়ে ধরে বলে- স্যার, আমাকে হয় মেরে ফেলুন, নাহয় হাসপাতালে নিয়ে যান। এখানে এভাবে ফেলে গিয়ে যন্ত্রণা দিয়ে মারবেন না। আল্লাহর রহমতে ঐ অফিসারের দয়া হল, নিয়ে আসলো পিজি’তে। ইমার্জেন্সিতে ফেলে ওরা চলে গেল। কথা গুলো বলার সময় কাঁদছিলেন, আর বলছিলেন। আজ এখন এখানে আমার দ্বিতীয় জীবনের শুরু। ডিবি নামের এ লোক গুলো এত হিংস্র জঘন্য! আল্লাহর রহমত ছিল বলে বেঁচে আছি। এরপর সংগে থাকা বাকি ৩ জনের কথা জিজ্ঞেস করলে বললেন ওদের পরিনতি তিনি জানেন না । 

গত ২দিন আগে আবার তার সাথে কথা বলে জানলাম নিরাপত্তার স্বার্থে একদিন পরেই পিজি থেকে চলে যান প্রাইভেট হাসপাতালে। সেখানে কয়েক দিন থেকেই টাকার অভাবে চিকিৎসা শেষ না করেই বাসায় ফিরেন। ডাক্তার বলেছেন প্রতিদিন থেরাপি দিতে হবে। বা হাত অনেকটা অকেজো, প্রচন্ড ব্যাথা শরীরে। কিন্তু টাকার জন্য থেরাপিও নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমার মত একজন নেতা আজ টাকার জন্য চিকিৎসা নিতে পারছি না, দলের সাধারণ কর্মীদের কি অবস্থা? আমি আজ প্রায় ২১ দিন দ্বিতীয় বার জীবন পেয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে আল্লাহর দয়ায় ফিরলাম দলের হাইকমান্ডের কোনো নেতা খবর নিলো না। দলে নির্যাতিত নেতা কর্মীদের দেখভাল করার জন্য কোন টিম নাই।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলে উঠলেন , ভাই দয়া করে আপনি দূ’কলম লিখেন যেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেন। এভাবে একটা দল চলতে পারেনা,  দলের নেতা কর্মীরা একসময় দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। আমি দীর্ঘ ২০ বছর রাজনীতি করে আজ আমার পাশে কাউকে পাচ্ছি না। আমার নিজেরই এখন দলের একজন নেতা পরিচয় দিতে ঘৃণা হচ্ছে নিজের প্রতি।

আমি সব শুনে তাকে বল্লাম ভাই আমার লেখা তো তারেক রহমান পর্যন্ত পৌঁছাবে না  তবু ও লিখব। হ্যাঁ লিখলাম । আমি আমার কথা রাখলাম। এবার নেতাদের কানে পৌঁছে দিতে পারেন অনলাইন ইউজাররা এ লেখা কপি শেয়ার করে ।

/vob24-7

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: