ভেঙ্গে পড়েছে পুলিশের চেইন অব কমান্ডঃ জুনিয়র এক ডিআইজির বাড়াবাড়িতে আইজিপি জাবেদ হয়রাণ!

বিশেষ প্রতিবেদন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভেঙ্গে পড়েছে পুলিশের চেইন অব কমান্ড। পুলিশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা করে ও সরকারী এটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের একান্ত অনুগত একেএম শহিদুল হকের আইজিপি পদে নিয়োগ থেকেই পুলিশের বিশৃঙ্খলার শুরু হয় যা এখন চরম বিপর্যয়কর অবস্থায় এসে পড়েছে। জনশ্রুতি আছে, শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া (ডিএমপি কমিশনার) তাঁদের এ পদে পদায়নের জন্য রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এক নিকটাত্মীয়ের সাথে ৩০ কোটি টাকার প্যাকেজে ডিল হয়েছিল। জনাব শহীদের ব্যাচের ১ম ব্যক্তি জাভেদ পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে ব্যাচের ১৪তম ব্যক্তিকে পুলিশ প্রধান করায় মেরিট লিস্টের প্রথমদিকে থাকা পুলিশ অফিসাররা হতাশ হয়ে পড়ে। এই সময়ে পুলিশ হেড-কোয়ার্টার্সের ডিআইজি হাবিব (১৭ ব্যাচ, বাড়ি গোপালগঞ্জ) যথেচ্ছভাবে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে গুটিকয়েক অফিসারকে বারংবার পদায়ন করায় নিরপেক্ষ পুলিশ অফিসার, এমনকি আওয়ামীপন্থী যারা হাবিবকে তোষামোদ করেনি, তারাও ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার হওয়ায় তাদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

এসময়ে প্রলয় জোয়ার্দার (২৫ ব্যাচ, স্ত্রী এনএসআই এর গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত)কে ২/৩ ব্যাচ ডিঙ্গিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি করায় পুলিশে বিস্ফোরনমূখ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাবিবের প্রস্তাবিত পদায়নে প্রলয় তার স্ত্রীর প্রভাবে অনেকের পদোন্নতি ও পদায়ন এনএসআই ক্লিয়ারেন্স বিরূপ থাকার অজুহাতে আটকে দিয়ে হাবিবের বিরাগভাজন হলেও তৎকালীন আইজি শহিদুল হকের পৃষ্ঠপোষকতায় বহাল তবিয়তে ছিল। জাভেদ পাটোয়ারী আইজি হওয়ার পর প্রলয়কে পুলিশ হেযকোয়ার্টার্স থেকে চলে যেতে হয় এবং তার অনুসারীরা আইজির প্রকাশ্য বিরোধীতা করতে থাকে। এ সময়ে ডিআইজি হাবিব নিজেকে আইজির চেয়েও বেশী শক্তিশালী হিসাবে জাহির করে এবং এর ফলে তার সাথে সংঘাত শুরু হয় অতিরিক্তি আইজি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমানের। শহিদুল হকের পর আইজি পদ-প্রত্যাশী মোখলেছুর রহমানকে অতিঃ আইজি (প্রশাসন) এর গুরু-দায়িত্বে পদায়ন করা হলেও হাবিব তাকে পাশ কাটিয়ে পুলিশের সকল স্তরের পদোন্নতি ও পদায়নে স্বৈরাচারী মনোভাব অব্যাহত রাখে যাতে আইজি জাভেদ পাটোয়ারী ও অতিঃ আইজি মোখলেছ প্রচন্ডভাবে রুষ্ট হন। এতে পুলিশ হেড-কোয়ার্টার্স ও অন্যান্য ইউনিটে কর্মরত তাঁদের অনুগত অন্যান্য অফিসারদের মধ্যে বিভাজন এখন সুস্পষ্ট।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় প্রাক্তন ৩ জন আইজির সাজা হওয়ায় আইজি জাভেদ পাটোয়ারী ভবিষ্যতে এমন পরিনতি এড়াতে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা রুজুর বিপক্ষে থাকলেও ডিআইজি হাবিব তা জোর করে বাস্তবায়ন করানোয় তাদের মনোমালিন্য এখন তুঙ্গে। পক্ষান্তরে হাবিবের একান্ত সহযোগী তার ব্যাচের ডিআইজি ডঃ খন্দকার শহীদ, আনোয়ার, হাফিজ, বাতেন ও অতিঃ ডিআইজি মঞ্জুরুল কবির, নাজমুল, ১৮ ব্যাচের মোজাম্মেল, মনিরুজ্জামান, আসাদুজ্জামান, ২০ ব্যাচের এসপি মইনুল (নারায়নগঞ্জ), শাফিউর (ঢাকা জেলা), মোল্লা নজরুল, শাহ আবিদ (ময়মনসিংহ), টুটুল চক্রবর্তী, মাসুদুর রহমান, আলমগীর কবির, নূরুল ইসলাম (কুমিল্লা), আনিসুর রহমান (স্ত্রী আওয়ামী লীগের মহিলা এমপি), হারুন (প্রাক্তন গাজীপুর এবং স্ত্রীর ১৫৩২ কোটি টাকা আমেরিকায় আটক বলে জনশ্রূত), আলতাফ হোসেন, ২১ ব্যাচের বিপ্লব (ডিসি তেজগাঁও), মারুফ, সাজ্জাদ, বিজয় বসাক, পঙ্কজ রায়, আনোয়ার এবং ২২ ব্যাচের এসপি মেহেদী, জাহাঙ্গীর, সায়েম, মান্নান প্রমূখ ঘুরে-ফিরে পুলিশের রিওয়ার্ড পোষ্টিং হিসাবে পরিচিত জেলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, যশোর, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, এসব জেলায় একাধিকবার এবং দীর্ঘমেয়াদে পোষ্টিং পাওয়ায় অন্য অফিসারদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তাই ডিআইজি আনোয়ার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গায়েবী মামলা, হত্যা, গুম, জেল-জুলুম এবং তফসিল ঘোষনা উপলক্ষ্যে নভেম্বরের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত গণ-গ্রেফতারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশে হাবিবের অনুসারী গুটি-কয়েক অফিসার অতি আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসলেও স্বল্প সুবিধাপ্রাপ্ত বা কোন সুবিধা না পাওয়া অন্যান্য বহু অফিসার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী হচ্ছে না মর্মে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এসেছে। তাদের ভাষ্য, সুবিধাভোগীদের পাপের ফল আমরা কেন ভোগ করব। তার চেয়ে এখন নিরপেক্ষ থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পালাবদল হলে অন্ততঃ দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না।

বস্তুতঃ বহুমুখি দলীয় কোন্দলের জেরে ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে যাচ্ছে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.