বেনজিরের লাম্পট্যের উপাখ্যান-২

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বর্তমান সরকারের দশকপুর্তি কালে ক্ষমতাসীনদের যেমন হিসাব নিকাশ চলছে, তেমনি বিভিন্ন বাহিনীতে চলছে পালা বদলের প্রস্তুতি। বিশেষত দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা দশ বছরের পাঁজি খুলে বসেছেন। এক দশক ধরে কতিপয় কর্মকর্তার মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে পুলিশের মত একটি ঐতিহ্যবাহী বাহিনীকে জনগনের কাছে একটি ক্রিমিনাল বাহিনীতে পরিণত করেছে। স্বাধীনতার পরে রক্ষীবাহিনী যে কুখ্যাতি হিসাবে পরিচিতি পায়, সেদশা হয়েছে আজ পুলিশ র্যা বের। তাই অফিসাররা হিসাবপত্র নিয়ে হিসাবে বসেছেন। ক্ষমতা অপব্যবহারকারী, গুম খুনে জড়িত, আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমেজ্জিত, পুরোপুরি দলীয়করন হওয়া অফিসারদের আমলনামা জনগনের সামনে তুলে ধরে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে সরকার বদল হলে পুলিশ বাহিনীকে পতনদশা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

ক্ষমতার অপব্যবহারকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি বেনজির আহমেদ, যিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক পদে কর্মরত! আজ ২য় পর্ব-

পুলিশের সুত্র জানায়, গুম খুন ও বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড, সাজানো জঙ্গি অপারেশনে ওস্তাদ, দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত বেনজির আহমেদ নারী কেলেঙ্কারীতে সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন। বেশ ক`জন রক্ষিতা আছে তার। এ তালিকায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা, ছোট পর্দা ও বড় পর্দার নায়িকা, র‍্যাম্প মডেল এমনকি সুন্দরী ভাবীরাও আছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার থাকাকালে বেনজিরের চোখ পড়ে তার দু’ব্যাচ জুনিয়র এডিশনাল এসপি আনোয়ার কামালের সুন্দরী স্ত্রীর দিকে। এক পর্যায়ে তাকে কব্জা করে ভোগ করতে থাকেন বেনজির। প্রায়শই এডিশনাল এসপি আনোয়ারকে কাজে দূর্গম এরাকায় পাঠিয়ে দিয়ে তার স্ত্রীর সাথে মৌজমাস্তি করে বেড়াত এসপি বেনজির। ওই অবস্খায় একবার ধরা পরে, তখন এডিশনাল এসপি আনোয়ার রিভলভার নিয়ে বেনজিরকে মারতে উদ্যত হয়। বেনজির দৌড়ে প্রাণ বাঁচায়। এ ঘটনা পুলিশ বাহিনীতে ছি ছি করে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা বেনজির কায়দা করে এডিশনাল এসপি আনোয়ারের চাকরিজীবন দুর্বিসহ করে তোলে। তার পদোন্নতি আটকে দেয়া হয়, নানাবিধ উপায়ে বিভাগীয় মামলার ফাঁদে ফেলে। যেখানে আনোয়ার কামালের এতদিনে সিনিয়র ডিআইজি থাকার কথা, অথচ বেনজির সেটা সিস্টেম করে গতবছর পর্যন্ত তাকে এসপি র্যাং কে আটকে রাখে, শেষে গতবছর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়।

ডিএমপিতে থাকাকালে নিজ কন্যার বয়সী এক নবীন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাগিয়ে ফেলেন বেনজির। ৩০তম বিসিএস ব্যাচের পুলিশ অফিসার লাস্যময়ী সোনালী সেনের সাথে বেনজিরের এডাল্ট রিলেশন্স ছিল ওপেন সিক্রেট। এর বিনিময়ে সোনালীকে প্রাইভেট টিভি চ্যানেলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার সুযোগ তৈরি করে দেন। পরে এ নিয়ে বেনজিরের স্ত্রীর চিৎকার চেচামেচি ও উপর্যুপরি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোনালী সেনকে খুলনা মেট্রপলিটান পুলিশে বদলী করে আইজিপি। খুলনাতে পাঠানোর পরও বেনজিরের প্রেম কমেনি। এরি মাঝে বেনজির সুন্দরবন বেড়াতে যায়। সুন্দরবন যাবার সময় খুলনা থেকে সহকারী পুলিশ কমিশনার সোনালীকে সাথে নিয়ে যায়। তিন দিন তিন রাত একসাথে থাকে বেনজির ও সোনালী। এই সুন্দরবন অভিসার নিয়ে পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে তোলপাড় ওঠে- লিফলেট বের হয় অফিসারদের মাঝে। অন্যদিকে সুন্দরবনের কাহিনীর পরে সোনালীর পরিবারে মারাত্মক গোলমাল লাগে। সোনালীর স্বামী খুলনা শিশু হাসপাতালেল ডাক্তার। একপর্যায়ে ডিভোর্স দিতে চেষ্টা করেন, কিন্তু বেনজিরের হুমকিতে আর আগাতে পারেনি। শেষে সোনালীর স্বামী ড্রাগ ধরে, বর্তমানে সে ড্রাগ এডিক্ট।

১৯৯২ সনে বেনজির ডিএমপিতে এসি(ফোর্স) থাকাকালে ফোর্সের অবিলিকৃত সাত লক্ষ টাকা মেরে দেন। এতে বিভাগীয় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। তার শ্বশুর ৭৩ ব্যাচের জহুরুল ইসলাম, স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসএস এ এন হোসেনের কাছে বার বার ধর্না দিয়ে শেষে টাকা ফেরত দেন। তবে বেনজিরকে গুরুদন্ড দেয়া হয়, কয়েক বছরের জন্য প্রমোশন স্থগিত থাকে। বিএনপির গত আমলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেব বেনজিরকে এআইজি (ট্রেনিং) মত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান। সেখানে বেনজির ক্ষমতার অপব্যবহার ও উৎকোচের বিনিময়ে বিদেশ ট্রেনিংয়ের নাম ঢোকাতেন। একদা চাইনিজ এক ডেলিগেশন পুলিশ সদরে গেলে আইজি শহুদুল হককে পাশ কাটিয়ে তাদের সাথে আলাদাভাবে কথা বলেন বেনজির। এরপর আইজি বা মিনিষ্ট্রিকে না জানিয়ে গোপনে সে সরাসরি পত্র দেয় চাইনিজ এম্বেসিতে। চাইনিজ সরকার বাংলাদেশী পুলিশ অফিসারদের জন্য ট্রেনিং অফার করে পরে ট্রেইনিদের নাম চেয়ে পত্র দেয়। সেই চিঠি পেয়ে আইজি মন্ত্রী তো অবাক! মন্ত্রনালয়কে না জানিয়ে এম্বেসিতে সরাসরি চিঠি দেয়ার দায়ে আবার তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের ও সারদায় বদলী হয়। আবার গুরুদন্ড- দুই বছরের জন্য প্রমোশন স্থগিত। এর আগে নারায়নগঞ্জে এএসপি সার্কেল থাকাকালে ঘুষ ও অনিয়মের অপরাধে প্রসিডিং এবং গুরুদন্ড দেয়া হয়।

পরনারীতে আসক্ত দুর্নীতি লব্ধ অর্থ ব্যয় করে বেনজির নিজের মেয়েদের নিরাপদে রাখতে খুব চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বেড় মেয়ে রিশতাকে পাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সটিতে। নিউ ইয়র্ক শহরের লং আইল্যান্ড সিটিতে ৬ মিলিয়ন ডলারে বাড়ি কিনে মেয়েকে রেখেছেন। হাই-ফাই ফেরারি গাড়ি চালিয়ে উদ্যাম জীবন যাপন করে রিশতা। (গাড়ি বাড়ির নম্বর ঠিকানা সংরক্ষিত আছে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.