সরকার-বিরোধী হাওয়া ঘোরাতে হঠাৎ অন্তর্ঘাত হামলা ঘটাতে পারে ক্ষমতাসীনরা!

।।বিশেষ প্রতিবেদক।।

ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে শেখ হাসিনার সরকারের সামনে গভীর অন্ধকার। যতই চেষ্টা করছে না কেনো, চারিদিক থেকে ধেয়ে আসছে বিপদ। বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে শুরু করে চীন সকলেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র চায়- চায় অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন। আর তেমন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু বিরোধী দলে পরিণত হবে, প্রকাশ করেছে ভারতয়ি কূটনীতিকরা। যদিও আসন্ন সাধারন নির্বাচনের ফলাফল কেটেকুটে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহন করেছে বর্তমান সরকার, তদুপরি তারা নিশ্চিত হতে পারছে না শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হবে কি না।

অন্যদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে দেশের সকল বিরোধীদল একজোট হয়ে মাঠে নামা এখন সময়ে ব্যাপার মাত্র। সেক্ষেত্রে সরকারের পতনও ঘটবে, সুষ্ঠু নির্বাচনও হবে। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ভরসা ভারতও আর ২০১৪ সালের মত এগিয়ে আসছে না। ফলে এ অবস্থা চলতে থাকলে আ’লীগের ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতায় ফেরত আসা তো দূরের কথা, দলের অস্তিত্ব থাকবে কি না সন্দেহ। সরকারের প্রভাবশালীরা ভয়ে আতঙ্কে নিজেরাই বলে যাচ্ছেন- ক্ষমতা হারালে ৫ লাখ আ’লীগ কর্মীর লাশ পড়বে! কেউ আবার টাকা পয়সা নিয়ে পালানোর জন্য তৈরি থাকতে বলছেন।

এমতাবস্থায়, সরকার-বিরোধী হাওয়ার দিক ঘোরাতে আ’লীগ সরকার দেশ জুড়ে অস্থিরতা ও জরুরী অবস্থা সৃষ্টি করতে তাদের পুরোনো পথে হাটতে পারে- ঘটাতে পারে ভয়াবহ অন্তর্ঘাত হামলা।  সাজানো এক বা একাধিক জঙ্গি হামলা হতে পারে কোনো শপিং মল বা ক্রাউডেড প্লেসে। এতে নিহত হতে পারে শত শত মানুষ। এরকম ভয়াবহ হামলা হলে দেশের চলমান সরকার বিরোধী মনোভাব থেকে মানুষের দৃষ্টি সহজেই ঘুরিয়ে দিতে পারবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। সেই সাথে হামলার ইস্যু ব্যবহার করে বিরোধীদের ব্যাপক হারে ধরপাকড় ও ভীতি সঞ্চারও করা যাবে। এহেন অবস্খায় অন্তর্ঘাত হামলা ঠেকাতে জনসাধারনের সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

তাছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রাকডাউন শুরু করতে পারে সরকার। বিরোধী দলের জনপ্রিয় নেতা ও প্রার্থীকে হত্যা করতে পারে  বিরোধী দলের নেতাকর্মী পাইকারী হারে ধরপাকড় করে জনসাধারনকে ভয়ভীতি ও ত্রাসের মধ্যে রেখে নির্বাচন কব্জা করার চেষ্টা করতে পারে। এসব ব্যবস্থাদি গ্রহন করেও সরকার যদি অবস্থা অনুকূলে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে অন্তর্ঘাত ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্লা অবনতির অযুহাত দেখিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারে। জরুরী অবস্থা জারী করে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরাপদ প্রস্থানের কথাও ভাবছে সরকার।

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.