খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে সংবিধান লংঘন করে কারাগারে বসানো হয়েছে আদালত!

শেখ হাসিনার বিনা ভোটের অবৈধ সরকার একটি গেজেট জারী করে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলায় উদ্দেশ্যমুলক রায় ঘোষণা করতে পরিত্যক্ত কারাগারের ভিতরে একটি অবৈধ আদালত স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছে! একটি ক্যামেরা ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু সংবিধানে এ ধরনের মামলায় ক্যামেরা ট্রায়ালের কোন সুযোগ নেই। এটা সংবিধানের ৩৫(৩) ও ২৭ অনুচ্ছেদের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাছাড়া এটা বর্তমান সরকারেরই পাশ করা পঞ্চদশ সংশোধনীর ৭(ক) অনুচ্ছেদ মতে সংবিধান লংঘনজনিত রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধ। যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

এই গেজেট সংবিধানের ৩৫(৩) ও ২৭ অনুচ্ছেদের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ন।

বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।”

৩৫(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: “ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হইবেন।”

অথচ সরকারের এই পদক্ষেপের দ্বারা খালেদা জিয়াকে আলাদা করে ফেলা হচ্ছে। একটি মামলায় তাঁর ট্রায়াল করার জন্য কারাগারের ভিতরে সংরক্ষিত আদালত সৃষ্টি, যেখানে সাধারন নাগরিকদের প্রবেশাধিকার নেই, তালিকাভুক্তরা ছাড়া অন্য কেউ যেতে পারবে না, এরূপ ব্যবস্থা তাঁর প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। শুধুমাত্র একজন মানুষের জন্য ভিন্ন আইন, ভিন্ন বিচার পদ্ধতি!! এর দ্বারা খালেদা জিয়াকে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে।

ফলে খালেদা জিয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত বসাতে যে গেজেট জারী করা হয়েছে, তা সংবিধানের ২৭ এবং ৩৫(৩) অনুচ্ছেদের পরিস্কার লংঘন।

সরকারের এ গেজেট অসাংবিধানিক, বৈষম্যমুলক এবং ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। বাংলাদেশ সংবিধানে এ ধরনের ফৌজদারী মামলায় ক্যামেরা ট্রায়ালের কোন বিধান নেই, তাই এই গেজেট অবৈধ।

সংবিধানের ২৬। (১) বলা হয়েছে, “এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসমঞ্জস সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।
(২) রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।”

তাই এই আলোচ্য গেজেট পরিস্কার অবৈধ ও বাতিলযোগ্য।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ডক্টর তুহিন মালিক বলেন- সরকার যদি তার এহেন সংবিধান পরিপন্থী কাজ বন্ধ না করে, তাহলে সেটা তাদেরই পঞ্চদশ সংশোধনীতে পাশ করা ৭(ক) অনুচ্ছেদ মতে সংবিধান লংঘনজনিত রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধ বলে বিবেচ্য হবে। আর সংবিধানের ৭ক(৩) অনুচ্ছেদ মতে, যার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.