আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন, ডাক আসা মাত্র ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে -লন্ডনের সমাবেশে তারেক রহমান


।। বিশেষ সংবাদদাতা।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে আন্দোলনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহনের জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেছেন- আপনারা স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিন। ডাক দেয়ার সময় চলে আসছে। ডাকের জন্য অপেক্ষা করুন। ডাক আসামাত্র বাংলাদেশের সাধারন মানুষকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। ইনশাআল্লাহ সময়মত ডাক আসবে। সেই ডাক আসা পর্যন্ত স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রস্তুতি গ্রহন করুন। কোন কিছুতে বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের লক্ষ্য আন্দোলনের মাধ্যমে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এখন মুলমন্ত্র হবে- ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি এগিয়ে যাও তবে তুমি বাংলাদেশ’। বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই আহবান জানান। সোমবার পূর্ব লন্ডনের হাইস্ট্রীট নর্থ এর দ্যা রয়্যাল রিজেন্সী হোটেলে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের ভীতি, প্ররোচণা কিংবা কোনো প্রকারের ফাঁদে পা না দিতে নেতা-কর্মীসহ সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মনে রাখবেন বাংলাদেশের মানুষের ঐক্য ভাঙ্গার জন্য এই অবৈধ সরকার, দুষ্কৃতিকারী সরকার সকল রকমের চেষ্টা করবে। তারা খুন-গুম, নিখোঁজ করার মাধ্যমে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে। তারা অর্থ ঘুষ দিয়ে চেষ্টা করবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তারা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার জোর করে খবর ছাপানোর মাধ্যমে বিভ্রান্তির চেষ্টা করবে। কাজেই সব কিছু সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে, কোন কিছুতেই বিভ্রান্ত হলে চলবে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে অবৈধ, অগণতান্ত্রিক এবং লুটেরা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে নতুবা সন্ত্রাসী সরকার দেশের মাটি পর্যন্ত খুলে নিয়ে বিক্রি করে দিবে। জনগণের দেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, অনেক হয়েছে, আজ এখানেই এদেরকে রুখে দিতে হবে। জনগণের দেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব। আর এজন্য দরকার ঐক্য। সে ঐক্য হলো সমাজের সকল স্তরের মানুষের ঐক্য।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি। আর তা হলো আগামীতে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের সরকার, যেই সরকার বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা সঠিকভাবে নির্বাচিত হবে, জনগণের মাধ্যমে গঠিত হবে- সে সরকার হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নীতিমালায় প্রতিষ্ঠিত। এজন্য স্ব স্ব অবস্থান থেকে ডাক আসা পর্যন্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করুণ। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া শিশু-কিশোরদের সাম্প্রতিক সড়ক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা শুধু নিরাপদ সড়ক চাইনা, নিরাপদ সড়ক তো থাকবেই, তবে আমরা সবাই চাই নিরাপদ বাংলাদেশ। তিনি বলেন বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সকল দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীরা আছেন, দরীয নেতাকর্মীরা আছেন, প্রতিটি পেশার মানুষদের বলবো, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গৃহবধু, তরুণী-তরুণ, ছাত্র-ছাত্রী সবাইকে বলবো- দেশ বাঁচাতে সবাই এগিয়ে আসুন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা বিএনপির রাজনীতি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করেন তারা আজ এমন অবস্থায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছেন যখন আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। যাকে দেখে কোটি কোটি মানুষ এসে বিএনপিতে ভীড়েছে, তিনি আজ কাছে নেই, জুলুমের কারাগারে বন্দী। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে মন শক্ত রাখতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকার নয়াপল্টন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, লাখো মানুষের এই সমাবেশ একটি বার্তা দিয়ে গেছে বিএনপির কাছে। তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে গেছে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে দেশের অন্যান্য সংগঠনগুলোকে এক কাতারে আসার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির পাশপাশি আরো কিছু দল জাতীয় ঐক্যর ডাক দিয়েছেন। যারা এ ঐক্যের ডাক দিয়েছেন দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের অনেক রকমের অবদান রয়েছে। দেশ আজ অপশাসনের কবলে পড়েছে। বিএনপির লাখো লাখো নেতা-কর্মী এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে গণতন্ত্র রক্ষার যে আন্দোলন তিনি শুরু করেছেন তাকে বেগবান করতে। তাদের সহযোগিতা করার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহবান জানচ্ছি।

জাতির জন্য এক বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জন্য প্রয়োজন বৃহত্তর এক ঐক্যের। এটা শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়। ন্যায় এবং সাম্যের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। দেশে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের আদালত নয় বরং আওয়ামী লীগের আদালতে পরিণত হয়েছে। কোর্টের রায়ের আগেই সরকারী দলের নেতারা রায় বলে দিচ্ছে। প্রধান বিচারপতিকে ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে এই সরকার। কিছু অপ্রিয় কথা বলার কারণেই তাকে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি এখন আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন। লুটেরা সরকার রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ, ব্যাংকের টাকা, পাথর, সোনা ডাকাতি করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশ এভাবে চলতে পারে না। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে আমি একটি বৃহৎ ঐক্যের আহবান জানাবো। বাংলাদেশের প্রতিটি পেশার মানুষ, ছাত্র, গৃহবৃধু, চিকিৎসক, শ্রমিকসহ সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন এ অবৈধ দখলদার লুটেরা সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা গায়েব হয়েছে, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে এটা হয়েছে। এ টাকা জনগণের টাকা। দুঃখের বিষয় সেই টাকা দিয়ে বিদেশের মাটিতে জুয়া খেলা হচ্ছে! সরকারের কাছের লোক বেসিক ব্যাংকের টাকা লুট করেছে। বিএনপির সময় কি এরকম খবর আপনারা কেউ পত্রিকায় দেখেছেন? এরা শুধু টাকা নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনা তামা হয়ে গেছে। এ সরকার দেশটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। কয়লা, পাথর গায়েব হয়ে যাচ্ছে, কদিন পর মাটি খুলে বিক্রি করে দিবে। সীমান্তের ফেলানি হত্যাকান্ডের মতো দৃশ্য বিএনপির শাসনামলে দেখা যায়নি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ অবৈধ সরকারের সময় ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম এবং দিনারের মতো নেতাদের গুম করা হয়েছে। বিএনপির আরেক নেতা সালাহউদ্দিনকে ভারতের সীমান্তে ফেলা আসা হয়েছে। আওয়ামী লীগের এ পর্যায়ের কোনো নেতাকে কি বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে গুম করেছে? না করেনি। এই হচ্ছে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য।

জনগণ যেন ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে সে জন্য খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে সরকার মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, আজকে আমাদের প্রিয় নেত্রী, কোটি মানুষের জনপ্রিয় নেত্রীকে জোর করে জেলে আটকে রেখেছে সরকার। তিনি জনগণের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন, ভোটের অধিকার, আর জবাবদিহিতার সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। মানুষ যাতে খালেদা জিয়ার পেছনে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, সে জন্য তাঁকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এ কথা বলার সময় উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী- “মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই”, “জেলের তালা ভাঙেবাে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো” শ্লোগানে সভাস্থল প্রকম্পিত করে তোলে। সরকারের দমন-নিপীড়নের কড়া সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, এ অবৈধ সরকার শুধুু খালেদা জিয়াকে বন্দি করে ক্ষান্ত হয়নি, বিএনপির হাজারাে নেতা-কর্মী আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আজ আমাদের মাঝে শহীদ জিয়া নেই কিন্তু তাঁর আদর্শের লক্ষ-লক্ষ সৈনিক আছে। খালেদা জিয়া বন্দি থাকলেও তাঁর নির্দেশনা আমাদের সঙ্গে আছে। তাঁর লক্ষ-কোটি সৈনিক দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। তারা বার বার খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে দেশের দায়িত্ব দিয়েছে।

বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে নয় বরং যে মানুষটিই অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে হয় তাকে গুম-খুন, না হয় জেলে পোরা হয়েছে। কদিন আগে শহীদুল আলম নামের এক ফটো সাংবাদিককে কিভাবে আটক করেছে সরকার তা সবাই দেখেছেন। সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হবার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজ যেন সাংবাদিকদের হাত বাঁধা। এত নির্যাতন সহ্য করে বিএনপি হাজারো নেতা-কর্মী যদি মানুষের জন্য লড়তে পারে, আপনারা কেন পারবেন না? আজ যদি আপনারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে না দাঁড়ান, তাহলে কাল তা পারবেন না। এসরকার আপনাদের কলমও কেড়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, কিভাবে একটা দেশকে ধ্বংস করতে তা আওয়ামী লীগ জানে। আর তা রংহেডেড হাসিনার কাছ থেকে শিখতে হবে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, দেশ স্বাধীন হবার পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নির্বাচন ছিলো বিতর্কিত। বিনাভোটের এই দখলদার লুটেরা সরকারের হাত থেকে জাতি আজ মুক্তি চায়।

https://www.facebook.com/tareq.zia/videos/1897554643658726/
Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.