ছাত্রদলে আওয়ামী অনুপ্রবেশকারী :  নজরদারিতে কতিপয় ছাত্রনেতা!

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু নেতাকে দলের বিশেষ নজরদারিতে আনা হয়েছে। আওয়ামী অনুপ্রবেশকারী বা অবৈধ হাসিনা  সরকারের এজেন্ট হিসাবে তারা কাজ করছে কিনা সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে তাদের ভুমিকা এবং আগামীতে তাদের কর্মকান্ডের অপর ভিত্তি করে দল থেকে পুরস্কার, তিরস্কার কিংবা বহিস্কার আদেশ আসতে পারে।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের চারপাশের গন্ডি যত ছোট হয়ে আসছে ততই অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত নানা কুটকৌশল ও চক্রান্তের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। চাইছে বিএনপির মধ্যে ভাঙ্গন বা অস্থিরতা তৈরী করে বিএনপিকে দুর্বল করতে। প্রাথমিকভাবে বেছে নিয়েছে বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে।  বিশেষকরে করে গত ১ সেপ্টেম্বর কোন রকম পুর্বপ্রস্তুতি বা প্রচারণা ছাড়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বা দেশনায়ক তারেক রহমানের বিনা অনুপস্থিতিতে পল্টনের জনসমাবেশ যে জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছে তাতেই হাসিনা সরকারের হৃদপিন্ডের রক্ত হীম হয়ে গিয়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে মরিয়া হয়ে উঠছে আওয়ামীলীগ ও তাদের দোসররা। এরই ধারাবাহিকতায় পল্টনের জনসভায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারির বক্তব্যের সময় কতিপয় ছাত্রদল নেতার মঞ্চে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, পরদিন পার্টি অফিসে রিজভী আহমেদের রুমে হট্টগোল এবং আল্টিমেটাম দেয়া- এসব সরকারের মদদে হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নুতন করে অভি-নীরু সৃষ্টি হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিশেষ নজরদারিতে যে সকল নাম এসেছে, তাদের অন্যতম হচ্ছেন ছাত্রদলের সহ সভাপতি নাজমুল হাসান, আব্দুল ওহাব, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, নুরুল হুদা বাবু, আবুল হাসান, শামছুল আলম রানা, সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিম, আজিজুল হক পাটুয়ারী, ক্রীড়া সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ, সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. শামীম ইকবাল খান, সদস্য মোমিনুর রহমান মালিতা প্রমুখ।

বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনেকের মতে রাজনীতির বাস্তবতা ও পরিস্থিতি না বুঝে ছাত্রদলের যে সকল ছাত্রনেতা প্রকাশ্যে আল্টিমেটাম দিতে পারে, তারা আর যাই হোক দলের শুভাকাঙ্খি নয়। তারা নিজ স্বার্থে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে। তারা বিএনপির নয়, শেখ হাসিনার এজেন্ডা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। এরূপ উপদান পাওয়া গেলে প্রয়োজনে এখনি তাদেরকে দল থেকে বহিস্কার করে আগামী আন্দোলন সংগ্রামের জন্য দলের ঐক্য অটুট রাখা প্রয়োজন।

আবার অন্য অনেক নেতার মতে, ছাত্রদলের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী নেতাদের আরেকটু সময় দেয়া উচিত। কারন তারাও আমাদেরই সন্তান। তারা অবশ্যই নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ভুল বুঝতে পারবে এবং পার্টি অফিসে বেয়াদবির জন্য অনুতপ্ত হবে। আর যদি তা না করে যদি নিজেদেরকে তারা সকল কিছুর উর্ধে মনে করে, তাহলে বুঝতে হবে অবশ্যই তাদের পেছনে অন্য কোনো অপশক্তি রয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুততার সাথে তাদেরকে হাসিনার পেইড এজেন্ট হিসাবে বিবেচনায় এনে দল থেকে বহিস্কার করা উচিত।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, খুবই গুরুত্বের সাথে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি বিচার বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে- অতীতে এসকল ছাত্রনেতা কে কতটি মামলা খেয়েছে, কে কতবার জেলে গিয়েছে এবং দলের প্রয়োজনে কে কতটুকু কি ভুমিকা পালন করেছে। তার আলোকে আল্টিমেটামকারীদের ভুমিকা এবং তাদের পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে, এ সবকিছু বিবেচনায় এনে দল দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে, এবং সে পদক্ষেপ দৃষ্টান্তমূলক হবে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.