আমার বাবা একজন পুলিশ অফিসার : মানুষের ইজ্জত এবং সম্পদের পাহারাদার!

দিনভর আন্দোলনরত একটি ছাত্রীকে পিছন থেকে তার ওড়না দিয়ে চোখ-মুখ বেধে উঠিয়ে নিয়ে যায় একটি মুখোশ পরা হায়েনা। গন্ধটা চেনা চেনা লাগলেও মুখে কাপড় পেঁচানো থাকায় কোন কথা বলতে পারছিলোনা রুহী। অবশেষে সে নিজেকে আবিস্কার করলো একটি পুলিশ ভ্যানে। আরো কয়েকজন ছাত্রী হাত-পাঁ বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে গাড়ির মেঝেতে।

গাড়িটা চলতে শুরু করলো।

মাথায় হেলমেট পড়া কয়েকটা পুলিশ আর মুখে কাপড় পরা কয়েকটা ছেলে তাদের দেহ নিয়ে খেলা করছে। রুহীর বাবাও একজন পুলিশ, এই মূহুর্তে বাবাকে খুব মনে পড়ছে তার। বাবা কাছে থাকলে হয়তো এই জানোয়ারগুলা এমন করার সাহস পেতনা। রুহীর ভাই এলাকার ছাত্রলীগের সভাপতি। এই সময় তার ভাইকে ভীষণ প্রয়োজন রুহীর। এর আগে অনেকবার ধর্ষকদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে তাকে। রুহীর চোখ বেয়ে অশ্রুর বন্যা বইতে লাগলো। এটাই কি তাহলে ছাত্রী জীবনের শেষ পরিণতি।

হঠাৎ একটা চেনা কণ্ঠে রুহী চমকে উঠলো।

ঐ মাগীরা..! আন্দোলন করস, আন্দোলন আজ তোদের…..মধ্যে হান্দাই দিমু। আজ আমরাই তোগোর লগে আন্দোলন করুম…..। কণ্ঠটা চির-চেনা রুহীর। নাহ, পশুটা অন্য কেউ নয়, তার সেই বড় ভাই- যে কি না শতবার তার ইজ্জত বাঁচিয়েছে। বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে টুকরো হওয়ার অবস্থা রুহীর। শুধু মুখে কাপড় গুজা থাকায় চিৎকার করতে পারছিলোনা সে।

গাড়ির চাকা থেমে গেলো-

রুহীকে কাঁধে উঠিয়ে নিলো হেলমেট পরা এক পুলিশ জানোয়ার। জানোয়ার গুলোর সে কি… হাসি আর উল্লাস। কিন্তু পুলিশটার হাতের স্পর্শ পরিচিত মনে হলো রুহীর।তৎক্ষণাৎ একটি ভাঙ্গা দালানের মেঝেতে নিজেকে দেখতে পেলো সে। তার দিকে তেড়ে আসছে চেনা কণ্ঠের মুখোশ পড়া সেই ছেলেটা। কিন্তু নাহ, শুধু কণ্ঠটাই চেনা নয়। ছেলেটাও তার চেনা। সে তার বড় ভাই রিমন! ঘৃণায় আর দুঃখে মরে যেতে ইচ্ছে করছে রুহীর।

ততক্ষণে মুখের কাপড় খুলে ফেলেছে সে।

ছেলেটা কাছে আসতেই গগণফাটা চিৎকার দিয়েরুহী বলতে লাগলো ভাইয়া..! আমি রুহী। বলেই ডুকরে ডুকরে কান্না শুরু করলো।সাথে সাথেই থমকে দাড়ালো পৃথিবী। রুহীর দিকে তাকাতেই মাথা থেকে হেলমেট খুলে ফেললো পুলিশ অফিসার।মুখ থেকে কাপড় সরালো ছেলেটা।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় বাবা ছেলের দিকে চেয়ে আছে ছেলে বাবার দিকে। বাবা তুমি..?  রিমন তুই..? এমন বিব্রতকর অবস্থায় তাদের মাথায় যেন আসমান ভেঙ্গে পড়লো।  মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো মেঝেতে। ছিঃ তারা কিনা নিজের মেয়ে আর বোনকে ধর্ষণ করতেই এখানে উন্মাদের মতো ছুটে এসেছে। তারা কি করবে ভেবে না পেয়ে দুজনে রুহীর পায়ে পরে গেলো।

মা, আমরা অনেক বড় ভুল করেছি,  এতো বড় পাপ মনে হয় পৃথিবীর বুকে আমরাই প্রথম করলাম। তুই আমাদের ক্ষমা করে দে।  রুহী চিৎকার করে পিছনে সরে গেলো। খবরদার..! খবরদার..! তোমরা আমাকে স্পর্শ করবেনা। তোমরা আমার কেউনা। কোন জানোয়ার আমার বাবা হতে পারেনা। আমার বাবা একজন পুলিশ অফিসার, মানুষের ইজ্জত এবং সম্পদের পাহাড়াদার।

তোমার মতো জানোয়ার পুলিশ আমার বাবা না

আজ আমার জায়গায় যদি অন্যকেউ হতো নিশ্চয় তোমরা তাকে ছেড়ে দিতেনা। কিন্তু সেই মেয়েটাও তো কোন না কোন বাবা-মায়ের সন্তান।ভাইয়া..! জানো তোমাকে নিয়ে আমি কত্ত গর্ব করতাম। কিন্তু আমার বান্ধবীরা বলতো ছাত্রলীগ মানেই পশু, ছাত্রলীগ মানেই জানোয়ার। আমি ওদের কথার প্রতিবাদ করতাম। আজ নিজ চোখে দেখলাম তোমরা জানোয়ারের চেয়ে অধম। এসো, তোমাদের লালসা মেটাও। অপরাধী প্রতিটি পুলিশ ও ছাত্রলীগ অপরাধ করছে নিজ পরিবারের সাথে। ধর্ষন করছে নিজের সন্তান, বোনকে। প্রমানকর তোমরা আর কত নিচে নামতে পারো ওদের জন্য।

 

(সংগৃহীত : এক পুলিশ অফিসারের সন্তানের লেখা )

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.