১৫০ সিট চায় মাহী, ২০ দলের শরীকরাও চায় ১৫০ সিট! বিএনপির আর নির্বাচন করার দরকার আছে কি?

বি চৌধুরীর বেটা মাহী যখন গত সপ্তাহে বিএনপির কাছে চাইল ১৫০ সিট, এটা নিয়ে চরম সমালোচনা হৈ চৈ চলছিল অনলাইনে। লিখতে চেয়েও সংযত ছিলাম। অপেক্ষা করলাম জোট কি বলে দেখি। আজকে জোট থেকেও ১৫০ সিট চাওয়ার সংবাদ! বেশ! এইবার লেখা যায়।

সেদিনকার দেড়’শর পরে আজকে দেড়’শ চাওয়ার পরে বিএনপি মহাসচিবের কাজ এখন সহজ হয়ে গেলো! তাইলে ১৫০ দিয়ে দেন ঐকজোটকে, ১৫০ দেন ২০ জোটের শরীককে। সেক্ষেত্রে বিএনপির আর নির্বাচন কো লাগবে না! হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাক, উনারা ইলেকশন করে জিতে আসুন! সরকার গঠন করুক!

হায়রে মাহী। তোমাকে তো বাপু নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি ভাবছিলো সবাই, এখন দেখা যাচ্ছে তুমিও চিকনা বুদ্ধিতে কম যাও না। তুমি বিএনপিকে মাইনরিটি বানাইতে চেষ্টা করতেছ! কিন্তু কেনো? তোমার বাপকে প্রেসিডেন্ট থেকে বাদ দিছিলো বিএনপি, তাই বিএনপির কাছে যেনো আর ক্ষমতা না থাকে। এই তো? বেশ! তাইলে একটা কাজ করো ১৫০ সিট দরকার নাই, বিএনপির সাহায্য ছাড়া বাপ বেপা দুইজনে মাত্র দুইটা সিট জিতে আসো দেখি। নৌকা ধানেরশীষ, কুলা তিন প্রতীকের ভোট হবে। কত পারো। যদি জিততে পারো- তোমার বাপরে প্রেসিডেন্ট, আর তোমারে প্রধানমন্ত্রী বানানো যাবে!

শোনো, এটা জাতীয় নির্বাচন। মেডিকেল হাসপাতালে রোগী দেখা না, বা শোবিজ জগতের মেয়েদের নিয়ে নাচানাচিও না। নির্বাচন ক্ষমতা সাংঘাতিক সিরিয়াস বিষয়। যদি মনে করো দেশে গণতন্ত্র দরকার, ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশ বাঁচাইতে হবে, অবৈধ দখলদার সরকার হাসিনাকে বিদায় করতে হবে – তবে এইসব দেড়শ/দু’শ সিটের বাহানা বাদ দিয়ে খোলা মন নিয়ে সামনে আগায়া আসো। নইলে তোমাদের সামনে তো পুরানা রাস্তা খোলা আছেই- কিস্তিতে উঠে পড়তে পারবা- সমস্যা নাই। দেশ গোল্লারে যাক, জাহান্নামে যাক, নিজেরা কিছু পাইবা তো! মনে করিও না, খালেদা জিয়া জেলে, তাই চামচিকার মত হাতিকে ঝামটা দেয়ার চিন্তা করিও না। মনে রাখিও, নির্বাচন এবং রাজপথ দখল দুটাই বিএনপি কর্মীরা করবে। তোমাদের কার কি সামর্থ আছে, কার পিছে কয়জন আছে, সে হিসাব মোটামুটি জানা।

২০ দলের শরীক জোট ভাইরা। দীর্ঘদিন ধরে জোটে আছেন, তো থাকেন। ইলেকশন হবে কি হবেনা ঠিক নাই! বিএনপি অংশ নিবে কি না, এখনও শিওর না। তারপরও আপনার ১৫০ সিট চাইয়া গন্ধ করে ফেলছেন চারদিক! এভাবে করলে হবে? নাকি রিজনেবল সংখ্যায় সিট দাবী করবেন? ১৫০ সিটে আপনারা কি প্রার্থী দিতে পারবেন? নাকি জামানত ফেরত আনতে পারবেন? খামাখা হুজুগে লাফান কেনো? যে কয়টায় জিততে পারবেন, সম্ভাবনা থাকবে, সে কয়টার জন্য চেষ্টা করুন। বেশি লোভ করা ভালো নয়।

আরও কথা আছে। ৩০০ সিটের সংসদ নির্বাচনই শেষ কথা নয়। আগে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করতে হবে। দেশের জঞ্জাল সাফ করতে হবে। তারপরে সংসদের আরেকটা উচ্চ কক্ষ (সিনেট) বানানোর কথা, যাতে ১০০ জনকে একমোডেট করা যাবে। সংসদের ৩০০ আসনকে ৫০০ করা হতেও পারে। আপনাদের যারা ভোটে আসতে পারেন না, তাদের জন্য সেখানেও যায়গা হতে পারে। তাই এখনি অধৈয্য না হয়ে সবার আগে সংসদ নির্বাচন কেমন করে টু-থার্ড মেজরিট পাওয়া যায়, সে চেষ্টা ফিকির করুন। নইলে দেড়শ- দেড়শ যতই তিন’শ গুনে রাতকে সকাল করেন না কেনো- ক্ষমতা কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।

/ফেসবুক

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.