লুটেরাদের পালানোর আয়োজন: ভোট-ডাকাত, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ধর্ষক ও হাতুড়িঅলাদের ভিসা প্রত্যাখান করছে দূতাবাসগুলো: কালো তালিকায় ১৩৫!

অবৈধ সরকারের শেষ সময়ে সরকারের সুবিধাভোগি লুটেরা সন্ত্রাসীরা বিদেশে পালানোর চেষ্টায় ত্রস্ত হয়ে উঠেছে। সেগুনবাগিচার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কনস্যুলার শাখা খুব ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ইস্যু করছে শত শত নোটভারবাল- ভিসা দাও।
 
পরিস্থিতি বুঝে ঢাকাস্থ দূতাবাসগুলোও কঠোর হয়ে উঠেছে। ঢাকার প্রায় ৩৭টি দূতাবাসে শত শত নোট ভারবালের চাপ সামলাতে দিয়ে সেগুণবাগিচাকে জানিয়ে দিয়েছে, এভাবে পাইকারী হারে ভিসা ইস্যু করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতির বিষদ ব্যাখ্যা দিয়ে দূতবাসগুলো জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী খুনি, ধর্ষকদের নিয়ে তারা চিন্তিত, এদেরেকে তাদের দেশে ঢুকতে দিলে সেখানেও এরা নৈরাজ্য চালাতে পারে। তাই ভিসা প্রদান আপতত বন্ধ।
 
এছাড়া বিগত দিনের নির্বাচনী সন্ত্রাসে জড়িতদেরও একটি বিশেষ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দূতাবাসগুলো নিজস্ব উদ্যোগেই পত্রপত্রিকা এবং সামাজিক মাধ্যম ঘেটে সন্ত্রাসীদের তালিকা বানাচ্ছে, তাদের বিস্তারিত তথ্য ও ছবি সহ সনাক্ত করছে। কয়েকটি দূতাবাস কালো তালিকা বিনিময়ও করছে।
 
ভিসা কড়াকড়িতে সবচেয়ে কঠোর ভূমিকায় মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্ণিকাটের সঙ্গেও চলছে সরকারের টানাপোড়েন। খুলনা-গাজিপুরের সিটি নির্বাচন নিয়ে শুরু হয় বিরোধ। আ’লীগের ভোট ডাকাতি ও কারচুপির তীব্র প্রতিবাদ জানান বার্ণিকাট। জাল ভোট ও শক্তি প্রয়োগের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগে প্রবল আপত্তি তোলেন। বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ভয়াবহতা তুলে ধরেন মিডিয়ায়। জবাবে সরকার পক্ষও মরিয়া হয়ে ওঠেন। বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রীরা, এমনকি দলের ছোট বড় নেতারাও বার্নিক্যটকে তুলোধোনা করে ছেড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন প্রবাসীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও তীর্যক বিবৃতি দিয়ে বলেন, মার্কিন দূতাবাস বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য থেকে পরিস্কার- টানাপোড়েন বাড়ছে।
 
সাম্প্রতিক কোটা-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকারও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নির্মম অত্যাচার, ছাত্রীদের ওপর শ্লীলতাহানি, পুলিশের গুম ও রিমান্ডকে চরমভাবে প্রতিবাদ করছে ঢাকাস্থ পশ্চিমা দেশের দূতাবাসগুলো। এক এক করে জার্মিানী, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড বিবৃতি দিয়ে সরকারের ভূমিকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। স্পষ্টতই পশ্চিমারা এ বিষয়ে একটি ঐক্যমত অবস্থান নিয়েছে, যা সরকারের ভেতরে প্রচন্ড অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। সামনে নির্বাচন এমন সময়ে বিদেশীদের এহেন কর্মকান্ডকে সরকার অশনি সংকেত হিসাবে দেখছে।
 
Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.