বিএনপি নিয়ে সরকারের ষড়যন্ত্র : দলীয় গঠনতন্ত্র এবং আরপিও নিয়ে সংঘবদ্ধ অপপ্রচারে সরকার!

বিশেষ রিপোর্ট :
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনাকে ঘিরে সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। মঈন-ফখরুদ্দীন যে কায়দায় বিএনপিকে নাস্তানাবুদ করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলো একই কায়দায় এখন আবার বিছানো হচ্ছে ষড়যন্ত্রের জাল। বিএনপির বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হবে। এরই অংশ হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশ এরইমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, একটি গোয়েন্দা সংস্থা গণমাধ্যমে বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংক্রান্ত কিছু উদ্দেশ্যপূর্ণ রিপোর্ট করানোর জন্য মাঠে নেমেছে।

জানা গেছে, পরিকল্পনায় রয়েছে আইনের বেড়াজাল তৈরী করে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা এবং একই সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের ‘শীষ প্রতীক’ যাতে বিএনপি ব্যবহার করতে না পারে সেই পরিবেশ তৈরী করা। সূত্রমতে, এসব ষড়যন্ত্রের সুদূরপ্রসারী অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মামলা বছরের পর বছর ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় থাকলেও বিশেষ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্যই খালেদা জিয়ার মামলা নির্বাচনের আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সময় নিষ্পত্তি করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। একইভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় রায় দেয়া হয়েছে। এসব মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তবে দেশের জনগণ যেহেতু জানে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত সেহেতু জনগণকে ধোকা দিতে গণমাধ্যমে কিছু উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্ট করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। জানা যায়, বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে দলীয় গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মত প্রস্তাবে বিলুপ্ত ৭ নম্বার ধারার ‌অনুরূপ একটি ধারা শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে গনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ -আরপিও তে সংযোজন করার অপচেস্টা চলছে। এরপর ওই ধারার দোহাই দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরাতে চায়।

উল্লেখ্য, দলীয় গঠনতন্ত্রে কিছু সংযোজন-বিযোজন করে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে দলের সর্বশেষ গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করা হয়। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্যে তরিকুল ইসলামে নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। তখনই এইসব পরিবর্তন আনা হয়। এরপর সংশোধিত ওই গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করে ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারী নিয়মানুযায়ী নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়। বিএনপির চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর এর ‘ঘ’ ধারা বাদ দেয়া হয়। ৭ নম্বর এর ‘ঘ’ ধারায় বলা ছিল ‘সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি’ বিএনপির কোনো পর্যায়ের কমিটির সদস্য কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। .

বিএনপির কাউন্সিলররা মনে করেন, দলীয় গঠনতন্ত্রে এই ধারাটি বহাল থাকলে মঈন-ফখরুদ্দিন কিংবা শেখ হাসিনার মতো স্বৈরশাসকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো আইন আদালতকে ব্যবহার করে দলীয় গঠনতন্ত্রের ওই ধারার অপব্যবহার করে বিএনপি নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য এমনকি দলীয় পদ গ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে। এমনকি আইন আদালতকে ব্যবহার করে, গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূকলক ও সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালিয়ে বিরোধী দল ভাঙার সুযোগ নিতে পারে।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এ পর্যন্ত বিএনপির শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতাসহ সারাদেশে বিএনপির প্রায় ১৮ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক মামলা দিয়েছে। একেকজনের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দেয়ার বিরল নজির এই সরকার সৃষ্টি করেছে। ফলে এইসব মামলার সংখ্যা উল্লেখ করে গণমাধ্যমে ফরমায়েশি রিপোর্ট করিয়ে সমাজের চোখে কাউকে খারাপ বানানোর অপচেষ্টা করার সুযোগ নিতে পারে ক্ষমতাসীনরা। ফলে এই কৌশলী বিবেচনায় দলের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ এর ‘ঘ’ ধারাটি বাদ দেয় বিএনপি।

বর্তমান বিনাভোটের সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যেভাবে নিজের ইচ্ছেমতো আইন আদালতকে ব্যবহার করে ফাঁসিয়ে দিয়েছে তাতে দলীয় গঠনতন্ত্রে ৭ এর ‘ঘ’ ধারা বাতিল অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করেন বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা।

এদিকে, গোয়েন্দা সংস্থার অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীনরা এখন বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দেয়া ধারার অনুরূপ একটি ধারা নির্বাচনসংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। এর আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে
একটি গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় চাপ সৃষ্টি করে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিয়ে কাল্পনিক সিন্ডিকেট সংবাদ পরিবেশন করার অপচেষ্টা চলছে। একযোগে পরিবেশিত এইসব সংবাদের উদ্দেশ্য বিএনপি গঠনতন্ত্র থেকে যে ধারা বিলুপ্ত করেছে তার সঙ্গে মিল রেখে অনুরূপ একটি ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিওতে) অন্তর্ভূক্ত করার ক্ষেত্র তৈরী করা।

আরপিও’তে এ ধরণের ধারা অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র এবং এরপর বিএনপিতে ভাঙ্গনের অপচেষ্টা। ওই অপচেষ্টায় নির্বাচন কমিশন যাতে ধানের ‘শীষ প্রতীক’ নিয়ে নানারকম টালবাহানা করতে পারে ষড়যন্ত্র পরিকল্পনায় সেসবও রয়েছে বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, আওয়ামী লীগ, নির্বাচন কমিশন কিংবা আইন আদালত বিএনপির বিরুদ্ধে যাই করুক, জনগণ এসব ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখবে। তিনি বলেন, কোথায় কি ষড়যন্ত্র হচ্ছে বিএনপি জানে। বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র সফল হবেনা। বিএনপি মানে শহীদ জিয়া, বিএনপি মানে খালেদা জিয়া, বিএনপি মানে তারেক রহমান। এর বাইরে কিছু হবেনা। তিনি বলেন, আন্দোলনের বিকল্প নেই। আন্দোলন শুরু হলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবেনা। মঈন-ফখরুদ্দিন ও বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্রে সফল হতে পারেনি।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.