জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচনের আভাস দিয়ে গেলেন মহাসচিব!

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমকে নিয়ে বাংলাদেশে দু’দিনের সফর করে গেলেন। বৃটিশ কমনওয়েলথ প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ডও একই সাথে ঢাকা সফর করেন। এসব ভিআইপিরা আলাদা আলাদা ভাবে বাংলাদেশে এলেও এদের কর্মসূচি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ছিল। লীগের সরকরের শেষ সময়ে এতগুলো হাই পাওয়ার সফর অনুষ্ঠিত হওয়ায় আ’লীগকে যে সুখে থাকার কথা, তা লক্ষ্য করা যায়নি। অন্য সময় হলে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তিলকে তাল বানিয়ে দেশবাসীর কাছে প্রচার করতে আ’লীগকে মহাতৎপর দেখা যেতো। এমনকি সরকারের উন্নয়নের সাথে জাতিসংঘ আছে, অা’লীগের সরকার অবৈধ নয় বরং জাতিসংঘের স্বীকৃতি আছে- এমন প্রোপাগান্ডাও হওয়ার কথা ছিল!
 
কিন্তু অবাক করা কান্ড হলো – এর কোনোটাই এবার করতে পারেনি আওয়ামী লীগ! এই সফরগুলিকে ক্যাশ করার আওয়ামীলীগের তেমন কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়নি! বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে বৈ কি! 
 
তাহলে ঘটনা কি? একটি সোর্স জানিয়েছে, এতগুলো হাই পাওয়ার সফরে আওয়ামী লীগের জন্য কোনো সুখকর বার্তা ছিল না, বরং ছিল বিপজ্জনক কিছু। রোহিঙা শিবির পরিদর্শনের নামে হলেও এই সফরগুলি আসলে ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানী সফর। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিককে উদ্ধৃত করে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। রোহিঙা ইস্যুতে হলে এত মন্ত্রিদের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের গুরুত্বপূর্ন বৈঠকের কোনো কারন নাই, তাছাড়া সফরটি এত লম্বা হওয়ারও কথা নয়। এমনকি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টকেও সাথে নিয়ে আসার কোনো কারণ নাই। সুত্র জানায়, জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্বব্যাংক প্রধানকে সাথে করে শেখ হাসিনাকে পরিস্কার বার্তা দিয়ে গেছেন- “বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তারা বদ্ধ পরিকর। ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। আসন্ন নির্বাচন সবাইকে নিয়ে সুষ্ঠু ভাবে করতে হবে। অন্যথায় জাতিসংঘের অধীনে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হবে।” এসব কথা শোনার পরেই হাসিনার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে- অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে লীগ সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
 
এরই প্রকাশ দেখা গেলো গাজীপুর নির্বাচনের অনিয়ম সংক্রান্তে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি মন্তব্যের পরে সরকারের অস্থিরতা ও উল্টাসিধা আচরণ ফেটে পটে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আচরণকে সন্দেহজনক চোখে দেখা শুরু করে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রীদের খিস্তি খেউড় চলে অবিরাম, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পুত্রও মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে টুইটে আক্রমন করতে দেরী করেনি। এখনও প্রতিদিনই সরকার পক্ষের কারো না কারো চিৎকার চেচামেচি চলছেই।
 
অনেকদিন শান্ত থাকার পরে কোটাবিরোধী আন্দোলন হঠাৎ অতিমাত্রায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর সরকারী বাহিনী ও ছা্ত্রসংগঠনের অতিমাত্রায় শক্তিপ্রয়োগ ও গুন্ডামি চালাচ্ছে, তাতে সরকারের ভেতরকার আতঙ্কের চিত্র ফুটে উঠছে প্রকটভাবে। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবীতে বিএনপি ৫ জুলাই থেকে রাজপথে নামতে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং কার্যকারণ একটি আরেকটির সঙ্গে সমন্বয় করে চুড়ান্ত সমাপনীর দিকে যাবে বলে জানায় সূত্রটি।
Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.