কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী নেতা নূরুকে হত্যার চেষ্টার করে ছাত্রলীগ: রাশেদ সহ অনেক গ্রেফতার!

সরকারী চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে শিক্ষাঙ্গনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও গ্রেফতারের পরে েলাগতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে মুজিববাদী ছাত্রলীগ।  বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে এ হামলা হয়। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক  নুরুল হক নুরুসহ ৪/৫জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার পর বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে বলেছেন, আন্দোলনকারী অনেকের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নুরুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেয়। সংবাদ সম্মেলনের জন্য কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের একটি দল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আসার পর ‘শিবির ধর’, ‘শিবির ধর’ বলে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। নুরকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। এসময় ‘ওরে মেরে ফেল’, ‘কলিজা কাট’ ইত্যাদি উক্তি করে তাকে লাথি, ঘুষি, চড়-থাপ্পড় দিতে থাকে হামলাকারীরা। একপর্যায় নুর মাটিতে পড়ে গেলে শোয়া অবস্থায় তাকে লাথি মারতে থাকে তারা। পরে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আদিত্য নন্দী, আরিফুর রহমান লিমন, মেহেদী হাসান রনি, মাসুদ রানা মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক দারুস সালাম শাকিল, এইচএন শওকত-উর রহমান, কৃষি শিক্ষা সম্পাদক বরকত হোসেন হাওলাদার, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ আল রিয়াদ, মোহসীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সূর্যসেন হল সভাপতি গোলাম সারওয়ারসহ ২০/২৫জন নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির প্রধান গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক এসএম জাবেদ আহমেদকে লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ। আহতদের উদ্ধার করে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে আন্দোলকারীরা।

অবশ্য কিছুদিন অাগেই আন্দোকারীদেরকে কোপানোর হুমকি দেয় ছাত্রলীগ, অাজ সেটা বাস্তবায়ন করেছে। সংসদে নিমেষেই পুরো কোটা বাতিল করে দেয়ার মধ্যে যে একটা ক্ষোভ ছিল, সেই ক্ষোভের পরিণতি এখন কোটা অান্দোলনকারীরা বুঝে নিচ্ছে। এরপরও তথাকথিত “মাদার অব এডুকেশন’ এর ছবি সম্বলিত বড় ব্যানার নিয়ে কোটা অান্দোলনের মিছিল কিন্তু থেমে নেই। এই হামলার খবরের পরে অনলাইন জুড়ে চলছে উত্তেজনা ও নিন্দাবাদ।

ছাত্রলীগের হামলা এবং নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে সকাল ১০টায় কালো পতাকা ও বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কিন্তু রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কারনে ্কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে সোমবার থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এই ঘোষণার পর পরই সরকারের গোয়েন্দা পুলিশ আন্দোলনকারী নেতাদের ধরপাকড়ে নেমে পড়ে।

রোববার সকালে আন্দোলনকারীদের যুগ্মআহবায়ক রাশেদ খানকে মিরপুর ১৪ নম্বরের ভাষানটেক বাজার এলাকার মজুমদার রোডের ১৪ নম্বর বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। এ সময় একটি ফেসবুক গ্রুপে লাইভের মাধ্যমে রাশেদ খানকে ভয়ার্তকন্ঠে সাহায্য চাইতে দেখা যায়। সেই লাইভে তিনি তাকে ‘ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাশেদকে তথ্যপ্রযুক্ত আইনের ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ! মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন যে রাশেদ খান ফেসবুক লাইভে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এরপরে জানা যায় আরও কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও আন্দোলনের একজন যুগ্ম-আহ্বায়কসহ অনেককে গ্রেপ্তার করাকে কেন্দ্র করে আবারো নতুন করে তৈরী হয়েছে উত্তেজনা।

 

কোটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামের সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বিবিসি’কে বলেন শনিবার সকালে তিনিসহ কোটা আন্দোলনের তিনজন নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা চালায় সেখানে আগে থেকে জড়ো হয়ে থাকা ছাত্রলীগ কর্মীরা। এসময় তিনি এবং আরেকজন নেতা লাইব্রেরির ভেতরে আশ্রয় নিলেও নুরুল হককে মারধর করা হয়। মি.আল মামুন বলেন, “একপর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় আমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা নিতে যাই।” তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজেও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের হুমকির মুখে চিকিৎসা নিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন হাসান আল মামুন। পরে তারা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, “আজ (রবিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধনের পরিকল্পনা থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস হওয়ায় আজ সেই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে দিনাজপুরে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করা হয়েছে।”

হাসান আল মামুন অভিযোগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার কোটা সংস্কার আন্দেোলন সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম ছিল না। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরণের কর্মসূচী পরিচালনা করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে সারাদিনই ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিল ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। হাসান আল মামুন জানান সোমবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

/শীর্ষনিউজ

 

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.