প্রাসাদ যড়যন্ত্রের কবলে শেখ হাসিনা: ভেতরে গুঞ্জন- বেয়াই কেনো আসামী?

ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে প্রসাদ ষড়যন্ত্রের কবলে পড়েছেন শেখ হাসিনা। এই ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে গেছেন তার নিকটজন। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নিরপেক্ষ অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠনে ইতিবাঁচক ইঙ্গিত দিয়েছে দিল্লি এবং ওয়াশিংটন। ভারত বুঝতে পেরেছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে না হলে আগামীতে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যাবে না, তখন পরিস্থিতি তাদের আওতার বাইরে চলে যাবে। তাই সংবিধানের ভেতরে থেকে একটি কেয়ারটেকার সরকার গঠনের লক্ষে জোরদার কাজ চলছে! প্রস্তাবিত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্টানের ফরমুলায় শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে বর্তমান সংসদের কোনো এমপিকে (যিনি উগ্র আওয়ামীলীগার নন এবং বিরোধীদের মৌণ আস্থা হতে পারে, এমন কাউকে দিয়ে) প্রধান করে অন্তর্বতী সরকার গঠনের ফরমুলা নিয়ে কাজ করছেন।

নিরপেক্ষ অন্তর্বতী সরকারের প্রধান হিসাবে ইতেমধ্যেই দিল্লি শেখ হাসিনার বেয়াই ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের প্রতি সবুজ সংকেত জানিয়েছে। এই প্রকৃয়ার সাথে যুক্ত আছেন ক্ষমতাসীনে দলের নেতা ও মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, আমির হোসেন আমু, সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ ৭০/৮০ জন এমপি। এইসব এমপিদের সামনে কোনো আশা নাই, কেননা আগামী নির্বাচনে তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হবেনা বলে শেখ হাসিনা কয়েক দফা হুমকি দিয়েছেন। এরপরেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে এই বিকল্প পথ ধরেছেন। এই এমপি গ্রুপ সহ প্রকৃয়ার সাথে যুক্ত হয়েছেন প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, এবং কিছু সিভিল সোশাইটির বিশিষ্ট লোক। নিরপেক্ষ সরকারের এই পরিকল্পনায় প্রাথমিক সায় দিয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূতরা। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা তৈরী করতে শীঘ্রই বিএনপির সাথে রাষ্ট্রদূতরা গোপন যোগাযোগ করবেন।

ইতোমধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিক্যট ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের সাথে ২ঘন্টা ব্যাপী মিটিং করে ওয়াশিংটনে গেছেন। ৫ জুলাই তিনি ঢাকায় ফিরেবেন, তখন দেখা যাবে আরও চমক। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভীষন ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাকে হঠানোর এই উদ্যোগ থামাতে শেখ হাসিনা প্রথমেই বিয়াই মোশাররফকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন- প্রেসিডিয়াম মেম্বার থেকে উপদেষ্টা পরিষদে নামিয়ে দিয়েছেন। আমির হোসেন আমুকে ডেকে ধমক দিয়ে বলেছেন- আগামী সরকারে আপনার আর যায়গা হবে না, খালি গন্ডগোল করেন।

গৃহবিবাদ ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের এসব খবরাদি স্থানীয় মিডিয়াতে যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য খুব কড়া দৃষ্টি রাখা হয়েছে। ক্যামোফ্লেজ করতে সেনাগোয়েন্দা সংস্থার ভারতপন্থী গ্রুপের পরামর্শে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা জোরদার করা হয়েছে! পরিস্থিতি বুঝে শেখ হাসিনা দলের ভেতরে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আভাস দিয়েছেন। এমনকি স্ত্রী হত্যার অভিযোগও উঠতে পারে বেয়াইর বিরুদ্ধে!

সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীনদের ভেতরে খবর ছড়িয়ে পড়েছে- বেয়াই কেনো আসামী?

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.