এরদোগানের বিজয় কি তুরস্কে বিলুপ্ত ওসমানীয় সাম্রাজ্যের নতুন বাহক হবেন?

নির্বাচনের ফলাফল: পার্লামেন্টও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল এরদোগানের পার্টি
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান। প্রথমবারের মতো একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগান ও তার জোটের ঐতিহাসিক বিজয় হয়েছে।

রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫২ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল আতাতুর্কের দল সিএইচপি’র প্রার্থী মুহাররেম ইনস এ পর্যন্ত পেয়েছেন ৩০ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট। এখন পর্যন্ত মোট ৯৯ দশমিক ১১ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে।

এদিন একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পার্লামেন্ট নির্বাচনেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এরদোগানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স।

৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ৫৩ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে এরদোগানের জোট। সিএইচপি’র নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৩৪ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট।

৬০০ আসনের পার্লামেন্টে এরদোগানের দল একে পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২৯৩ জন এমপি। জোট শরিক এমএইচপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৫০ জন। সিএইচপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১৪৬ জন এমপি। তাদের জোট শরিক ইয়ি পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৪৪ জন।

২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এরদোগান। ২০১৪ সালেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন। তার প্রধান সমর্থক হচ্ছেন রক্ষণশীল এবং ধার্মিক অপেক্ষাকৃত বয়স্ক তুর্কিরা।

তিনি তুরস্কের এতকাল ধরে চলে আসা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধকে শক্তিশালী করেছেন এবং তার সময়ে দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

এরদোগানের ্সাম্প্রতিক উত্থানে তুরস্কের বিলুপ্ত ওসমানীয় সভ্যতা নিয়ে অনেকেই উৎসাহী হয়ে ওঠেন। ইসলামী বিশ্বের দুর্যোগময় পরিস্থিতির এরদোগানের এ বিজয়ে তুরস্কের ওসামানীয় সভ্যতাকে হাতছানি দিচ্ছে কিনা তা সময়ই বলে দিবে।

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.