“বেগম জিয়ার চিকিৎসা অবহেলা এবং হত্যার ষড়যন্ত্র”

গত দু’দিন ধরে খবরে প্রকাশ- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৫জুন মাইল্ড স্ট্রোক করে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন কারাগারে। গতকাল কয়েকজন ডাক্তার দেখে এসে বলেছেন, উনার সম্ভবত মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল! কয়েক মিনিট অজ্ঞানও ছিলেন!

মাইল্ড স্ট্রোকের খবর প্রকাশ হওয়ার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলছে, বেগম জিয়ার ’পড়ে যাওয়ার খবর’ কারা কতৃপক্ষ জানেন না! একথা তো ‘রীতিমত ভয়ঙ্কর’!! অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের পরীক্ষা নীরিক্ষা ছাড়াই বলে দিলো- মাইল্ড স্ট্রোক হয়নি! খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে, অথচ কারা কতৃপক্ষই জানে না তাঁর পড়ে যাওয়ার খবর! তাহলে কে জানে? উনার ভালো মন্দ দেথা শুনা করার দায়িত্ব জেল কতৃপক্ষের। অন্য কারও নয়। এখন তারা যদি বলে- আমরা কিছু জানি না, তবে মারাত্মক চিন্তার বিষয়। তবে তো চিন্তা হয়- এটা কি ধীরে ধীরে বড় ঘটনা ঘটানোর আলামত? এভাবে যেতে যেতে একদিন হয়ত তারা প্রকাশ করবে – “ব্রেইন স্ট্রোক করে তিনি মারা গেছেন” (আল্লাহ তেমনটা না করুন)! এটা পরিস্কার করে বুঝঝতে হবে, খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই ষড়যন্ত্র তৈরী করেছে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! আর এজন্য উনাকে চিকিৎসা না দিয়ে অযত্ন অবেহেলা করে একটার পর একটা ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, যাতে করে বড় ঘটনা ঘটে গেলে তখন বলতে পারে- উনি তো আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন! এজন্য জনগনের ‘মাইন্ড সেট’ তৈরী করছে অবৈধ সরকার!

এখনকার খবর হলো, পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে রবিবার বেগম জিয়াকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে, যদিও ম্যাডাম পিজিতে যেতে চান না। তার কারন পিজির ডাক্তাররা বেশিরভাগই আ’লীগের দলীয় ডাক্তার- তারা উল্টাপাল্টা ডায়াগনোসিস করে ভুল চিকিৎসা দিয়ে বা বিষ প্রয়োগ করে উনাকে দ্রুত মেরে ফেলতে পারে। তাই বেগম জিয়া চান, উনি আগে যেখানে চিকিৎসা করাতেন, সেই ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে।

তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে পাওয়াফুল পলিটিশিয়ান। এই বেগম জিয়ার জন্যই হাসিনা কোনো ইলেকশনে জিততে পারবে না, কোনো নির্বাচনে যাওয়ার সাহস নাই লীগের। তাই উনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে হাসিনার পথের কাঁটা দূর হয়ে যায়। আগে থেকেই লেখালেখি হচ্ছিলো, পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে ম্যাডামকে জেলে নিবে হাসিনা! কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ফাঁদেই পা দিলো বিএনপি! দলকে চুড়ান্ত ঠান্ডা করে ‘শান্তিপূর্ন কর্মসুচির বড়ি গিলিয়ে’ আইনী প্রকৃয়ায় মামলা খরিজ করানোর ফরমুলা বাস্তবায়ন করেছে! অথচ ইনার মামলা এবং রায় হলো রাজনৈতিক! রাজনীতির ময়দান সচল থাকলে খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়ার ক্ষমতা হাসিনার ছিল না। ২০১৫ সালে তো ৩টা ওয়ারেন্ট ইস্যু করেও হাসিনা পুলিশ পাঠানোর সাহস করেনি। দুর্ভাগ্যবশত, দালাল ও টাকা খেয়ে যারা ধান্দা করে, বিএনপিতে তাদের কথাই বেশি চলে! খালেদা জিয়াকে নিয়ে শেখ হাসিনা ও ভারতের খুব নোংরা চক্রান্ত করছে। বিএনপির কিছু নেতারা এই চক্রান্ত ধরতে পারছে না, বরং নিজেদের সামান্য একটু সুযোগ সুবিধা বা টাকার লোভে এই কুটিল ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে আছেন নিরবে- এরা হাই কমান্ডকে কুবুদ্ধি দিয়ে বেগম জিয়া ও দলকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এরা এখন হয়ত বুঝতে পারছে না- খালেদা জিয়া কি সম্পদ। জাতিকে একত্র করার ক্ষমতা এই নেত্রীরই কেবল আছে। উনি না থাকলে দেশের যে কি অবস্থা হবে সেটা এখন হয় অনুমান করতে পারছে না। তখন ঐসব দালাল নেতাদেরকে রাস্তায় পিটিয়ে মারবে- কুত্তার মত!

গত ৪ মাস ধরে বেগম জিয়া কারাগারে, অথচ উনার কারামুক্তির কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচি কিছুই নাই। যেনো এসব স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে সবাই! বিএনপির নেতা কর্মীরা এত বেশী ধার্মিক হয়ে গেছেন যে, রোজার উছিলায় কোনো কর্মসূচি করতে পারছেন না! বেগম জিয়া যেখানে ৩৯ টাকার ইফতার খান, নির্লজ্জ নেতারা সেখানে টেবিল ভর্তি ইফতার নিয়ে পত্রিকা ও ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করে, অনেকে দন্ত বিকশিত হাসিও হাসে! এদেরও উচিত ছিল নিজেরাও ৩৯ টাকার ইফতার করে রোজার মধ্যেও কারামুক্তির আন্দোলন করা।

শেষ কথা- বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, রায়, জেল সবই রাজনৈতিক। আন্দোলন না করলে মুক্তিও মিলবে না, উপযুক্ত চিকিৎসাও হবে না। তখন হয়ত জানাজায় যেতে হবে! ইতোমধ্যে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন- খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় সরকারের।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.