১০ আওয়ামী দলকানা বুদ্ধিজীবির চোখে মাদক বিরোধী অভিযানে হত্যা ‘প্রত্যাশিত’ এবং ‘যৌক্তিক’!

১০ ‘বিশিষ্ট নাগরিক’ বিবৃতি দিয়ে জানাচ্ছে-

১/ “সারা দেশে যে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে (বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা), তার ‘যৌক্তিকতা’ তারা অনুধাবন করে!”

২/ “সংগত কারণে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনও এই অভিযানে (বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা) প্রত্যাশিত ছিল।”

৩/ “টেকনাফে নিহত পৌর কমিশনার একরামের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার পূর্ব অভিযোগের কথা জানা যায়নি।” (যেন পূর্ব অভিযোগ জানা থাকলে এই হত্যার ‘যৌক্তিকতা’ থাকতো! তাছাড়া, অন্ততপক্ষে দুইটি টিভি চ্যানেল কয়েক বছর আগেই নিহত একরামকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।)

৪/ “তাঁর (একরামের) পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে হত্যা-পূর্ব ফোনালাপ সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করেছেন, যা কোনো ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ ও সমাজে অকল্পনীয়। এ রকম ‘একটি ঘটনাই’ সমগ্র ‘অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ’ ও জনগণকে আতঙ্কিত করতে যথেষ্ট।” (তার মানে, এই ফোনালাপ প্রকাশ না পেলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা ‘যৌক্তিক’ এবং ‘প্রত্যাশিত’ই থাকতো!)

গত ১৪ মে থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০/১২জন করে মানুষকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে; একরামের আগেই খুন হয়েছে আরো ১২৩জন। তখন পর্যন্ত এই ‘বিশিষ্ট নাগরিক’দের কাছে বাংলাদেশ ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ’ ছিল! এদের সমর্থিত সরকারের গত দশ বছরের শাসনামলে ৫’শতাধিক গুম আর ১৫ শতাধিক বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও এদের কাছে ‘যৌক্তিক’ এবং ‘প্রত্যাশিত’ই ছিলো!

অপ্রত্যাশিত ঘটনা হয়ে গেছে- একরাম হত্যার অডিও প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায়!

এই বুড়ো শকুনগুলো এই কথা স্পষ্ট করে বলতে পারেনা যে, একরাম মাদক ব্যবসায়ী হলেও তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিনা বিচারে হত্যা করতে পারে না; কাউকেই পারে না।

এই বুড়ো শকুনদের বিবেকের দেখা মেলে তাদের দৃষ্টিতে কোন ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত’ হলে। তখন এরা মুরিদদের সাথে নিয়ে নিজেদের কানে ধরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে। এদের মুরিদরা ‘এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না’ লিখে চেতনামাখা স্ট্যাটাস দেয়। তারপর আরো হত্যা-গুমের ধারাবাহিক ঘটনা ঘটে, ছাত্রলীগের হাতে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে, তখন আর এদের দেখা পাওয়া যায় না!

কাজেই এইসব সিজনাল এবং সিলেক্টিভ ঘটনার প্রতিবাদী ধান্দাবাজদের থেকে সতর্ক থাকুন। এরা-
যেভাবে এরা এক রেশমাকে উদ্ধারের নাটক দেখিয়ে রানা প্লাজায় ১২’শ নিহতের ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়েছে আর রেশমাকে ফাইভস্টার হোটেলে চাকরি দিয়ে দেড় হাজার পঙ্গুকে পূনর্বাসিত না করার ও রানা প্লাজার ভিক্টিমদের জন্য আশা ১০৯ কোটি টাকা চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাহায্য করেছে, যেভাবে এরা শ্যামল কান্তি ভক্তের ঘটনায় ‘কানে ধরা প্রতিবাদ’ করে ছাত্রলীগের হাতে দেশের শত শত শিক্ষক লঞ্ছনার ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছে, ঠিক সেভাবেই এরা এক একরামের ঘটনার প্রতিবাদ করে দেড় হাজার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এবং একরামের পরিবারতে গণভবনে নিয়ে ফটোসেশন করিয়ে সকল বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভিক্টিমের পরিবারের বঞ্চনাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে।

কুমিরের চোখে পানি দেখলে আবেগ প্রবণ হওয়া বোকামি।

/ফেসবুক/ একেএম ওয়াহিদুজ্জামান

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.