অবশেষে বদিকে খেয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত আসছে!

নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে অবশেষে নিজ দলীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি (বদি বাবা)কে খেয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেখ হাসিনা। খুব দ্রুতই ঘটনাটি ঘটবে বলে জানা গেছে।

মাদক বিরোধী অপারেশনের নামে র‌্যাব পুলিশের হাতে ইতোমধ্যে ৭০ জনের মত মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন নির্বাচিত কাউন্সিলরও রয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১ জনকে রাজনৈতিক কারনে, এক জনকে ভুল তথ্যের ওপর, এবং দু’জনেকে আটকের পরে পুলিশকে টাকা না দেয়ার কারনে নিহত হয়েছেন বলে স্বজনদের অভিযোগ।

মাদক বিরোধী অভিযানের পর থেকে দেশজুড়ে একটি নাম ঘুরে ফিরে আসছে- বদি। বাংলাদেশে ইয়াবা ব্যবসার মূল গডফাদার আবদুর রহমান বদি, যিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ সদস্য। সরকারের সবগুলি তালিকায় মাদক চোরচালানের প্রধান হোতা হিসাবে বদির নাম আছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ১৪১ গড ফাদারের মাধ্যে বদি, তার ভাই, ভাতিজা, বিয়াই, পিএস সহ  নিকটস্থদের নাম রয়েছে। বদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের উপরে ঘরে বাইরে প্রবল চাপ। অনলাইন ও টকশো’তে সর্বত্র আলোচনা- বদিকে ধরা হচ্ছে না কেনো? ইত্যোমধ্যে বদির এক বিয়াই ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল নিহত হয়েছে। ‘বদিকে কবে ধরা হবে’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সরকারের দায়িত্বশীলরা বার বার এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। শেষে বলতে বাধ্য হয়েছেন, বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সত্য, কিন্তু সরকারের  হাতে প্রমান নেই। তাই প্রমান জোগাড় হলেই ব্যবস্খা।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেন, “আমরা কী বলব, আপনি টেকনাফ থানার ওসি আর বিজিবির এই ব্যাটেলিয়নের কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলেন, তারাই বলে দেবে- বাংলাদেশে ইয়াবা কে এনেছে। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এমপি আছেন বদি সাহেব। আমরা দেখি যারা ইয়াবা আমদানির মূল কারিগর, তারা সবাই এমপি সাহেবের আশেপাশে থাকে। আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকে। এমপি তাদের শেল্টার দেন। তাহলে মানুষ কী বুঝবে? আপনি টেকনাফে এসে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। শতকরা ৯৫ জনই বলবেন, এমপি বদির মাধ্যমেই ইয়াবা এসেছে বাংলাদেশে। মূল হোতাদের এখন এলাকায় দেখছিই না।”

মাদকবিরোধী অভিযানের আগে পাঁচটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার সমন্বয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকদের একটি তালিকা তৈরি করে সরকার। সেই তালিকায় মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছে আব্দুর রহমান বদির নাম। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় এক নম্বরে আছে বদির নাম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা টেকনাফের শীর্ষ মানব পাচারকারীর তালিকাতেও তার নাম ছিল। দেশে মাদক ইয়াবার গডফাদার ও ব্যবসায়ীর তালিকায় টানা ১০ বছর ধরে ছিল বদির নাম।

এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বিষয়টি পরিস্কার করে বলেন, ‘এমপি বদির বেয়াই যেমন ছাড় পায়নি। তেমনি অভিযোগ প্রমাণিত হলে বদিসহ আওয়ামী লীগ-বিএনপির কেউই ছাড় পাবে না’।

সব মিলিয়ে কোনো এক সকালে বদির লাশ পাওয়া গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না এবং এটা করা হবে কেবল জনগনকে সামলানোর জন্য এবং নিজ দলের হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি কিছুটা পুনুরুদ্ধারের জন্য।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.