বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার ও বিচারবহির্ভূত হয়রানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল বন্ধুরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন : ইউএসএআইডি প্রধান

বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডির প্রধান মার্ক গ্রিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অভিন্ন মূল্যাবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বন্ধুত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সৎ, খোলামেলা ও আন্তরিকতার সাথে কথা বলা প্রয়োজন। বিরোধী নেতাদের অব্যাহতভাবে গ্রেফতার, বিচারবহির্ভূত হয়রানি ও সাংবাদিক নিগৃহিনের মতো ঘটনায় বাংলাদেশের অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মত আমরাও উদ্বিগ্ন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের জন্য সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এমন ভোট হওয়া প্রয়োজন যাতে দেশের মানুষের ইচ্ছা ও আকাঙ্খার সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটে।

বাংলাদেশে নির্ধারিত সফর শেষে বৃহস্পতিবার আমেরিকান ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন সোজাসাপ্টা মতামত ব্যক্ত করে ট্রাম্প প্রশানের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রাক্তন কংগ্রেসম্যান মার্ক গ্রিন। এ সফরকালে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। ঢাকায় বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সাথে। দীর্ঘ দিনে কংগ্রেসম্যান, রাষ্ট্রদূত ও মিলিনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্টের বোর্ড অব ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালনকারী গ্রিনকে ইউএসআইডি প্রধান হিসাবে বেছে নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদ সম্মেলনের পরই তিনি মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে গেছেন।

ইউএসএআইডির প্রশাসক বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বাংলাদেশের ভূমিকাকে প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাস রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো ভয়াবহ নৃশংসতাকে মনে রাখবে। তেমনি মনে রাখবে বিপদগ্রস্থ এসব মানুষকে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা। কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষই রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সবার আগে এগিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্কট নিয়ে জানতে ও শুনতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে আমি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করছি। সঙ্কট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় নির্ধারনে আমার অভিজ্ঞতার কথা ওয়াশিংটনকে জানাবো। চলতি সপ্তাহে আমি রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠির জন্য ৪৪ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছি। ২০১৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র এ সঙ্কট মোকাবেলায় মোট ৩০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। কক্সবাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে নেয়া প্রকল্পগুলো খাদ্য, সুরক্ষা, জরুরি আশ্রয়স্থল নির্মাণ, খাবার পানি, পয়:নিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যখাতে উদ্বাস্তুদের সহায়তা দিয়ে আসছে। বর্ষা মৌশুমকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে।

গ্রিন বলেন, সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি সুরাহার জন্য এর মূল কারণগুলো মোকাবেলায় মনোযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই আজ আমি মিয়ানমার যাব। সেখানে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সঙ্কট নিরসনে তাদের ভূমিকা পালনের তাগাদা দেব। এর মধ্যে রয়েছে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেয়া, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তুদের স্বেচ্ছা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সম্প্রদায়গুলো মধ্যে বৈষম্য দূর করা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে ইউএসএআইডির শিকড় গভীরভাবে প্রথিত। স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক শাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসাথে কাজ করছে।

বুধবার বিকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রশাসক। সেখানে ইএসএআইডির কর্মী জুলহাস মান্নান হত্যার বিচারের অগ্রগতিও জানতে চান বলে দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

/জাস্ট নিউজ

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.