কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সারা দেশে সোমবার থেকে ছাত্র ধর্মঘট

কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে আলটিমেটাম শেষে ফের কঠোর আন্দোলনে নামছেন শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ আলটিমেটাম অনুযায়ী রোববার বিকাল ৫টায় প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত না হওয়ায় সোমবার সকাল ১০টা থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসে।

সংবাদ সম্মেলনের আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। এতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার, কার্জন হল, হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে প্রবেশ করে। পরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় বৃষ্টি এলে ভিজেই কর্মসূচি পালন করেন তারা।

পরে দুপুরে টিএসসিতে এসে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

এর আগে কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘোষণা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়নের দাবিতে ২৬ এপ্রিল আলটিমেটাম দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।

এই সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে ১ মে থেকে ফের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। এমন অবস্থায় ২৭ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমের বৈঠক হয়।

প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুরোধে এবং মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাসে ৭ মে পর্যন্ত আলটিমেটামের সময় বৃদ্ধি করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। এই সময়েও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় ৯ মে মানববন্ধন করে ১০ মের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করতে ফের আলটিমেটাম দেন তারা।

কিন্তু চতুর্থ দফা আলটিমেটাম অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ১৩ মে রোববার বিক্ষোভের ডাক দেন আন্দোলনকারীরা। ওই বিক্ষোভ থেকে ১৪ মে সোমবার থেকে লাগাতার ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।

এদিকে বিক্ষোভের পাশাপাশি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ বিভাগে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি।

রোববারের বিক্ষোভ মিছিলে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন কই?’, ‘কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চাই, প্রজ্ঞাপন দিয়ে দিন, আমরা পড়ার টেবিলে বসতে চাই’, ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, ‘শুধু মুখে নয়, লিখিত প্রজ্ঞাপন চাই’।

বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর, মো. রাশেদ খান, ফারুক হোসেন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে হাসান আল মামুন বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে। শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলেও কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতার ওপর হামলা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সরকারের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে ছাত্র সমাজের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাই। আর দাবি না মানলে সোমবার থেকে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীরা ছাত্র ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষাও ছাত্র সমাজ বর্জন করবে।

নুরুল হক বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। ৩২ দিন পার হলেও এখনও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আমাদের সঙ্গে সরকার ওয়াদা করেছে ৭ মের মধ্যে প্রজ্ঞাপন হবে। কিন্তু সেই প্রজ্ঞাপন এখনও জারি করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, কোটা থাকবে না। তার কথাই অলিখিত আইন। কিন্তু এরপরও আমরা শুনছি, এখন কমিটি করা হয়েছে। আমরা আর অপেক্ষা করতে চাই না।’

/যুগান্তর

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.