‘রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে’ খালেদা জিয়াকে সাজা প্রদান করা হয়েছে : লর্ড কার্লাইল

ডেভিড বার্গম্যান
আজ ৬ মে ২০১৮ তারিখে আল-জাজিরায় প্রকাশিত বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানে প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের সিনিয়র আইনজীবী এবং বেগম জিয়ার আইনী সহায়তা দলের সদস্য বলেছেন, পর্যাপ্ত প্রমান ছাড়াই বিএনপি চেয়ারপার্সনকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা, বাংলাদেশ – দুর্নীতির মামলায় আদলতে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমান উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হবার পরও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রীকে পাঁচ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের একজন সিনিয়র আইনজীবী।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার আইনী সহায়তা দলের সদস্য, লর্ড আলেক্স কার্লাইল মামলার সকল আদেশ ও নথি পর্যালোচনা করে বলেছেন, “সাজা দেয়া তো দূরের কথা, বেগম খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করার মত কোন পর্যপ্ত প্রমানও” তিনি খুঁজে পাননি।

আল-জাজিরা’কে লর্ড কার্লাইল বলেন, “মামলার নথিপত্রে আমি এমন কোন কিছুই খুঁজে পাইনি যা থেকে প্রমান হয় আমার ক্লায়েন্ট দুর্নীতির সাথে জড়িত”।

“এই বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের প্রমান নেই। তারপরও যদি মারাত্মক ও ব্যাখ্যাতীত ভুলবশত এই শাস্তি প্রদান না করা হয়ে থাকে, তাহলে এভাবে তাঁকে কারান্তরীণ রাখার একটাই কারণ হতে পারে, যেন তিনি আগামী নির্বাচনের সময় তাঁর দলের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন সেটা নিশ্চিত করা।”

১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত দুইবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী বেগম জিয়াকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ৮ তারিখে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট হতে তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচ বছরের জন্য কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

রায়ে তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ আরো চারজনকে দুর্নীতির অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এই ছয়জনকে উক্ত ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

বিএনপি জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশগ্রহন করতে চায়; সেই ক্ষেত্রে তাদের শর্ত হচ্ছে- সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।

লর্ড কার্লাইলের অভিযোগ সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই বিষয়ে আল-জাজিরার সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

“এটি আদালতের রায়। এই বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করবো না”, আল-জাজিরার অনুরোধের প্রেক্ষিতে এভাবেই জনাব হক সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দেন।

এর আগে বিএনপি যখন লর্ড কার্লাইলকে আইনজীবী নিয়োগ দেয়, তখন জনাব হক সমালোচনা করে বলেছিলেন, “বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচার পদ্ধতি সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা চলানো এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আইনী সহায়তা দেয়া ব্যক্তিকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়া দুঃখজনক”।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সেই রায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

লর্ড কার্লাইল অবশ্য বাংলাদেশের আইনমন্ত্রীর অভিযোগকে ‘মিথ্যা অপবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তিনি কখনোই বিএনপি’র রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতার প্রতিনিধি ছিলেন না।

https://www.aljazeera.com/news/2018/05/khaleda-zia-sentence-political-ploy-lord-carlile-180505181201758.html

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.