কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ!

।। শামসুল আলম।।
 
গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কারাগারে দেখা করেছেন তাঁর পাঁচ স্বজন। গত সপ্তাহে পহেলা বৈশাখের দিন ইনারা দেখা করতে গেলেও ম্যাডামের অসুস্খতার কারনে তারা দেখা করতে পারেননি। কারন ম্যাডাম দোতলা থেকে নেমে এসে ভিজিটর্স রুমে আসার মত অবস্খা নাই। উনার দু’হাটুর ব্যথা প্রচন্ড রকম বেড়েছে। এক ধাপ পা দেয়ার মত অবস্থা নাই। গতকালও অমন দশাই হয়েছিল। বিশেষ ব্যবস্খায় দেখা করেছেন।
 
আজ থেকে ২০ বছর আগে সৌদি আরবের কিং ফয়সল হাসপাতালে উনার এক পায়ে Knee replacement করা হয়, এর তিন বছর পরে আরেক পায়ের একই অপারেশন করা হয়। দু’টি অপারেশনের সময়ই আমি নিজে উপিস্থিত ছিলাম। হাটুতে যে স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে এগুলো এখন ব্যাথা তৈরী করছে। পেইন কিলার খেতে হয়। কিন্তু জেলখানায় উনার চিকিৎসা হচ্ছে না। প্রথমত, যে ঔষধ উনি নিয়ে গেছেন, তা হয়ত কাজ করছে না। অন্যদিকে সরকারী ডাক্তার যে ঔষধ দিচ্ছে, নিরাপত্তাজনিত কারনে উনি খেতে পারছেন না। ফলে পায়ের ব্যথা অস্বাভাবিক বেড়েছে। উনার ব্যাথার অবস্থা বোঝার জন্য এমআরআই করা দরকার। কিন্তু পায়ে স্টীলের প্লেট থাকার কারনে পিজিতে এমআরঅাই করা যায়নি। এর জন্য যে বিশেষ ধরনের এমআরআই দরকার, সেই মেশিন আছে কেবল ইউনাইটেড হাসপাতালে। অথচ জেল কতৃপক্ষ ও সরকার বিধির প্যাচ কষে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসায় বাধা দিচ্ছে। এহেন অবস্থায় চিকিৎসা ও অষুধ ছাড়া তাঁকে বিপজ্জনক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এভাবে চলতে পারে না। এর অবসান হওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে বেগম খালেদা জিয়া কোনো সাধারন বন্দী নন। তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশে বিদেশে সুপরিচিত, বাংলাদেশের সবচেয়ে জননন্দিত রাজনীতিক, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যিনি সরকার গঠন করতে পারেন। এ অবস্থায় তাঁর মত রাজবন্দীর যেখানে আস্থা আছে, এরূপ কোনো হাসপাতালে এবং চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার ব্যবস্খা করার ব্যবস্খা নিতে হবে। উল্লেখ্য, বিগত ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা, আবদুল জলিল, মোহাম্মদ নাসিম কারাবন্দী অবস্থায় তাদের পছন্দের হাসপাতাল ও ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। জেলকোড তাতে বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি।
 
তাছাড়া ৭৪ বছর বয়স্ক একজন অসুস্থ নারী, তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলার রায়ে জামিন না দিয়ে নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে, যা সম্পূর্ন অমানবিক ও ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। এরকম বয়স্ক অসুস্থ একজন মানুষকে ছোট্ট একটি নড়বড়ে খাটে থাকতে দেয়া হয়েছে। সিড়ি ভেঙে যেতে হয় বাথরুমে, যেখানে পোকামাকড়ের উপদ্রব আছে। প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়, থাকতে হয় অন্ধকারে। আরও অনেক সমস্যা রয়েছে সেখানে। মোটকথা, নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যাক্ত জেলখানার পুরো ব্যবস্খাপনা রীতিমত মহাকষ্টদায়ক এবং অহসনীয়। জুলুমবাজির এক চরম দৃষ্ঠান্ত।
 
বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছে সর্নিবন্ধ অনুরোধ- দয়া করে আপনারা বিষয়টি সিরিয়সলি নিন। বিএনপির ৬’শ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে মাত্র ১৭ জন কারাগারে আছেন, বাকীরা সবাই মুক্ত। নেত্রীকে জেলে রেখে কি করে আপনারা নিজ বাড়িতেই ঘুমাচ্ছেন? একটু বোঝার চেষ্টা করুন- দলীয় রাজনীতির কারনেই ম্যাডাম কিন্তু এই জুলুমের জেলে। আপোষ করলে প্রথমেই ছাড়া পেতেন, হয়ত জেলেই যাওয়া লাগত না। যা কিছু হচ্ছে রাজনীতির জন্যই হচ্ছে- আর তা আপনাদের জন্যই। উনার যে বয়স, এবং দীর্ঘকালের জীবনযাত্রা- তাতে বর্তমানে যেভাবে আছে, তা অসহনীয় এবং খুবই বিপজ্জনক। প্রতিনিয়ত তা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে! যেকোনো সময় একটা খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। তাই উনার মুক্তির জন্য আপনারা সিরিয়াস হন। আর মুক্তি না হওয়া অবধি আপাতত, সরকারের সাথে দেন দরবার করে উনার সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করুন।
 
বিনাভোটের সরকারকে বেশি কিছু বলার নাই। শুধু বলব- অমানবিকতারও একটা মাত্রা আছে। সীমা লংঘন করিয়েন না। আজ আমীর তো কাল ফকির। এই বাংলাদেশে কোনো কিছুই অসম্ভব না। যেকোনো সময় গনেশ উল্টে গেলে আজকের সব উদাহরন আপনাদের ভাগ্যেও নজীর হতে পারে। তখন হয়ত আফসোস করবেন।

/ফেসবুক

Facebook Comments