পাসপোর্ট-নাগরিকত্ব সমাচার~

।। শামসুল আলম।।
 
এই মুহুর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তির নাম তারেক রহমান। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। লন্ডনপ্রবাসী। বাংলাদেশের বর্তমান বিনাভোটের সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে তাদের প্রায় সব মন্ত্রী নেতা খেতাদের মুখে একটিই শব্দ- তারেক রহমান! তারেক রহমানকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি হিসাবে প্রচার করছে সরকারের মিডিয়া এবং প্রচার যন্ত্র!
 
সরকারের লোকেরা বলছে- তারেক রহমানকে যেকোনো মূল্যে লন্ডন থেকে ফিরিয়ে আনবেন শেখ হাসিনা। এনে দন্ড কার্যকর করবেন! বেশ তো আনতে পারলে আনুন….সেটা না করে খামাখা বক বক করেছেন কেনো? উনার রেটিং বাড়িয়ে দিচ্ছেন কেনো? এর কারণ হিসাবে অনলাইন সূত্র জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে লন্ডন গিয়ে বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানকার বাংলাদেশীদের হাতে এমন নাকানি চুবানি খেয়েছেন, সর্বত্র এমন প্রতিবাদ প্রতিরোধের সম্মুখীণ হয়েছেন যা আগেকার সকল রেকর্ড ভেঙ্গেছে! এরফলে কোনো ভেনুতে তিনি সামনের দরজা দিয়ে যেতে পারেননি, সব যায়গায় পেছনের দরজা ব্যবহার করতে হয়েছে! লন্ডন শহরে ভ্রাম্যমান (মোবাইল) বিলবোর্ডের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে খুনি, গণতন্ত্র হত্যাকারী, স্বৈরাচার হিসাবে তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী করা হয়েছে। নতুন ধরনের এই প্রতিবাদ দেখে সবাই চমকিত হয়েছে! সম্মেলনে আগত বিদেশীরা এবং লন্ডনবাসীরা বাংলাদেশ এবং হাসিনা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছে, আগ্রহী হয়েছেন। এসব কারনে শেখ হাসিনা বিএনপি এবং তারেক রহমানের উপর যারপরনাই বিরক্ত ও রাগান্বিত হয়ে বৃটেন সরকারের দ্বারস্থ হন- তারেক রহমানকে ফিরিয়ে দিন। কিন্তু তারেক রহমান সেখানে আইনানুগভাবে ভালোভাবেই আছেন, হাসিনার কথায় তাকে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নাই জেনে শেখ হাসিনা আরও বিরক্ত হয়ে অন্তত দু’টি পাবলিক অনুষ্ঠানে তারেক রহমানকে বাপ মা তুলে গালিগালাজ, হুঙ্কার এবং ধরে নিয়ে দন্ড কার্যকর করা হবে এমন খিস্তিখেউড় করলেন। এমনকি লন্ডনে বিএনপির লোকদের উপর আক্রমন করতে তার দলের লোকদের নির্দেশ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতি সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে গেলেন। তবে প্রতিবাদের মাত্রা আরও বাড়ে যখন গতকাল লন্ডন ছাড়ার সময় হোটল থেকে বের হওয়ার মুখে বাংলাদেশীদের ব্যাপকভাবে ডিমবৃষ্টির কবলে পড়তে হয় হাসিনা ও তার দলবলকে। এমনকি লন্ডন পুলিশের বাধা ভেদ করে ডিম ছোড়ার দৃশ্য দেখা যায়!
 
অন্যদিকে তখন বিনাভোটের সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের বাংলাদেশে নাগরিকত্ব নাই! সেই সাথে টিভি স্ক্রলে আসতে থাকে, ‘আওয়ামীলীগ বলছে, পারলে তারেক রহমান পাসপোর্ট দেখাক’, আবার বলা হচ্ছে- ‘তারেক রহমান নাকি তাঁর স্ত্রী ও কন্যার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন ডাকযোগ! তাই উনারা আর বাংলাদেশের নাগরিক নন!’ এদের কে বুঝাবে যে- পাসপোর্ট থাকা না থাকার সাথে নাগরিকত্বের কোন সম্পর্ক নাই। পাসপোর্ট হলো ট্রাভেল ডকুমেন্ট- বিদেশে যেতে এটা লাগে। এয়ারপোর্টে দেখাতে হয়। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ লোকের পাসপোর্ট নাই- বানায়নি। তাই বলে কি তাদের নাগরিকত্ব চলে গিয়েছে? যতটুকু জানা গেছে, তারেক রহমানের বাংলাদেশী পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জমা দিয়েছিলেন পাসপোর্স নবায়ন করতে। কিন্তু হাসিনার অবৈধ সরকার তা নবায়ন না করে এখন ধাপ্পাবাজি করছে! গাধাদের জন্য জ্ঞান হচ্ছে, পাসপোর্টের মেয়াদ থাকে, নাগরিকত্বের কোনো মেয়াদ থাকেনা। এটা আমৃত্যু।
 
পাসপোর্ট নিয়ে যখন কথা উঠলো, তখন জাতি জানতে চায় বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে কোন্ পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এ সম্পর্কে আওয়ামীলীগের কোনো বক্তব্য আছে কি? দেশের মানুষ অনেকেই জানে (এটা প্রথম আমিই প্রকাশ করেছিলাম)- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিব এবং ড. কামাল হোসেন পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে ঢাকায় ফিরেন। কামাল হোসেন এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, ৬ জানুয়ারি ১৯৭২ শেখ মুজিব এবং ড. কামাল দু’জনে ছবি তোলেন, পাকিস্তানের পাসপোর্ট ফরম পূরণ করে সই করে নতুন পাসপোর্ট তৈরীর জন্য। অতঃপর নতুন বানানো সেই পাসপোর্ট শেখ মুজিবের নাগরিকত্ব লেখা হয়- Pakistani. ২৫ দিন আগে স্বাধীন বাংলাদেশ মুক্ত হয়, এবং সেটা ঐদিনই জানতে পারেন শেখ মুজিব, তারপরও স্বাধীন বাংলাদেশের মনোনীত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব নতুন করে হলেন পাকিস্তানের নাগরিক! এমন চরম দুর্ভাগ্য বোধ হয় বাংলাদেশের ললাটে লেখা ছিল! শেখ সাহেব বাংলাদেশে ফিরেই সাথে সাথে রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন। প্রশ্ন হলো- তার আগে কি তিনি পাকিস্তানের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন? বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য পোষণ করেছিলেন? করে থাকলে কবে, কখন? এটি দরকার ছিল এই কারনে যে, শেখ মুজিব এবং ড.কামাল হোসেন বাংলাদেশ জন্মের পরেও পাকিস্তানের (তখনকার শত্রু রাষ্ট্রের) নাগরিকত্ব গ্রহণ/ নবায়ন করেছিলেন (শেখ সাহেবের আত্মীয় জামায়াত নেতা গোলাম আযমও পাকিস্তানের নাগরিত্ব নিয়েছিলেন, পরে সেটা ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দিয়েছিলেন)। তাই শেখ মুজিব বা ড. কামাল হোসেন পাকিস্তানের নাগরিকত্ব ত্যাগ না করে এবং বাংলাদেশের প্রতি অনুগত্যের ঘোষণা না দিলে তাঁহারা বাংলাদেশের নাগরিক হইবেন না। তবে কি শেখ মুজিব পাকিস্তানের নাগরিক হিসাবেই বাংলাদেশের রাজত্ব করবেন আমৃত্যু? আওয়ামলীগের সাধারন সম্পাদক বা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পারলে এর জবাব দিক!
/ ফেসবুক
Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.