তারেক রহমানকে ফেরত চেয়ে হাসিনার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান : অযাচিত অনুরোধে বৃটেনের বিরক্তি প্রকাশ

লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বৃটেন সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে লন্ডনে এসে শেখ হাসিনা খুব বড়াই করে দলীয় অনুষ্ঠানে বার বার বলে যাচ্ছেন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করবেন তিনি। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের অনুগত হিসাবে পরিচিতি ৭১ টেলিভিশন দাবী করছে, বৃটিশ সরকার তারেক রহমানকে ফেরত দিতে রাজী হয়েছে। কিন্তু বৃটেনের কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে- শেখ হাসিনার এইরূপ অনুরোধ প্রতাখ্যান করেছে বৃটিশ সরকার।

শেখ হাসিনার সফরসঙ্গীদেরকে বৃটিশ ফরেন অফিস থেকে জানানো হয়েছে- শেখ হাসিনার এমন অনুরোধে বৃটেন বিব্রত হয়েছে। তারেক রহমান সম্পর্কে জেনে শুনেই বৃটেনে আইনানুগভাবে বসবাসের অনুমতি প্রদান করেছে। শুধু তারেক রহমান কেনো, মানবাধিকারের প্রশ্নে নিপীড়িত কোন ব্যক্তিকেই যুক্তরাজ্য এভাবে অনিরাপদ করে কারও হাতে তুলে দেয় না। গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার বিষয়ে বৃটেন সর্বদা উচ্চ মান বজায় রাখে। দীর্ঘকালের পরীক্ষিত বন্ধু হিসাবে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরাতে যুক্তরাজ্য ঘনিষ্টভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে একদলীয় নির্বাচনের পর গঠিত বাংলাদেশ সরকার ক্রমশ কতৃত্বপরায়ন হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় কতৃত্বে অব্যাহত মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে কোনাঠাসা করতে নানাবিধ কমর্কান্ডের খবর আসছে। ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশের পরিস্থিত আবার সংঘাতময় হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এহেন অবস্থায় রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটসমূহের মধ্যে চলমান বিরোধের অবসান ঘটানোর ওপর তাগিদ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের  একটি অংশগ্রহনমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে যথাযথ যোগাযোগের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.