খালেদা জিয়ার রায়ে নিরপেক্ষতা চায় যুক্তরাষ্ট্র: রাজনৈতিক কারণে কাউকে কারাদণ্ড নয়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নিশ্চিত করার আহবান পূনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে কারো কারাদণ্ড হতে পারেনা বলেও মনে করে দেশটি।

২০১৭ সালের বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে শুক্রবার ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিং এমন অবস্থানের কথা জানান স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র এডভাইসর এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক ব্যুরো প্রধান এ্যাম্বেসেডর মাইকেল জি কোজাক।

বিশেষ ওই ব্রিফিংএ সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান- আপনাদের রিপোর্ট অনুসারে ১৬২ জন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। এমনিভাবে বছরের প্রথম ১০ মাসে ১১৮ জন বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেই চলেছে। গণতান্ত্রিক চর্চা সম্পর্কে বলা হয়েছে বিরোধীদের সভা-সমাবেশের অধিকার খুব সীমিত, বিশেষত প্রধান বিরোধীদল বিএনপি সমাবেশ করার সুযোগ পাচ্ছেনা। রিপোর্ট বলা হয়েছে বিগত ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বয়কট করেছে। মূলত শুধু বিএনপিই বয়কট করেনি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বয়কট করেছে। কেনোনা যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ সকলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠানো স্থগিত করে। আমরা তখনো দেখেছি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া। যাকে একতরফা নির্বাচন হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রধান বিরোধী নেত্রী কারাগারে আটক রয়েছেন। এই বিষয়গুলো সার্বিক ভাবে আপনারা কিভাবে মূল্যায়ন করছেন? বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার হিসাবে দেশটিতে গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্টের ভূমিকাই বা কি?-

জবাবে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, আমার ধারনা আপনি রিপোর্টি ভালো করে পড়েছেন। আজকে প্রকাশিত রিপোর্টটি গত ক্যালেন্ডার বছরের রিপোর্ট। যার মধ্যে ওই সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। এর পরে অনেকগুলো ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। যা আপনিও বলেছেন। আগামী বছরের রিপোর্টে তা উঠে আসবে।

মাইকেল কোজাক বলেন, নির্বাচন আসন্ন। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে এবং যা হতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

অবাধ প্রতিযোগিতা , উন্মুক্ততা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এটি একটি উপায়। আমরা ক্রসফায়ারের ঘটনা নিয়ে প্রতিনিয়ত সরকারের সঙ্গে কথা বলছি। এটি সাধারণত একটি বিতর্কের বিষয় যা কিনা একটি বৈধ সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ক্রসফায়ারে নিহত হয়। কিন্তু এটা আমাদের উদ্বেগের বিষয়। আমরা এই বিষয়ে মানুষদের সাথে কথা বলি।

আরেকটি বিষয় যা বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যদি আমাদের কাছে তথ্য থাকে যে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তখন আমরা প্রশিক্ষণ ও সরজ্ঞামাদি প্রদান বন্ধ রাখি। যতক্ষণ না সরকার অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসে।

খালেদা জিয়ার কারাদন্ড প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাইকেল কোজাক বলেন, “জিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচারের আহ্বান আমরা জানিয়েছি, এবং শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে কারো কারাদন্ড হতে পারেনা।”

তিনি বলেন, “আমরা নানা উপায়ে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করি। একেক দেশে একেক রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়। যেমন- বিবৃতি প্রদান, সরঞ্জামাদি প্রদান না করে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় উত্সাহিত করা। কখনও কখনও লোকেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যাতে তারা তাদের মানবাধিকার কর্মক্ষমতা উন্নত করে। সুতরাং সার্বিক ভাবে নানা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের মধ্য দিয়ে আমরা সমস্যা সমাধানের পথে অগ্রসর হচ্ছি। তবে রিপোর্ট সমস্যা সম্পর্কে, সমাধান সম্পর্কে নয়।”
/জাস্ট নিউজ

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.