মতিয়া চৌধুরীকে বিকেল ৫ টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম

সোমবার রাতে জাতীয় সংসদে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বলে গালিয়ে দেয়ায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আল্টিমেটাম দেন।

এদিকে জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীরা মুতিয়া চৌধুরিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।

রাজাকারের বাচ্চাদের অবশ্যই আমরা দেখে নেব: মতিয়া চৌধুরী

আন্দোলনের নামে মুখোশ-হেলমেট পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে বর্বরোচিত হামলার কঠোর সমালোচনা করে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যান্য সদস্যরা হামলাকারীদের জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট দাবি করে বলেন, এ ঘটনা ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সকল শিক্ষার্থীদের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়। যারা ভ-, প্রতারক ও ষড়যন্ত্রকারী তারাই মুখোশ পরে হামলা করে। এদের ব্যাপারে ন্যুনতম শৈথিলতা দেখানো ঠিক হবে না। এদের কোনো ক্ষমা নেই, ক্ষমা পেতে পারে না। তিনি আরো বলেন, রাজাকারের বাচ্চাদের অবশ্যই আমরা দেখে নেব।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলঙ্কিত অধ্যায় সূচিত হয়েছে। ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হয়ে মোনায়েম খানের বিরুদ্ধেও আমরা তীব্র আন্দোলন করেছি। কিন্তু উপাচার্যের গায়ে হাত দেওয়া, রাতের অন্ধকার বাড়িতে ভয়াবহভাবে হামলা-ভাংচুর করার ঘটনা কখনো কোন শিক্ষার্থী চিন্তাও করেনি। যেটি এবার হয়েছে। এই ঘটনা ঢাবি’র সকল শিক্ষার্থীর জন্য কলঙ্কের ব্যাপার। প্রতিবাদ করতে হলে মুখোশ পড়তে হবে কেন? যারা ভন্ড, প্রতারক, ষড়যন্ত্রকারী তারাই মুখোশ পড়ে। ইতর হওয়ার একটা সীমা আছে। মুখ দেখাতে এতো ভয় কিসের? যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে ওই সময় বগুড়া যে স্টাইলে হামলা এবং আগুন দিয়েছিল, একই স্টাইলে ঢাবি’র উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ফেসবুক, ইন্টারনেট ও সারা পৃথিবীকে মানুষের নাগালের মধ্যে আনার সুযোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ফেসবুকে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বানিয়ে উস্কানি প্রদানকারীকে অবশ্যই জাতির সামনে সঠিক জবাব দিতে হবে। কাপুরুষরা মুখ দেখাতে সাহস পায় না বলেই মুখোশ পরে।

কোটা প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, রাজধানী ঢাকা থেকে পড়া এবং মফস্বলে পড়া এক নয়। সমান সুযোগ দিয়েই মেধার বিচার করতে হবে। আসলে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রধান গাত্রদাহই হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। রাজধানী কেন্দ্রীক এলিট শ্রেণির চক্রান্ত থেকেই জামায়াত-শিবিরের এজেন্টরা ঢাবিতে এ মহড়া দেখিয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চলছে, চলবে। রাজাকারের বাচ্চাদের অবশ্যই আমরা দেখে নেব। তাদের ব্যাপারে ন্যুনতম শৈথিলতা দেখানো হবে না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হামলাকারীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করে বলেন, এদের কোন ক্ষমা নেই, ক্ষমা হতে পারে না।

Facebook Comments