‘এখন যে সরকার চালায়, সে যদি বলে, অমুক আর নেই। তাহলে ওই লোক আর থাকে না। কেউ তার খোঁজ পায় না।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ চট্টগ্রামে বলেন, ‘এখন সরকার চালায় একজন মানুষ। এখন যে সরকার চালায়, সে যদি বলে, অমুক আর নেই। তাহলে ওই লোক আর থাকে না। কেউ তার খোঁজ পায় না। ডিবির কাছে যাবেন, তারা বলবে, জানে না। পুলিশের কাছে যাবেন, তারাও বলবে, জানে না। কয়দিন পরে ওই লোকের মৃতদেহ নদীর পাড়ে পাওয়া যাবে। এই অবস্থা চলতে পারে না।’

‘এক সময় আমাকে বলতো স্বৈরাচার। কিন্তু মানুষ এখন আর তা বলে না। মানুষ এখনও বলে, এরশাদ সাহেবের সময় ভালো ছিলাম। এখন আর্ন্তজাতিকভাবে বাংলাদেশকে স্বৈরাচার বলা হচ্ছে। এখন কি বলবেন? এখন লজ্জায় মুখ ঢাকবেন না, আঁচলে মুখ ঢাকবেন না। লজ্জা তো নেই, সে এখনও বড় বড় বক্তৃতা দেয়। আমরা স্বৈরাচার না, এটা প্রমাণ করছে আর্ন্তজাতিক সংস্থা। স্বৈরাচার হচ্ছে এখনকার সরকার, বর্তমান সরকার।

‘এখন তো আর নির্বাচন হয় না। এখন সিল মারা নির্বাচন হয়। ‘এখন নাকি উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে দেশ। তারা এটা বলে। এখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে কয় ঘণ্টা সময় লাগে? আগে লাগতো ৫ ঘণ্টা। এখন লাগে ১৫ ঘণ্টা। ঢাকা থেকে রংপুর যেতে সময় লাগে ১৫ ঘণ্টা। উন্নয়নের মহাসড়কে এতো খানাখন্দ কেন? এতো খাল-বিল কেন? টাকাগুলো গেলো কোথায়? কার পকেটে গেলো? তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের মহাসড়ক নয়, দুর্নীতির মহাসড়কে চলছে দেশ। দুনীর্তির মহাসাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি আমরা। উদ্ধার করতে হবে, উদ্ধার করতে হবে এ দেশকে। এদেশের ১৬ কোটি মানুষকে উদ্ধার করতে হবে। গত ‘২৭ বছরে কিছুই হয়নি এবং সব অন্তসারশূন্য’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার চাই। যে সব নির্বাচন হয়েছে, কারচুপি হয়েছে।

‘কিছুদিন আগেও বলা হয়েছে, ব্যাংকের টাকা নেওয়ার কেউ নেই। এখন বলা হচ্ছে, ব্যাংকে টাকা নেই। কোথায় গেল এই টাকা? কৃষককে ব্যাংকের ঋণের টাকা দিতে না পারলে জেলে যেতে হয়। কৃষকের বিচার হয়, প্যারাডাইস পেপারসে যাদের নাম আসে, এদের তো বিচার হয় না!’শেয়ারবাজার বলে কিছু নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজার ধ্বংস। কে ধ্বংস করলো, আপনার জানেন? আরেকটি ঘটনা, যেটা পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেনি, তা হলো ব্যাংক লুট, বাংলাদেশ ব্যাংক লুট। এটা কোথাও হয় নাই, একমাত্র বাংলাদেশে এটা হয়েছে। ৮শ’ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। কিভাবে লুট হলো, কে ডাকাতি করলো, নাম পর্যন্ত বলতে পারলেন না। তার মানে, আপনারা এটার সঙ্গে জড়িত আছেন। না হয় নাম বলে না কেন? আমরা জানি, তারা কে। কিন্তু তারা নাম প্রকাশ করবে না।’

‘শিক্ষা বলতে কিছু নেই। শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন পঁচন ধরেছে। আগে পাস করা কঠিন ছিল। এখন ফেল করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিপিএ-৫ পাচ্ছে, কিন্তু ইংরেজিতে নিজের নাম লিখতে পারছে না।’ ‘শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ঘুষ সহনীয় পর্যায়ে খেতে। বলেছেন, আমরা সবাই নাকি ঘুষ খাই। এরপরও তিনি মন্ত্রী আছেন। কোথায় গেছে দেশ! কোন রসাতলে গেছি আমরা! কোন অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছি আমরা!’

Facebook Comments