একের পর এক প্রাইভেট ব্যাংক ধস নামার পরও আরও নতুন ব্যাংক: আরও লুটপাট!

বর্তমান সরকারের সময়ে বানানো সহ দেশে প্রাইভেট ব্যাংক অর্ধশতাধিক। সরকারের অনুগত অর্থনীতিকরাই বলছেন,েএর মধ্যে অর্ধেক ব্যাংক ভেতরে ভেতরে দেউলিয়া হয়ে গেছে। জনগনের পকেট কেটে অবৈধ সরকার বিভিন্ন ব্যাংককে ২/৪’শ কোটি করে টাকা ফুয়েল দিয়ে এগুলো চালু রেখছে। এসব টাকা কোনোদিন শোধ করতে পারবে না ব্যাংকগুলি। প্রাইভেট ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোন তুলে ব্যাংকগুলো শেষ করে দিয়েছে উদ্যোক্তরা। নাংশনাল ব্যাংকের পরিচালক নিজেরা ৬’হাজার কোটি টাকা লোন নিয়েছে, যা প্রকাশ করতে দেয় না। নিয়ম না মেনে আবুল বারাকাত জনতা ব্যাংক থেকে এক গ্রাহককেই দিয়েছে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মোট মূলধন ২ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ আছে। অর্থাৎ এক গ্রাহক ৭৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পেতে পারেন না। অথচ দেওয়া হয়েছে মোট মূলধনের প্রায় দ্বিগুণ। চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছে, বেসিক ব্যাংক এবং ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি কথা সবাই জানে, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ এরকম কেলেঙ্কারী আছে বহু। বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে যারা ৭’শ কোটি টাকা লুট করেছে, তারা এখনও ব্যাংকের ভিতরেই আছে, রিপোর্ট করেছে বিবিসি! প্রাইভেট ব্যাংকগুলির ভেতরের অবস্থা এত বেশি খারাপ যে একটু বড় চেক দিলেই টাকা দিতে পারে না। ব্যাংকের টাকা যেনো এখন সোনার হরিণ।
 
মিডিয়ার খবর ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে আছে, আরও ৪০ হাজার কোটি টাকার কোনো খবর নাই। আসলে ফিগারটা আরও বিরাট। এক সূত্রমতে, ৭ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ দেয়া আছে, যার প্রায় অনেকটাই মন্দ ঋন। উচ্চ আদালতে রীট করে এদের বেশিরভাগকে খেলাপী দেখানো হয় না। অনেককে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্লাসিফিশেন করার সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব ঋন আর কখনই আদায় হবেনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিবিআই বিভাগে এসবের হিসাব থাকলেও প্রকাশ করতে দেয়া হয় না। বাংলাদেশে সৃষ্টির পর থেকে যত খেলাপি ঋণ হয়েছে, তার ৫৩ শতাংশই গভর্নর আতিউরের আমলে।
 
৯টি ব্যাংক মূলধন ভেঙে খেয়ে ফেলেছে। অনেক ব্যাংক প্রায় অচল। তারপরও  নতুন ব্যাংকের অনুমতি দিয়ে সাধারন মানুষের আরও পকেট কেটে আওয়ামী ভুরিভোজের আয়োজন হচ্ছে কেবল। টাকার অভাব মিটাতে ব্যাংকারদেরকে ডিপোজিট আনার টার্গেট বেধে দেয়া হয়েছে, উচ্চ হারে সুদ এবং লোভনীয় অফার দিয়ে মানুষের সহায় সম্বল হাতানোর টার্গেট করেছে প্রাইভেট ব্যাংকগুলো।
 
দেশী বিদেশী কোনো বিনিয়োগ নাই, রেমিটেন্স কমে গেছে, রপ্তানী কমছে আমদানী বাড়ছে, অর্থনৈতিক ডাটার ভুতুরে ফিগার দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের শো শা করলেও বাস্তবে অর্থনীতি চলছে কোরামিনের ওপর। কেবল বিদেশী রেমিটেন্স আসায় এসব ব্যাংক এখনও চালু রয়েছে। রেমিটেন্স বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাংকিং খাতে ধস নামবে। এভাবে প্রবাসিরা রেমিটেন্স পাঠিয়ে কতদিন এই সব রুগ্ন ব্যাংক চালু রাখবে?
 
প্রাইভেট ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিলে ব্যাংকিং খাত অচল হয়ে পড়বে। বেতন দিতে পারবে না, বাজেট দিতে পারবে না। রিজার্ভ ভেঙে কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে। হায় হায় ব্যাংকগুলির চাইতে আর্মি ব্যাংকে বা সরকারী ব্যাংকে রেমিটেন্স পাঠানো তুলনামুলক নিরাপদ। ইতেমধ্যে প্রাইভেট ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সরানোর হিড়িক পড়ে গেছে। নিশ্চয় মনে আছে, সন্দীপের মোস্তাফিজুর রহমানের বিসিআই ব্যাংকে আমানতকারীদের টাকা কখনও টাকা ফেরত দিয়েছিল কি না?

/ফেসবুক থেকে

Facebook Comments