“উই রিভোল্ট….দেওয়ানহাট হতে কালুরঘাট”

বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামের সেনা বিদ্রোহের অবদান ছিলো স্ট্যালিনগ্রাডের মত”। অর্থাৎ, ষ্টালিনগ্রাডের যুদ্ধে রাশিয়ার বিজয় না হলে ২য় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল যেমন ভিন্ন রকম হতো, তেমনি চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার সেনাবিদ্রোহ না ঘটলে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার মুখ দেখতে হতো না। সেনাবিদ্রোহের ঐ দুঃসাহসী কাজটি করেছিলেন অকুতোভয় সেনানী জিয়া।
 
জিয়া ছিলেন পাকিস্তান আর্মির একজন মেজর, ৮ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহ-অধিনায়ক। একজন সৈনিক যেখানে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেয়, এমন কি ধর্মগ্রন্থ নিয়েও শপথ করে দেশ রক্ষার, সেখানে কি এমন হলো যে, ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তান প্রতি শপথ ভেঙে মেজর জিয়া ঘোষণা করলেন______ “উই রিভোল্ট।”
 
কোন্ পরিস্থিতিতে জিয়া সেদিন বিদ্রোহ করলেন, তা উঠে এসেছে মেজর জিয়ার সাথে থাকা ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানের লেখায়____ “আমি নিশ্চিত, অপারেশন সার্চলাইট নামে যে পরিকল্পনা চলছিল, তার সঙ্গে লে. কর্নেল জানজুয়া সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সবসময় আমাদের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছিলেন। …..ব্রিগেডিয়ার আনসারী তখন পোর্টে ছিলেন। পোর্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র খালাস করে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নেয়া হচ্ছিল। আমি এবং মেজর জিয়া ২৫ মার্চ বিকালে পুরো চট্টগ্রাম শহর ঘুরে দেখে এলাম সার্বিক পরিস্থিতি কি। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া দেখলাম, তাতে মনে হলো আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে। ….. তখন রাত ৮টারও বেশি বাজে। ট্রাকের পেছন দিক থেকে ঘুরে গিয়ে যখন আমি তাকে বিদায় জানাচ্ছিলাম তখন তিনি শুধু আমাকে বললেন, কোনো কিছু স্বচ্ছ মনে হচ্ছে না। কোনো তথ্য পেলে আমাকে তা জানাবে। সত্যি কথা বলতে কি তার এই একটি কথাই পরবর্তী সময়ে আমার জন্য বড় ধরনের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। মেজর জিয়াউর রহমান পোর্টের দিকে রওনা হলেন। তার সঙ্গে দু’জন অবাঙালি অফিসার ছিলেন। একজন লে. আজম, অন্যজন লে. হুমায়ুন। লে. হুমায়ুন ছিলেন ভারতের বিখ্যাত অভিনেতা দিলীপ কুমারের (ইউসুফ খান) চাচাত ভাই। লে. কর্নেল জানজুয়া তখন মেজর শওকতকে তার মেসে নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে গেলেন। অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে তখন লাইন ডিউটিতে ছিলেন ক্যাপ্টেন অলি আহমদ। লে. শমসের মবিন ও লে. মাহফুজ দায়িত্ব পালন করছিলেন শহরে। আমি দৌড়ে ক্যাপ্টেন অলির কাছে গেলাম। বললাম সিরিয়াস কিছু একটা হচ্ছে। ক্যাপ্টেন অলিও আমার সঙ্গে একমত হয়ে বললেন, পরিস্থিতি তেমন একটা ভালো মনে হচ্ছে না। মেজর শওকত ততক্ষণে মেসে ঘুমিয়ে পড়েছেন। হঠাৎ আবদুল কাদের নামে আমার এক আত্মীয় আমাকে ফোন করে বললেন, ইপিআরে গোলাগুলি শুরু হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা ইপিআরকে অ্যাটাক করেছে। পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তখন আমার মধ্যে বিদ্যুতের মতো একটি প্রতিক্রিয়া তৈরি হলো। আসলে বয়স কম থাকলে যা হয় তাই। মেজর জিয়াউর রহমানের সেই কথা, কোনো তথ্য থাকলে আমাকে জানাবে—এটিই যেন বারবার আমার কানে বাজছিল। আমি তৎক্ষণাৎ ক্যাপ্টেন অলিকে বললাম, তুমি এখানটা দেখ, আমি আমাদের বসের কাছে গেলাম। সিদ্ধান্ত যা নেয়ার তিনিই নেবেন। অলিও আমাকে উৎসাহিত করল। আমি ছুটলাম। আমি তিনজন সৈন্য নিয়ে একটি পিকআপে করে ছুটলাম পোর্টের দিকে, মেজর জিয়াকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আল্লাহর মেহেরবানি আমাকে পোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়নি। দেওয়ানহাট ওভারব্রিজের কাছেই পেয়ে গেলাম জিয়াউর রহমানকে। ব্রিজটি ছিল ভাঙা। তাই জিয়াউর রহমান ট্রাকটি নিয়ে সেখানে থেমে ছিলেন। যেতে পারছিলেন না। ব্রিজের সামনে ব্যারিকেড ছিল। সৈন্যরা ব্যারিকেড সরানোর কাজ করছিল। আমি পিকআপ নিয়ে ঠিক ট্রাকটির পেছনে থামলাম। জিয়াউর রহমানের কাঁধে হাত রেখে তাকে একপাশে সরিয়ে নিলাম। এ সময় আমি ছিলাম অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। আমার ভেতর উত্তেজনাও কাজ করছিল। বললাম, স্যার ঢাকায় গোলাগুলি শুরু হয়েছে, ইপিআর ক্যাম্পে আর্মি আক্রমণ চালিয়েছে। বেশকিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি খুবই খারাপ। জিয়াউর রহমান আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আমি বললাম স্যার, উই আর উইথ ইউ। তিনি কয়েক সেকেন্ড সময় নিলেন। তিনি বললেন, ‘উই রিভোল্ট’…।
 
তিনি আমাকে ইউনিট লাইনে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে সবকিছু অর্গানাইজ করতে বললেন। আমি কোয়ার্টার গার্ডে আমাদের যেসব সৈন্য ছিল তাদের প্রস্তুত থাকতে বললাম। একটু পরই মেজর জিয়াউর রহমান সঙ্গে লে. আজম ও লে. হুমায়ুনকে নিয়ে ফিরে এলেন। তাদের দু’জনকে কোয়ার্টার গার্ডে ঢোকানোর নির্দেশ দিলেন তিনি। আমি তাদের দু’জনের কাছ থেকে পিস্তল নিয়ে কোয়ার্টার গার্ডে রাখলাম। কোয়ার্টার গার্ড আসলে বন্দিশালা। তারা কোনো প্রতিবাদ করেনি। এখানে একটি কথা বলা দরকার, মেজর জিয়াউর রহমান তখন সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন খুব দ্রুত। যেন ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটার মতো। মেজর জিয়া আমাকে বললেন, আমাকে একটি জিপ দাও। মেজর জিয়া তিনজন সৈনিককে নিয়ে একটি জিপে করে সরাসরি গেলেন লে. কর্নেল জানজুয়ার বাসায়। মেজর জিয়াকে দেখে জানজুয়া রীতিমত অবাক। এটা কি করে সম্ভব? তাকে পাঠালাম পোর্টে আর সে এখানে কেন? জানজুয়াকে নিয়ে মেজর জিয়া ফিরে এলেন নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে। আসার পথে নিজে মেজর শওকতকে জাগিয়ে এলেন। জানজুয়া গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মেজর জিয়া আমাকে বললেন, ধর এটাকে। তিনি একটি রাইফেল তাক করে বললেন, স্যার, ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট। আমাকে নির্দেশ দিলেন লে: কর্নেল জানজুয়াকে নিয়ে যেতে। আমি জানজুয়াকে কোয়ার্টার গার্ডে ঢুকিয়ে একটি চেয়ারে বসালাম। বললাম, কোনো কিছু করার চেষ্টা করবেন না। (পরে জানজুয়া সেখানে নিহত হয়)।
 
মেজর জিয়াউর রহমান আমাদের নির্দেশ দিয়ে ওপরে গিয়ে চট্টগ্রামের ডিসি-এসপিসহ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানালেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আমরা অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ করেছি। আপনারা প্রস্তুত হোন। মেজর শওকত পরে সেখানে উপস্থিত হন। মেজর জিয়া শওকতের উদ্দেশে বলেন, আই হোপ ইউ উইল বি উইথ আস। মেজর শওকত তাৎক্ষণিক সম্মতি জানান। মেজর জিয়া তখন বললেন, ইট ইজ গুড ফর দ্য নেক্সট সিরিয়াস গেম। এরপর আমাদের ইউনিটের অফিসার এবং সৈন্যদের উদ্দেশে জিয়াউর রহমান একটি বক্তৃতা করেন। বিদ্রোহের কারণসহ সবকিছু তিনি ব্যাখ্যা করেন। তিনি সবার কাছে জানতে চান তোমরা আমার সঙ্গে আছ কিনা। এ সময় উপস্থিত সবাই স্লোগান দিয়ে তাদের সম্মতির কথা জানাল। আমরা তখন আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের এখানে থাকা ঠিক হবে না। নাসিরাবাদে অবস্থিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবস্থান চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে মাত্র তিন মাইল দূরে। আমাদের হাতে তেমন কোনো অস্ত্র ছিল না। ক্যান্টনমেন্ট থেকে মর্টার শেল করলে আমরা সবাই মারা পড়ব। তাই কালুরঘাট যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো। ২৬ মার্চ ভোরে তখন ফজরের আজান হচ্ছিল, আমাদের যে অস্ত্রশস্ত্র ছিল তা নিয়ে আমরা কালুরঘাটের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। আমাকে নির্দেশ দেয়া হলো কর্ণফুলী নদীর উভয় তীরে আমরা অবস্থান নেব। আমাকে পূর্বদিকে অবস্থান নিতে বলা হলো। আমার সৈন্যরা রেডিও স্টেশন পাহারা দেবে। আমার ডানদিকে সৈন্য নিয়ে থাকবে লে. মাহফুজ এবং বামদিকে থাকবে লে. শমসের। ক্যাপ্টেন অলি দায়িত্ব পালন করবেন মেজর জিয়ার স্টাফ অফিসার হিসেবে। আমরা সাড়ে ৬টার দিকে কালুরঘাট এলাকায় চলে এলাম এবং অবস্থান নিলাম।
 
আজ মনে পড়ছে মেজর জিয়া সেদিন এভাবেই চলে এসেছিলেন। তিনি একবারের জন্যও বেগম জিয়ার খোঁজ করেননি। কালুরঘাট পৌঁছার পর তিনি আমাদের আবার ব্রিফ করলেন। তিনি বললেন, আমাদের বসে থাকলে চলবে না। ছোট ছোট অপারেশন অব্যাহত রাখতে হবে। এ সময় আরো কিছু বাঙালি অফিসার এবং সৈন্য আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন। একটি কথা এখানে বলা দরকার, আমরা বিদ্রোহ করার পর মেজর জিয়াউর রহমান এ ঘটনাটি আওয়ামী লীগ নেতাদের জানানোর জন্য মেজর শওকতকে চট্টগ্রাম শহরে পাঠান। চট্টগ্রাম শহর মেজর শওকতের খুব পরিচিত ছিল। মেজর জিয়া ছিলেন প্রচণ্ড মুভমেন্টের মধ্যে। তখন তিনিই আমাদের নেতা। তিনি নির্দেশ দিচ্ছিলেন আর ছুটে যাচ্ছিলেন একস্থান থেকে অন্যস্থানে।
 
এতবড় ঘটনা ঘটানোর পর আমরা আসলে বুঝতে পারছিলাম না বাইরে কি হচ্ছে। ইস্ট বেঙ্গলে অন্য কোথাও বিদ্রোহ হয়েছে কিনা, তাও আমরা জানি না। আমরা সারাদেশে কতটুকু সমর্থন পাচ্ছি তাও আমাদের জানা ছিল না। এজন্য মেজর জিয়া তখন সিদ্ধান্ত নিলেন এ ঘটনা দেশবাসী এবং বহির্বিশ্বকে জানাতে হবে। তিনি কালুরঘাট রেডিও স্টেশনে চলে গেলেন। তিনি নিজেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। নিজের নামেই ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার। প্রথমবার তিনি ইংরেজিতে নিজের তরফে বলেছেন, ‘I Major Ziaur Rahman, do hereby proclaim the Independence of Bangladesh.”
 
তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে আন্তর্জাতিক সহায়তা চান। পরে তিনি এ ঘোষণা কিছুটা সংশোধন করে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি এখানে উল্লেখ করেন, ‘আওয়ার গ্রেট লিডার শেখ মুজিবুর রহমান ইজ উইথ আস।’ কারণ স্বাধীনতার এ ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারত। এভাবেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হলো। মেজর জিয়া এ ঘোষণা বাংলায়ও দিয়েছিলেন। বাংলায় ছিল, ‘আমি মেজর জিয়া বলছি…।’ পরবর্তী সময়ে লে. শমসের মবিন চৌধুরী মেজর জিয়াউর রহমানের এই ঘোষণা চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বারবার প্রচার করেন। মেজর জিয়াউর রহমানের এ ঘোষণার ফলে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি ঘুমন্ত মানুষ যেন হঠাৎ জেগে উঠল। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সর্বত্র তখন মানুষ জানতে পারল আমরা কোথায় আছি। বহির্বিশ্ব জানতে পারল বাংলা আমরা কোথায় আছি। বহির্বিশ্ব জানতে পারল বাংলাদেশ নামে এক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। সে দেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান নামে এক সামরিক অফিসার স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। মেজর জিয়াউর রহমানের এ ঘোষণা ছিল বিরাট বিচক্ষণতার পরিচায়ক। ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর দুটি বিমান হামলা চালিয়ে বেতার কেন্দ্র ধ্বংস করে দেয়।
 
অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙ্গালী অফিসার এবং সৈন্যদের নিয়ে ২৫ মার্চ রাতে বিদ্রোহ ঘোষণা এবং পরবর্তী চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার মতো দুঃসাহসিক কাজের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান রনাঙ্গনে যে ভুমিকা পালন করেন তা ছিল অনন্য। জিয়াউর রহমানের নামেই গঠন করা হয় জেড ফোর্স। তিনি ছিলেন জেড ফোর্সের কমান্ডর। যুদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়ন, ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি জিয়াউর রহমান অনেক অপারেশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। এখানে জেড ফোর্স সম্পর্কে দু’একটি কথা বলা দরকার। জেড ফোর্সের অধীনে তিনটি ব্যাটালিয়ান ছিল; ফার্স্ট বেঙ্গল, থার্ড বেঙ্গল এবং এইট বেঙ্গল এটা ছিল একটি ব্রিগ্রেড। সাধারণভাবে একটি বিগ্রেডে যে ধরণের অস্ত্র সস্ত্র ও সুযোগ-সুবিধা থাকে তা এখানে ছিল না। কনভেনশনাল বিগ্রেড যেভাবে শক্তিশালী হয় এটা তেমন ছিল না। কোনো আর্টিলারি ছিল না, ছিলনা কোনো আর্মার্ড গাড়ি। পদাতিক বাহিনী হিসেবে কিছু সৈন্য ও মুক্তি বাহিনীর কিছু সদস্য ছিল এখানে। যুদ্ধ শুরুর পর রামগড়ে পাক বাহিনীর সঙ্গে আমাদের বড় ধরণের মোকাবেলা হয়। রামগড়ের যুদ্ধের পর আমরা ভারতের মেঘালয়ে চলে যাই। সেখান থেকেই শুরু করা হয় অপারেশন। আমরা সীমান্তে এসে পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে আবার ফিরে যেতাম। এসময় অনেকগুলো অপারেশন চালানো হয়। এখানে বাহারুরাবাদ ও নকশীর অপারেশনের কথা উল্লেখ করতে পারি। এই দুই অপারেশনে জিয়াউর রহমান সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এছাড়া অন্যান্য অপারেশনের মূল পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি অপারেশনের আগে ব্রিফ করতেন জিয়াউর রহমান। এক কথায় বলা যায়, অপারেশনগুলোর মুল তদারকির দায়িত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে অর্থাৎ নভেম্বর মাসে আমরা সিলেটের আলীনগর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। এরপর শ্রীমঙ্গলে পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে আমাদের এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান। যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ বলি, যুদ্ধ পরিকল্পনার কথা বলি বা যুদ্ধ তদারকির কথাই বলি সব কিছু বিচারে জিয়াউর রহমান ছিলেন রণাঙ্গনের এক সাহসী যোদ্ধা।
একটি কথা আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, মেজর জিয়া কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর আগে ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ৩টায় তিনি অষ্টম বেঙ্গল ইউনিট লাইনে আমাদের নিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। তারও আগে ২৫ মার্চ রাত ১১ টায় তিনি দেওয়ানহাট রেলওয়ে ওভারব্রিজের সামনে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছিলেন। এসবের প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি।”
 
কিন্তু জিয়া কেনো পাকিস্তানের সাথে বিদ্রোহ করতে গেলেন? কিসের বলে এবং কোন্ ভরসায় জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণার উপস্থিত সিদ্ধান্ত (মঈদুল হাসানের ভাষায়) নিতে পারলেন? মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণে একটা সিগনাল ছিলো বটে, কিন্তু তৎপরবর্তী তিন সপ্তাহ কেটেছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ‍মুজিব-ইয়াহিয়া নিস্ফল আলোচনায়। এ সময় হানাদাররা অস্ত্রে ও সংখ্যায় বেড়েছে, পিন্ডিতে সিদ্ধান্ত হয় পূর্ববাংলায় আক্রমন করা হবে। অথচ আক্রমনের আগাম খবরটি মুজিব জেনেও ক্ষমতার দেনদরবার অব্যাহত রাখেন (সূত্র: জ্যোতি সেন গুপ্ত)। জাতিকে কোনো প্রকার নির্দেশনা না দিয়েই অন্ধকারে রেখে হানাদারদের হাতে নিজে ধরা দিলেন, তার লোকদের পালিয়ে যেতে বললেন। মুজিবের এ আত্মসমর্পনের উদ্দেশ্য অবশ্যই স্বাধীনতা লাভ নয়, বরং জনগনের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতা প্রাপ্তি। একথা আজ প্রমানিত যে, ৭ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা হলে কোনো প্রকার রক্তপাতে ছাড়াই দেশের স্বাধীনতা পাওয়া যেতো। কেননা তখনও পূর্ববাংলায় মাত্র ১২ হাজার পশ্চিমা সৈন্য ছিল। স্বাধীনতা ঘোষনার রাজনৈতিক নির্দেশ পেলে বেঙ্গল রেজিমেন্ট সহজেই তাদের পরাভূত করতে পারতো। আর তাহলে ৩০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ব্যতিরেকেই দেশটি স্বাধীন হতো। রাজনৈতিক নেতারা যখন জনগনের দাবী ‘স্বাধীনতা’র মর্মটি বুঝতে ব্যর্থ হলেন, তখন একজন সৈনিক হয়েও জিয়া ঠিকই বুঝে নিয়েছিলেন জনগনের আকাঙ্খা – “বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো- বাংলাদেশ স্বাধীন করো।” স্বাধীনতার ডাকটি যে রাজনৈতিক নেতা থেকে আসার কথা ছিলো, তিনি তা না দিয়েই আপোষরফার হেফাজতে গেলেন, তখন বাঙ্গালী জাতি “অপারেশন সার্চলাইটে”র আঘাতে ক্ষত বিক্ষত। সেই শূন্যাবস্থায় দেশ মুক্ত করতে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করার দুঃসাধ্য কাজটি করতে এগিয়ে আসলেন ৩৬ বছরের যুবক জিয়া। যার টানে তিনি এ কঠিন কর্তব্যটি করলেন, তার নাম ‘দেশপ্রেম’ এবং ‘মানুষের প্রতি ভালোবাসা।’
 
প্রশ্ন উঠতে পারে জিয়ার ঘোষনাটি বৈধ ছিল কিনা? রাষ্ট্র বিজ্ঞানের সূত্র মোতাবেক, যে বিপ্লব বা যুদ্ধে বিজয়ী হয়, তার সব কিছুই বৈধ। যদিও জিয়া নির্বাচিত কেউ ছিলেন না, তথাপি জনগনের জান মাল রক্ষায় এবং দেশের বৃহত্তর স্বাধীনতার জন্য জিয়ার উপস্থিত ঘোষণায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় দেশবাসী, এবং সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করায় জিয়ার ঘোষণা এবং ২২ দিনের অস্থায়ী সরকারও বৈধতা পেয়েছে। অবশ্য ১১ এপ্রিলের বেতার ভাষণে জিয়া অস্থায়ী সরকারের সমর্থন দিয়েছিলেন তাজউদ্দীন অাহমেদ- চট্টগ্রামে জিয়ার ঘোষিত সরকার ও অপরাশেনাল বেস থেকে স্বাধীন এলাকা গুলি শাসিত হচ্ছে। তখনকার সেই পরিস্থিতিতে এর চেয়ে অধিক আর অনুমোদনের সুযোগ ছিল কি? রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনেক ধরনের মতামত থাকলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী Jean-François Thiriart এর মতে, একজন পলিটিক্যাল সোলজার জাতীয় সংগ্রামের জন্য নিজের সময় এবং শক্তি খরচ করতে পারে। কাজেই সৈনিক জিয়ার রাজনৈতিক ভুমিকা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শুদ্ধ।
 
জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা নিজে আজ আওয়ামলীগ বিতর্ক করে অথচ তারা ভুলে থাকতে চায় ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে রাখা সেই ইতিহাস- “Yahya Khan left Daca abruptly on 25 March 1971 and Tikka Khan let loose his reign of terror the same night. The next day, while the whereabouts of Mujib remained unknown, Major Ziaur Rahman announced the formation of the Provisional Government of Bangladesh over Radio Chittagong” অর্থাৎ মুজিবের নিখোঁজ অবস্থায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়া দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন। এর বিপরীতে, যুদ্ধ চলাকালেও আওয়ামীলীগের নেতাদের প্রত্যাশা ছিল, “পশ্চিমের সাথে আপোষরফা হয়ে যাবে, এবং ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।” (সূত্র: অলি আহাদ, জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫)। বাস্তবে যদি তাই ঘটত, তবে এই বিদ্রোহী ১১ হাজার সেনার কি উপায় হবে, এটা কল্পনা করা যায়? চট্টগ্রাম সেনা বিদ্রোহের গুরুত্ব এবং ঝুকি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের রাজনৈতিক সচিব মঈদুল হাসান তরফদার মূলধারা:৭১ গ্রন্থে লিখেছেন, ”মেজর জিয়ার ঘোষণা এবং বিদ্রোহী ইউনিটগুলির মধ্যে বেতার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হবার ফলে এই সব স্থানীয় ও খন্ড বিদ্রোহ দ্রুত সংহত হতে শুরু করে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত হবার বিষয়টি এদের জন্য মুখ্যত ছিল অপরিকল্পিত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং উপস্থিত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এই যুদ্ধের রাজনৈতিক উপাদান সম্পর্কে এদের অধিকাংশের জ্ঞানও ছিল সীমিত। তবু বিদ্রোহ ঘোষণার সাথে সাথে পাকিস্তানী বাহিনী সীমান্ত পর্যন্ত এমনভাবে এদের তাড়া করে নিয়ে যায় যে এদের জন্য পাকিস্তানে ফিরে আসার পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়। হয় ‘কোর্ট মার্শাল’ নতুবা স্বাধীনতা – এই দু’টি ছাড়া অপর সকল পথই তাদের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে। এমনিভাবে পাকিস্তানী আক্রমণের এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাধীনতার লড়াইয়ে শামিল হয় প্রায় এগারো হাজার ইবিআর এবং ইপিআর-এর অভিজ্ঞ সশস্ত্র যোদ্ধা – কখনও কোন রাজনৈতিক আপোস-মীমাংসা ঘটলেও দেশে ফেরার পথ যাদের জন্য ছিল বন্ধ, যতদিন না বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানীরা সম্পূর্নরূপে বিতাড়িত হয়।”
 
জিয়ার স্বাধীনতার এই ঘোষণা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের রাজনৈতিক সচিব মঈদুল হাসান বলেন, “অন্যের কথা কী বলব, মেজর জিয়ার বেতার ঘোষণা শুনে আমি নিজে মনে করেছিলাম যে—না, সত্যি তাহলে সামরিক বাহিনীর বিপুল সংখ্যক লোক বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। এটা আমার মনে বিরাট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং আমি উৎসাহিত বোধ করি। আমি আশপাশে যাদের চিনতাম, তারাও এই ঘোষণায় উৎসাহিত হন। সুতরাং জিয়ার সেই সময়টুকুর সেই অবদান খাটো করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এস আর মির্জা বলেন, ২৫ মার্চের পর আমি সব সময় রেডিও সঙ্গে রেখেছিলাম। এম এ হান্নান সাহেবের ঘোষণাটি আমি শুনিনি। ২৭ মার্চ বিকালে পরিস্কার শুনলাম, বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। এই ঘোষণা শুনে আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম এই ভেবে যে—হ্যাঁ, এখন মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে। কারণ, তাদের সঙ্গে বাঙালি সেনারাও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। চট্টগ্রামে মেজর জিয়া যেভাবে বিদ্রোহ করলেন : একাত্তরের ২৫ ও ২৬ মার্চের মধ্যরাতে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণার সেই ঐতিহাসিক ঘটনা জিয়াউর রহমান নিজেই লিখে গেছেন তার অবিস্মরণীয় লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধে। এটি দৈনিক বাংলায় ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস সংখ্যায় প্রকাশিত হয় “
 
শেখ মুজিবের ৪র্থ পুত্রের দাবীদার বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ২০১১ সালের ২ এপ্রিল জানান দেন, “আমি চট্টগ্রাম থেকে জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনেছি এবং উৎসাহিত হয়েছি। আজ যারা এ বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন তারাও শুনেছেন এবং উৎসাহিত হয়েছেন। এখন এ বিষয়টিকে তারা ভিন্নভাবে দেখছেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা বঙ্গবন্ধুর নামে দিয়েছিলেন। আমি বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে মনে করি না। আর স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করতে পারি না” (সূত্রঃ শীর্ষ নিউজ ২ এপ্রিল ২০১১)। তার এ বক্তব্যে আওয়ামীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমালোচনা উঠে। এর জবাবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আবারো লিখেন, “বঙ্গবন্ধুর হাজারো বক্তৃতা বিবৃতি আছে, তার কণ্ঠে হাজারো ঘোষণা আছে। কিন্তু ও রকম বাংলা-ইংরেজিতে কোনো কিছু আছে কি? নেই। ……জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে যে ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রচারিত হয়েছে, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর পাশে বসে শুনেছি, তাতে যদি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক হয়, তারা লাভবান হয়, আমার কিছু করার নেই। আমি যা শুনেছি তা অস্বীকার করতে পারব না। যারা আওয়ামী লীগ করেন, তারা অস্বীকার করতেই পারেন” (সুত্রঃ দৈনিক আমার দেশ, ৫ এপ্রিল ২০১১)।
 
জিয়ার ঘোষণা এবং যুদ্ধ সম্পর্কে ১১ এপ্রিল ১৯৭১ তাজউদ্দিন আহমদ বেতার ভাষণে বলেছেন, “first announced through Major Zia Rahman, to set up a fullfledged operational base from which it is administering the liberated areas” (Bangladesh Document vol-I)
 
১৯৭৪ সালের সালে মুজিবের শাসনের চরম অবস্থায় স্বাধীনতা যুদ্ধের বরি সেনানীরা যখন একে একে তিরস্কৃত (তাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, দলীয় সেক্রেটারীর পদ থেকে অপসারিত) সেই দুর্যোগমত সময়ে সেনাবাহিনীর ডেপুটি চীফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দৈনিক বাংলায় লিখলেন___“তারপর রিং করলাম বেসামরিক বিভাগে টেলিফোন অপারেটরকে। তাকে অনুরোধ জানালাম- ‘ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট, কমিশনার, ডিআইজি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের জানাতে যে, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটেলিয়ন বিদ্রোহ করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করবে তারা। এদের সাথে আমি টেলিফোন যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু কাউকে পাইনি। তারা অনুরোধ রক্ষা করতে রাজী হলো। সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটেলিয়নের অফিসার, জেসিও আর জোয়ানদের ডাকলাম এবং তাদের নির্দেশ দিলাম সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। তারা সর্বসম্মতিক্রমে হৃষ্টচিত্তে এ আদেশ মেনে নিলো। আমি তাদের একটা সামরিক পরিকল্পনা দিলাম। তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট, ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সাল। রক্তের আঁখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটি ক্ষণ। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখতে ভালোবাসবে। এই ক্ষণটিকে তারা কোনদিন ভুলবে না, কোন দিন না।”
 
বাংলাদেশের জনগন ভোলেনি মেজর জিয়ার কথা। বাংলাদেশে যতদিন বাঁচবে, ততদিন পালন করবে জিয়ার সেই ২৬ মার্চ- স্বাধীনতা দিবস।। লাল সালাম।।
 
[তাজউদ্দীনের উচ্চারিত ষ্টালিনগ্রাড সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক। মস্কো থেকে ৫৬২ মাইল মাইল দক্ষিন পূর্বে ভলগা নদীর তীরে ষ্টালিনগ্রাড একটি প্রাচীন নগরী, বর্তমান নাম ভলগোগ্রাড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জার্মানীর কাছে সোভিয়েত রাশিয়ার পতন যখন অত্যাসন্ন, সে সময় স্টালিনগ্রাদ শহরের পতন হলেই জার্মান বাহিনী মস্কো দখল করতে সক্ষম হতো। এমন পরিস্থিতিতে সোভিয়েত লালফৌজ স্টালিনগ্রাদে এসে শেষ রক্ষাব্যূহ তৈরি করে। এই যুদ্ধের সেনাপতি ছিলেন মার্শাল ভরোশিলভ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট স্টালিন স্বয়ং স্টালিনগ্রডের যুদ্ধক্ষেত্রে ভরোশিলভের সঙ্গে সেনাধিপত্য গ্রহণ করেন। ২৩ আগস্ট ১৯৪২ রাশিয়া জার্মানের মধ্যে শুরু হয় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সর্বাধিক ভয়াবহ যুদ্ধ। শহরের প্রতি ইঞ্চি ভূমির জন্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। লাল ফৌজ ও নাৎসি সৈন্যদের হাতাহাতি যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া তথা লাল ফৌজের বিজয় হয়। উভয় পক্ষে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষ। এ যুদ্ধ বিজয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ভাগ্য ঘুরে যায়। ক্রমাগত জয়ের বদলে জার্মান নাৎসি সৈন্যদের পতন শুরু হয়। ফলে গোটা পৃথিবী রেহাই পায় নাৎসিবাদের থাবা থেকে।]
Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.