নেতৃত্বের ব্যর্থতা সত্ত্বেও সুপ্রীম কোর্ট বারে বিএনপির বিশাল বিজয়: উচ্ছাস এবং সংশয়!

সুপ্রিম কোর্ট বারে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরে দু’জনের আলাপ-
বেগম জিয়ার মামলা সংক্রান্ত কাজের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে একটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে। স্মৃতি বলে, বিগত ২৫/৩০ বছর আইনজীবী সমিতি, বার কাউন্সিল এবং সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিল সব সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দখলেই ছিল, সব সময়ই তারা নির্বাচিত হয়েছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের গত দশ বছরের শাসনকালেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাই বারবার নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে-
১/ এর ফলে বিএনপিপন্থী বা বিএনপি কিংবা বিএনপি’র সমমনা দলের কি কি উপকার হয়েছে?
২/ বার কাউন্সিল কি আইসিটি মামলায় টবি ক্যাডম্যানকে মামলা পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছিল? (সেই বার কাউন্সিলে কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সমর্থিতরাই নির্বাচিত ছিলেন) । এই বার কাউন্সিল কি লর্ড কার্লাইলকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মামলা পরিচালনার অনুমতি দেবে?
৩/ বার কাউন্সিল কি সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আদালত থেকে কোন রায় আনতে পেরেছে?
৪/ বাংলাদেশের আদালতে যে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না এবং আদালতগুলো যে সরকারের নির্দেশ নগ্নভাবে পালন করছে, সেই বিষয়গুলো কি বার কাউন্সিলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে পেরেছেন?
 

জবাবঃ
বার সমিতি এবং বার কাউন্সিল দুটো আলাদা বিষয়।
দেশে আ্ইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বা বিচার বিভাগের প্রতি জনগনের আশা আকাঙ্খার পূরনের লক্ষে সর্বোচ্চ আদালতের বার  সমিতির যে গুরু দায়িত্ব পালনের কথা ছিল, সাম্প্রতিককালে তা পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি এই বার সমিতি। বরং তাদের কাছ থেকে যে ধরণের কর্মসূচি এবং সিরিয়াস কিছু আশা করেছিল দেশের মানুষ, লজ্জাকরভাবে তা করতে ব্যর্থ হয়েছে বার সমিতির নেতারা। অথচ তাদের উপরে আস্থা রেখে বার বার ভোট দেয় সাধারন ভোটাররা।
বার সমিতির ব্যর্থতার নানাবিধ কারনের মধ্যে অন্যতম হলো নেতারা তাদের কোটারি স্বার্থ ত্যাগ করে ক্যাচালে সাহসী হয়নি।
বারের নেতাদের অনেক ধরনের ব্যবসা আছে। এর মধ্যে জামিনের কোটা একটা বিরাট বিষয়। তাছাড়া জজদের সাথে ইন্টারনাল এরঞ্জমেন্ট আছে। এসব বাদ দিয়ে দলের জন্য কিছু করতে যাবে কেনো?
নির্বাচনে কেউ কেউ কোটি টাকার বেশি খর্চ করে। এর ১০/২০ গুণ তুলে নেয় তারা। সরকারের অনুগত প্রধান বিচারপতি বা দলবাজ বিচারকদের সাথে লাগতে গিয়ে তারা এসব সুযোগ নষ্ট করবে নাকি?
আইনজীবী ভবন বরাদ্দ নিয়ে তারা ব্যাপক দুর্নীতি করেছে, তা নিয়ে সাধারণের মধ্যে অনেক ক্ষোভ ছিল। অনেক জাতীয়তাবাদী ত্যাগী আইনজীবীকে তারা রুম দেয় নাই। কিন্তু পয়সা নিয়ে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের ভালো ভালো রুম দিয়েছে। তারপরও এবার তাদেরকে ভোট দিয়েছে! ভাবা যায়?
 

অন্য দিকে কাউন্সিলে পদাধিকারবলে সভাপতি এটর্নি জেনারেল। মাহবুবে আলমের সময়ে বিদেশী ল’ইয়ার সুযোগ দিবে – এটা আশা করা বৃথা! তাছাড়া গতবারের বার কাউন্সিল তো রীতিমত ডাকাতি করে নিয়েছে হাসিনা। এসব বিষয়ে যে ধরনের রোল প্লে করা দরকার ছিল বার সমিতি তা দেখাতে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল।
তাহলে এই বিজয়ে আমাদের এত উচ্ছাসের কি আছে ভাই? 😞
ভাইরে তারপরেও নির্বাচন বলে কথা। কাজ না দেখাতে পারুক, এটলিস্ট মুখ রক্ষার চেষ্টা আর কি। বিপক্ষ দল জিতলে তো জমিনে শেয়ায়ে ফেলত। অন্তত তা থেকে পিঠ রক্ষা আর কি।
তবে আইনের শাসন থাকলে বা হাসিনার স্বৈরশাসন না হলে চেহারা ভিন্ন থাকত। জয়নাল খোকনকেই তো এরেস্ট থেকে বাঁচতে নানা কিছু করতে হয়েছে। এটা একটা সার্বিক দুরাবস্থা।
এখানে যদি ঠিক মত লীডারশিপ থাকত, যেমন মাইনুল হোসেন বা কামাল হোসেন টাইপের, তাহলে এই অঙ্গন থেকে পটপরিবর্তন করে ফেলত।
৫৪ ভোটে সভাপতি বিজয়- যাস্ট কানের কাছ দিয়ে গেছে! তবুও ১০-৪ ঐতিহাসিক বিজয় আইনিজীবিদের ক্ষোভ এবং গণবিপ্লবের আলামত। এত ব্যর্থতার পরেও আইনজীবিরা তাদের উপর আস্থা রেখেছেন। এবারে এই সেন্টিমেন্ট ক্যাশ করতে পারলে হয়। লীড দেয়ার সময়- দেখানোর সময় এবার।

 

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.