বিজেপির কাছে পাত্তা না পেয়ে ভারতীয় পতাকা গলায় দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতারা কংগ্রেসের দরবারে!

সামনে বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন। এরপরেই নির্বাচন ভারতে। দু’দেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে আন্তঃরাষ্ট্রীয় কূট-রাজনীতি। এরই অংশ হিসাবে বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফরে যাওয়ার কথা ছিল ১০ মার্চ। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাধারন সম্পাদক রাম মাধবের আমন্ত্রণে আওয়ামীলীগের  সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের হাইপাওয়ার টিমে আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধরকেদের অনেকেই ছিলেন। কিন্তু এরই মাঝখানে বাংলাদেশে ঘটে গেছে অনেক ঘটনা। বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করা হয়েছে, যা দেশের গোটা রাজনীতিকে ওলট পালট করে দিয়েছে, এমনকি বহির্দেশীয় সম্পর্ক। এমনি কোনো এক অজ্ঞাত কারনে আওয়ামীলীগের সফরটি বাতিল করে দেয় বিজিপি। শুধু তাই নয়, দাওয়াত প্রত্যাহার করে নেয় রাম মাধব। ফলে চোখে সর্ষে ফুল দেখে আওয়ামীলীগ। উপায়ান্তর না পেয়ে তাদের মুরব্বী প্রণব মুখার্জির স্মরণাপন্ন হন শেখ হাসিনা। অবশেষে কংগ্রেসের আমন্ত্রনে আওয়ামীলীগের তিন সদস্য আবদুর রাজ্জাক, দীপু মনি, বিপ্লব বড়ুয়া ভারত যান। ভারতীয় পতাকা গলায় পড়ে তারা সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সাথে।

অন্যদিকে বিজেপির বাতিল হওয়া আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাদের ভারত যাওয়ার কথা ছিল, তার মধ্যে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মিছবাহউদ্দিন সিরাজ, একেএম এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মির্জা আজম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, সদস্য মির্জা আজম গং। সফরটি বাতিল হওয়ায় দলটির মধ্যে নেমে এসেছে প্রবল হতাশা।

দু’দেশের ক্ষমতাসীনরা যার যার নির্বাচন নিয়ে টেনশন থাকলেও এক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি অনেকেটাই টেনশন ফ্রি। অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ আছে শতভাগ টেনশনে। অবৈধভাবে এক দশক ক্ষমতা ধরে রাখার পরে এবারে ক্ষমতা হারানোর দ্বারপ্রান্তে। দেশে পরিচালিত কোনো জরিপেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জন্য কোনো সুখবর নাই। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর যার সংক্ষিপ্ত নাম ডিজিএফআই, তাদের গোয়েন্দা রিপোর্টে বলছে, নির্বাচন হলে ৩৩ আসন পেতে পারে আওয়ামীলীগ, অন্রদিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)র  রিপোর্ট বলছে ২৮ সিট পেতে পারে আ’লীগ। আওয়ামীলীগের অংগসংগঠন ছাত্রলীগ পরিচালিত অনুসন্ধান শেষে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাখিল করা রিপোর্টে বলেছে, সর্বোচ্চ ৪০টি আসন পেতে পারে এই দল। অন্যদিকে ভারতীয় গণ মাধ্যমে একধিকবার প্রকাশ করা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পরাজিত হবে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে ৭৫টির মত আসন পেতে পারে আওয়ামীলীগ। আর এসব খবর ভারতের ক্ষমতাসীনদের কাছে আছে বলেই তারা আওয়ামীলীগের ওপর থেকে মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে মর্মে সূত্রে প্রকাশ।

নিরূপায় আওয়ামীলীগ আবার ফিরে গেছে তাদের মাদার প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসের কাছে।

Facebook Comments