কাজী আরেফ হত্যার মূল নির্দেশদাতা ইনু হাসিনার মন্ত্রী!

কাজী আরেফ আহমেদ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যারা নিরন্তর কাজ করে গেছেন , তাদেরই অন্যতম প্রধান সংগঠক। ষাটের দশকের শুরু থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত গণ মানুষের মুক্তির সংগ্রামে কাজ করে গিয়েছেন কাজী আরেফ আহমেদ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত গোপন সংগঠন “স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ” (নিউক্লিয়াস)’র শীর্ষ তিন সদস্যের একজন ছিলেন তিনি। কাজী আরেফ বি.এল.এফ বা “মুজিব বাহিনী”র প্রধানও ছিলেন। ১৯৭১-এর মার্চের শুরুতেই জাতীয় সংগীত নির্ধারণেও অগ্রণী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শেখ হাসিনার আমলে ১৯৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর স্কুল মাঠে দলীয় জনসভায় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে জাসদ সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫ জাসদ নেতা খুন হন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠক কাজী আরেফকে হত্যা করার জন্য কুষ্টিয়াতে কয়েকজন দলীয় সন্ত্রাসীকে ভাড়া করে অস্ত্রসহ রেডি করে রেখেছিল তারই সাধারন সম্পাদক হাসানুল হক ইনু। ঐ দিন ঢাকা থেকে যাত্রা করার পরে প্রতি আধ ঘন্টা পর পর কাজী আরেফের স্ত্রী রওশন জাহান সাথীর কাছে হাসানুল হক ইনু ফোনে জানতে চান কাজী আরেফের অবস্থান কোথায়। রওশন যখনই আরেফের অবস্থান জানতে পারতেন, তা হাসানুল হক ইনুকে সহজ সরল মনে টেলিফেনে জানিয়ে দিতেন। কিন্তু রওশন জানতেন না ওই দিন এত খোঁজ নেয়ার পিছনে রহস্য হলো কাজী আরেফকে হত্যা করা!

আরেফ হত্যার কারণ – জাসদ ২ ভাগ হয়ে যাবার পর এক অংশে মোহাম্মদ শাহজাহান সভাপতি আর সেক্রেটারি আ স ম আব্দুর রব, অন্য অংশে কাজী আরেফ সভাপতি এবং সেক্রেটারি হাসানুল হক ইনু। কিন্তু ইনুর বেশ কিছু কাজে একমত হতে পারতেন না কাজী আরেফ, এমনকি ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর সাথে বেশি যোগাযোগ দেখে হাসানুল হক ইনুকে এক সময় কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিলেন কাজী আরেফ। অবশেষে পথের কাঁটা সরিয়ে দেবার জন্য সন্ত্রাসী দিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে কাজী আরেফকে হত্যা করে হাসানুল হক ইনু। এরপরে ধীরে ধীরে জাসদের পুরো দায়িত্ব চলে আসে ইনুর হাতে। সে এখন জাসদের সভাপতি এবং হাসিনার গোয়েবলস তথ্য মন্ত্রী!!

হত্যায় অংশ নেয়া ঝন্টুর ভাই বোন কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবে প্রেস কন্ফারেন্সে জানায়, কাজী আরেফকে দৌলতপুরের জনসভায় হত্যা করার জন্য হাসানুল হক ইনু সন্ত্রাসী ভাড়া করে। এর মধ্যে নুরুজ্জামান লাল্টুকে দেয়া হয় দু ‘টি এসএমজি, গুলি ও ৫ লাখ টাকা। কাজী আরেফ আহমেদের জনসভার ৩ দিন আগে অস্ত্র, গুলি ও ৫ হাজার টাকা নিয়ে আসে মান্নান, হাবলু, রওশন ও বাচ্চু নামের ৪ জন চরমপন্থী। কাজী আরেফের জনসভাস্থলের পাশেই ঘটনার দিন নুরুজ্জামান লাল্টুর নির্দেশে ঝন্টুসহ আরও কয়েকজন একটি তামাকের ক্ষেতে আত্মগোপন করে ছিল। মান্নান, রওশন ও বাচ্চু ওই তামাক ক্ষেতে গিয়ে ঝন্টুদের বলে ‘অ্যাটাক কর।’ দলের শীর্ষ নেতার নির্দেশ না মানলে জীবন যাবে- এ ভয়ে ঝন্টু ও তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন এগিয়ে যায় মঞ্চের দিকে। মঞ্চের সামনে থাকা এলাচ মণ্ডল, রওশন, মিলিটারি, রফা, নজরুল ও জাহান বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করে। তখনও কাজী আরেফ আহমেদের গায়ে গুলি লাগেনি। তিনি মঞ্চের নিচে পড়ে গিয়েছিলেন। ওখান থেকেই তিনি বলেছিলেন, তোমরা আমাদের মারছো কেন?’ এরপর খুব কাছ থেকেই কাজী আরেফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে সবাই মোটর সাইকেলযোগে এলাকা ত্যাগ করে।

কাজী আরেফের স্ত্রী রওশন জাহান সাথীর অক্লান্ত চেষ্টায় আওয়ামীলীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, সিরাজুল আলম খান দাদা ভাই এবং আরো ২/৩ জনের চাপে কাজী আরেফের হত্যাকারী ইনুকে বিদেশ থেকে আসার পথে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গ্রেফতার করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু ঐ সময় মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে মাইন্ উদ্দিন খান বাদলের তৎপরতায় তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক তাদের কথা থেকে সরে আসেন। এরপর মাইন্ উদ্দিন খান বাদল জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে তাড়াহুড়া করে বিমান বন্দরে লাগেজ রেখেই ইনুকে নিয়ে আসেন। সেই যাত্রায় আর ইনুকে গ্রেফতার করা হয়নি।

ইতিহাসের নির্মম পরিহাসের শেষ দৃশ্য হলো – ইনুর চাপে জাসদে না থাকতে পারেনি কাজী আরেফের স্ত্রী রওশন জাহান সাথী। পরে ক্ষমতার লোভে যোগ দেন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি!

এ ছাড়াও ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ইনুর নির্দেশে জাসদ (রব) প্রার্থী মারেফত আলীকে হত্যা করা হয়। কারণ মারেফত আলী প্রার্থী না থাকলে ইনুর বিপক্ষে জাসদের কোনো প্রাথী থাকবে না। সেই মারেফত আলীর নামে এখন একটা কলেজ আছে কুষ্টিয়াতে। যদিও ১৯৯১ সালে ইনু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেল করে ৪ নম্বর হন।

১৯৭৫ সালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনা অফিসার হত্যার সাথে জড়িত ছিল এই ইনু। কর্নেল তাহেরের সাথে অভিযুক্ত হলেও ইনু ছাড়া পেয়ে যান।

বাংলাদেশের সকল সামরিক ক্যু-এর ক্যুদেতা এই ইনু। ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা অফিসার হত্যার সাথে জড়িত এই ইনু।

এত খুন করার পরেও ইনু আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি কারণ ইনু সবসময় ভারতীয় গোয়েন্দাদের ব্রাকেটের মধ্যে থাকে।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.