কুমিল্লায় বাস পোড়ানোর যে ঘটনায় খালেদা জিয়াকে জড়ানো হলো…..

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালত ঘোষিত কারাদন্ডের বিপরীতে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। কিন্তু মুক্তি দেয়া হয়নি। কারন হঠাৎ করে কুমিল্লার একটি মিথ্যা অভিযোগের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলায় আটকাদেশ দেখিয়েছে বিনাভোটের সরকার। এই মামলাটি এতদিন হাইকোর্টে স্থগিত ছিল, কিন্তু কয়েকদিন আগে চেম্বার জজের কাছে গিয়ে রহস্যজনক পদ্ধতিতে মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করিয়ে আনেন এটর্নি জেনারেল!
কি সেই মামলা?
 
বিএনপির অবরোধ চলাকালে ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ দিবাগত রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় আইকন পরিবহনের একটি বাস পেট্রলবোমা হামলা হয়, যাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ৭ জন এবং দগ্ধ হয় ২৩ জন যাত্রী। এই ঘটনায় বেগম খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামী করে মামলা দায়ের করে সরকারের পুলিশ। অথচ তার একমাস আগে থেকে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তাঁর কার্যালয়ে গৃহবন্দী। ‍পুলিশ ঐভবন ঘেরাও করে রাখে, কাউকে ঢুকতে বের হতে দেয়নি, এমনকি খাদ্যদ্রব্য ঢুকতে দেয়নি, গ্যাস পানি বিদ্যুত লাইন টেলিফোন লাইন কেটে দেয়, জ্যামার লাগিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। মোট কথা, কারাগারের চাইতেই ভয়াবহ খারাপ অবস্থায় রাখা হয়। এ অবস্থার মধ্যে ঘটে কুমিল্লার বাসে পেট্রল বোমাহামলার ঘটনার জন্য খালেদা জিয়াকে দায়ী করা হয়েছে। এখন বিষয়ে তখনকার ঘটনাবলী এবং খবর স্মরণ করা যাক:
“মাসখানেক ধরে চলা অবরোধে অনেক ঘটনা ঘটলেও বৃহৎ ৫টি পেট্রল বোমা হামলার ঘটনা জনগনকে ভাবিয়ে তুলেছে। এগুলো হল:
ঘটনা এক) ১৫ জানুয়ারী রাতে বিজিবি-র পাহারায় ঢাকা আসার পথে রংপুরের মিঠাপুকুরে খলিল পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে বোমা হামলায় ৫ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত।
 
ঘটনা দুই) ২৩ জানুয়ারী গ্লোরি পরিবহনের একটি বাস ঢাকা থেকে নরসিংদী যাওয়ার পথে রাজধানীর যাত্রাবাড়ির কাঠের পুলের কাছে পেট্রল বোমায় আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন অগ্নিদগ্ধ। আহত একজনের বরাত দিয়ে কালেরকন্ঠ প্রকাশ করে, ঘটনার সময় পাশে দাড়িয়ে ছিল একটি পুলিশের গাড়ি, যা পরে ব্যবহার হয় আহতদের হাসপাতালে নিতে।
 
ঘটনা তিন) ৩ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকার পথে আইকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় পেট্রল বোমা হামলায় আক্রান্ত হয়। এতে ঘটাস্থলেই নিহত হয় ৭ জন এবং দগ্ধ হয় ২৩ জন যাত্রী। কুমিল্লার পুলিশ সুপারের ভাষ্যমতে, বাসটি ১১০ কিলোমিটার বেগে চলছিল। একজন আহত যাত্রীর সাক্ষাৎকারে ৭১ টিভি প্রকাশ করে, হামলার পরপরই তিনি পাশে পুলিশ দেখেছেন, কিন্তু তারা কোনো প্রকার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। টিভির জনপ্রিয় আলোচক সাবেক এমপি মেজর আকতারউজ্জামান তার সেনাবাহিনী লব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাখ্যা করেন, ১১০ কিলোমিটার বেগে চলন্ত গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করা কোনো সাধারন মানুষের হাত দ্বারা সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা সাবেক আমলা এইচ টি ইমাম বলেছেন এটা সামরিক বাহিনীর নিখূঁত কাজ, যাতে ব্যবহার করা হয়েছিল ফসফরাস! (তিনি জানলেন কি করে?)
 
ঘটনা চার) ৬ ফেব্রুয়ারী রাত ১১টায় গাইবান্ধায় পুলিশ-ম্যাজিষ্ট্রেটের পাহারায় চলমান নাফু পরিবহনের একটি বাসে পেট্রল বোমা হামলায় অগ্নিদগ্ধ ৫ জন নিহত, এবং আহত হয় আরো ৩০ জন।
 
ঘটনা পাঁচ) ৭ ফেব্রুয়ারী রাত পৌনে ১১ টায় ময়মনসিংহ শহরের টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের সামনেই যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলায় তিন যাত্রীর দগ্ধ হয়।
 
লক্ষণীয় যে, উল্লিখিত ৫টি পেট্রল বোমা হামলার প্রতিটি ঘটনায় আশে পাশে ছিল পুলিশ বাহিনী, কিন্তু কোনো দুস্কৃতিকারীকে হাতে নাতে পাকড়াও করতে দেখা যায়নি, এমনকি এক রাউন্ড গুলিও চালায়নি, যদিও এর প্রতিটি ঘটনা ছিল মারাত্মক ফৌজদারী অপরাধ।
 
যাত্রাবাড়ির বোমা হামলার পরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামী দেখিয়ে আরো ১৮ জন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার নামে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় কুমিল্লাতে ২টি মামলা হয়। চৌদ্দগ্রামের ঘটনার পরে ২টি মামলাতেও খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামী করা হয়। এর আগে সরকারী দলের নেতারা ঘোষণা দেন, খালেদা জিয়ার নামে হাজার হাজার মামলা হবে! সরকারের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়, বিএনপি ও ২০ দলের সন্ত্রাসীরা সারা দেশে পেট্রল বোমা হামলা করে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। অন্যদিকে, বিএনপি দাবী করেছে, সরকার তার এজেন্ট দিয়ে পেট্রল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করিয়ে দোষ চাপাচ্ছে ২০ দলীয় জোটের উপর।
 
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজেও প্রেস রিলিজ দিয়ে বলেছেন, “মানুষের জীবন নিয়ে অপরাজনীতি আমরা করি না। এখন যারা ক্ষমতা আঁকড়ে আছে, তারাই অতীতে আন্দোলনের নামে যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে আগুন লাগিয়ে ডজন খানেক মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। লগি-বৈঠার তাণ্ডবে মানুষ হত্যা করে লাশের উপর নৃত্য করেছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় নিরপরাধ মানুষকে নৃশংস পন্থায় হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এর দায় চাপিয়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিরোধী দলকে দমন করার অপরাজনীতি ব্যর্থ হবে। বাংলাদেশের মানুষ এত বোকা নেই।”
 
চলমান বিরোধী দলের অবরোধের মধ্যেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল বোমাসহ, এমনকি গাড়িতে অগ্নিসংযোগকালে সরকারী দলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হাতে নাতে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু সরকারী দলের পরিচিতি প্রকাশ পাবার পরেই ওই সব নেতাকর্মীদেরকে পুলিশ ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
 
১) ৮ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনী এলাকার যুবলীগ কার্যালয় থেকে ১০টি পেট্রল বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। (শীর্ষ নিউজ, ৮ ফেব্রুয়ারী)
২) ৪ ফেব্রুয়ারী নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জের ছানাব এলাকায় ভুলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান হোসেনের একটি ঝুটের গোডাউনে বোমা বানানোর সময় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা রহমতউল্লাহসহ চারজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিস্ফোরণের ঘটনার পর পরই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতারা ঘটনাস্থলে এসে বিস্ফোরণের আলামত সরিয়ে ফেলেন। (যুগান্তর ৫ ফেব্রুয়ারী)
৩) ৪ ফেব্রুয়ারী রাত ১১টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নের কেসকি মোড় এলাকা থেকে পেট্রোল বোমাসহ মানিক ও বাবুল নামে দুই যুবলীগের নেতাকে আটক করে পুলিশ, কিন্তু পরে ছেড়ে দেয়। (শীর্ষ নিউজ ৪ ফেব্রুয়ারী)
৪) ৪ ফেব্রুয়ারী বুধবার দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়ার মিরপুরে পেট্রল বোমাসহ ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশ আটক করে। পরে অজ্ঞাত কারণে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। (আমার দেশ ৭ ফেব্রুয়ারী)
৫) ৩ ফেব্রুয়ারী রাতে র‌্যাবের অভিযানে চট্টগ্রামের টাইগার পাস রেলওয়ে কলোনী থেকে ৯টি পেট্রোল বোমা, ২টি ককটেল, ৭টি কিরিচ, ২টি রামদা, ৯টি লোহার পাইপ সহ ছয় ব্যক্তি আটক হয়। ঘটনার মূল হোতা মুন্না স্বীকার করে, সে নিহত যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির মুরাদের ছোট ভাই এবং সে নিজেও আ’লীগ করে। (ইত্তেফাক, ৪ ফেব্রুয়ারী)
৬) ২৫ জানুয়ারী ফেনী শহরের টেলিফোন ভবন থেকে ৭টি পেট্রোল বোমাসহ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবদুল করিমের ভাতিজা আজিম উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। (দিনকাল ২৫ জানুয়ারী)
৭) ১০ জানুয়ারী বেলা সোয়া ২টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে ৩টি হাতবোমা বিস্ফোরন হয়। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে হাতে নাতে গ্রেফতার হয় সাদিক নামে এক আ’লীগ কর্মী, যদিও পরে পুলিশ ছেড়ে দেয়। (যুগান্তর, ১১ জানুয়ারী)
৮) গত ১ জানুয়ারী রাত পৌনে ৮টার দিকে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে পেট্রল দিয়ে বাসে আগুন দেয়ার কালে ৩ ছাত্রলীগ কর্মী আটক হয়, যার মধ্যে ছিল জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সাজ্জাদ মোল্লা, ছাত্রলীগ কর্মী লিমন, ও রানা। এদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় পেট্রল ভর্তি দু’টি বোতল ও দিয়াশলাই। (বাংলাদেশ প্রতিদিন ২ জানুয়ারী ২০১৫)
৯) লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয় যে, পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হোসেনের নেতৃত্বে গত ১ জানুয়ারি রাতে লক্ষ্মীপুর মহিলা কলেজের সামনে যাত্রীবাহী সিএনজিতে পেট্রলবোমা হামলা চালানো হয়, যাতে মারা যায় ২জন। ওই পেট্রলবোমা হামলায় স্থানীয় দর্জি দোকান কর্মচারী ও যুবলীগ কর্মী পিচ্চি রুবেল, শামীম, মাসুদ ও জেলা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ হোসেন জয়সহ ১০ থেকে ১২ জন অংশ গ্রহন করে। (শীর্ষ নিউজ ৫ ফেব্রুয়ারী)
১০) ১০ ফেব্রুয়ারী দুপুর ৩টার বগুড়ায় ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণে সোহাগ (২২) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীর ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সোহাগ বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের বড়ধাওয়া গ্রামের সফিকুল ইসলাম সফিকের ছেলে এবং স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি গণি’র ভাতিজা। (শীর্ষ নিউজ)
 
লক্ষনীয় যে, ৪ ফেব্রুয়ারী নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রামে সরকারী দলের নেতাদের কাছে যে বিপুল পরিমানে পেট্রল বোমা পাওয়া গেছে, তা থেকে অনেকেই ধারনা করছেন, এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং কেন্দ্রীয় নির্দেশেই সরকারী দলের নেতাকর্মীরা সারা দেশে নাশকতায় লিপ্ত।
 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীলীগপন্থী অধ্যাপক আব্দুল মান্নান স্বীকারোক্তি করেছেন, পেট্রল বোমা সরবরাহকারী ছাত্রলীগ। দেশের বেসরকারী টেলিভিশন সময় টিভির ‘সম্পাদকীয়’ টকশোতে শুক্রবার রাতে তিনি অকপটে বলেন, ‘ছাত্রলীগের যাদের পেট্রোল বোমাসহ ধরা হয়েছে তাঁরা সোজা বাংলায় ব্যবসায়ী। এরা পেট্রোল বোমা বানায়, এবং বানিয়ে বিক্রি করে, ব্যবসা করে। মানুষ মারার কন্ট্রাক্ট নেয়, যে এইখানে বাসে বোমা মারলে এত টাকা। মানুষ মারলে এত টাকা।’
 
অন্যদিকে, মহাজোট সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী ভোট বিহীন সংসদের বর্তমান এমপি মাইনুদ্দিন খান বাদল ৭১ টিভি সংযোগ অনুষ্ঠানে ৬ ফেব্রুয়ারী জানান, ‘২০ দলের আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছে মহাজোট সরকার, এ ক্ষেত্রে যা যা করা দরকার সবই করতে সক্ষম হয়েছেন।’
চলমান অবরোধের মধ্যে পেট্রল বোমায় নাশকতার কার্যকারন নিয়ে এরপরে আর আর কোনো ব্যাখার প্রয়োজন আছে কি?”
(এখানে দেখুন- http://khabor.com/archives/44141)
……………….
তখনকার আরেকটি খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল- “সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার অাওয়ামী অনুগত অংশ ২ হাজার পেট্রোল বোমা তৈরি করেছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়িতে বাস পোড়ানোর দিন পর্যন্ত ১৫০টি ব্যবহার করা হয়েছে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই পেট্রোল বোমা তৈরীতে ব্যাপক বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতি প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে। সে কারণে ওদের ছোঁড়া পেট্রোল বোমাগুলো মারার সাথে সাথে পুরো বাস পুড়ে যাচ্ছে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। একই কথার প্রমান মেলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের বক্তব্যে জানা যাচ্ছে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ানোর জন্য ফসফরাসের ব্যবহার এবং ‘নিখুঁত মিলিটারি অপারেশন’।
এক সাথে দুটি উদ্দেশ্যে এই হত্যা ধ্বংসযজ্ঞ চালানে হয়েছে- প্রথম লক্ষ্য, এর মাধ্যমে ২০-দলীয় জোটের উপর দোষারোপ দিয়ে প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে তাদের উপরে জনরোষ ও জনঘৃণা সৃষ্টি করা। সে উদ্দেশ্য সফল না হলে নৈরাজ্যকর অবস্থার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে মাঠে নামিয়ে নিজেদের জনরোষ থেকে রক্ষা করে অন্তত নিরাপদে সরে যাবার পথ নিশ্চিত করা। যে সব হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি হচ্ছে, সে হামলাগুলো হচ্ছে পুলিশ প্রহরাধীন অবস্থায় অথবা লীগ নিয়ন্ত্রিত স্পটগুলোতে। হামলার সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকে, হতাহতদের উদ্ধারের তড়িৎ কোন উদ্যোগ নেয় না। ঘটনা ঘটে যাবার পর এবং ক্ষয়ক্ষতি প্রচারিত হবার আশপাশ থেকে কিছু লোক গ্রেফতার এম্বেডেড মিডিয়ার সামনে হাজির করে জামাত, শিবির, যুবদল ছাত্রদল বলে ট্যাগ দেয়।” ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস সহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূতরা চৌদ্দগ্রামের বোমা হামলা নিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। উঠে এসেছে, বিরোধী দলকে ফাঁসাতে সরকারী ষড়যন্ত্রের কথা। এসব খবরে সরকারের ভিতরে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আর তাই সবাইকে কনফিউজ করতে এখন সরকার ছড়াচ্ছে আল কায়েদা জড়িত থাকার বানোয়াট গল্প!
 
একই দিনে সারা দেশে সরকারী দলের কাছে এত বোমা উদ্ধার হয়, আর ঐ দিনই হামলা হয়েছিল চৌদ্দগ্রামে। এতে পরিস্কার প্রমানিত হয় যে, আ’লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশেই পেট্রল বোমা হামলা জালানো হয়েছিল। পর্যবেক্ষক মহল প্রশ্ন তুলেছিলেন, যাত্রাবাড়ীর মিশন ব্যর্থ হওয়ার পর কি চৌদ্দগ্রামে তা সফল করা হলো? বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের প্লট তৈরিই কি জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো না?
……………………………..
কথা হলো, যেখানে সরকার পুলিশ দিয়ে খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখলো, টেলিফোন লাইন কেটে দিয়ে, জ্যামার দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখলো, তারপরও খালেদা জিয়া যদি কুমিল্লাতে পেট্রল বোমা হামলার ঘটনায় বানোয়াট অভিযোগে কারাগারে থাকতে হয়, তাহলে গত নয় বছরের হাজার হাজার গুম খূনের হুকুমদাতা হিসাবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কত হাজার মামলা হতে পারে? একজনে অবশ্য বলেছেন, তাকে ৪০ হাজার বছর জেলে থাকতে হবে! 
Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.