নিশ্চিন্তে খালেদা। মহাবিপদে হাসিনা- চীনকে ধরতে ছুটছেন সিঙ্গাপুরে, ভারতের পায়ে পড়তে হামিদ দিল্লিতে।

কারাবাসের এক মাস শেষে ফুরফুরে খালেদা জিয়া- বিশেষ করে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি ধরে রাখা, দল অটুট থাকা, এবং বিদেশীদের কাছে দলের পজিটিভ ইমেজ। এতে সরকার দেখছেন মার্কিনীদের চক্রান্ত। বিপরীতে, বিএনপি নেত্রীকে জেলে রেখেই নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার সকল প্রস্ততি নিয়েও শেষ সময়ে তা স্থগিত রাখতে হয়! কোনো দিক থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে মহাবিপদে হাসিনা। চীনের লাইন ঠিক করতে নিজেই যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে। আর ভারতকে শান্ত রাখতে রাষ্ট্রপতি হামিদকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লি! সাউথ ব্লকের কপলে চোখ!

কারসাজির রায় দিয়ে কারাগারে পাঠালেও বেগম খালেদা জিয়ার ধৈয্যের কাছে হাসিনার পরাজয় ঘটেছে। আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা আসার কথা ছিল। আ’লীগের নেতারা অনেকেই সেমতে তৈরী ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী বৈরতণী পার করার মত কোনো পরিস্কার আশ্বাস কোনো দিক থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে আগাম সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা না দিয়েই ‘এতিমের টাকা এতিমের টাকা’ বুলি আউড়িয়ে জনসভা শেষ করতে হয়!

দীর্ঘদিন ধরে যে পুলিশ বাহিনীর ওপর ভরসা ছিল, যারা ‘সরকারে আনছি আমরা, সরকার ধরেও রাখছি আমরা’ বলতো প্রকাশ্যে, এখন তারা ব্যস্ত নিজেদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে। প্রতিদিনই সাসপেন্ড, বদলী হচ্ছে অনেকে। অতিউৎসাহীরা চেয়ার এবং চাকরি বাঁচাতে গলদঘর্ম। কেবল অস্ত্র উঁচিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কিছু ধরপাকড় করে বদনাম কামানো ছাড়া তেমন কোনো আশার বাণী দেখতে পাচ্ছে না সরকার। সময় শেষ, তাই কৌশলে চলো নীতিতে ব্যস্ত বাহিনীটি।

উত্তর পাড়া থেকে আগেই জানানো হয়েছে রাজনৈতিক ক্যাচলে তারা নেই। উত্তরের মুরব্বী, তারও উত্তরের অর্থনৈতিক শক্তি, দুর পশ্চিম কোথাও থেকে ‘ভোট ছাড়া ক্ষমতা’ নিশ্চিত হওয়ার কোনো আশ্বাস নাই। ফলে চাইলেও ‘শত্রুকে জেলে রেখে এখনি নির্বাচন করে ফেলব’ সে গুড়ে বালি। অনন্যোপায় হয়ে নিজেই ছুটছেন অপ্রয়োজনীয় সিঙ্গাপুর সফরে। মূলত, সেখানে নিজেই চীনের সাথে বোঝাপড়া করবেন, এমন আভাস পেয়ে তটস্থ হয়ে উঠেছে দিল্লি। আঁড়ি পেতে খোঁজ নেয়ার জন্য দিল্লির গোয়েন্দারা সিঙ্গাপুরের পথে। অন্যদিকে পা ধরে ভারতকে ঠিক রাখতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতে। কিন্তু সিঙ্গাপুরের খবরের পরে দিল্লির অবস্থান আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে সাউথ ব্লকের আভাস। লিসার সফর থেকে হুঁশিয়ারি আর সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জোর চাপ। ফলে বিপদ এখন মহাবিপদে রূপ নিয়েছে।

Facebook Comments