বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে লিফলেট 

লিফলেটের পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো –
 
শেখ হাসিনার ১৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার/খারিজ
বনাম
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিত্তিহীন মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ড
 
প্রতিহিংসা ও জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এক সাজানো কাল্পনিক মামলায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং ৭২ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অর্থ আত্মসাতের ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দিয়ে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো পরিত্যক্ত স্যাঁতসেঁতে জরাজীর্ণ ভবনে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। অথচ উক্ত ট্রাস্টের কোন অর্থই আত্মসাৎ হয়নি। জিয়া অরফানেজ ট্্রাস্টের নামে একখন্ড জমি ক্রয় ছাড়া বাকি এক টাকাও কোথাও খরচ করা হয়নি। বরং সেই ২ কোটি টাকা এখন সুদে আসলে ৬ কোটি হয়ে ট্রাস্টের নামেই ব্যাংকে পড়ে আছে। উক্ত ট্রাস্টের গঠন এবং পরিচালনার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই এবং ছিল না। তিনি কখনও উক্ত ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য ছিলেন না। উক্ত ট্রাস্টের ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনায় তিনি স্বাক্ষরকারী ছিলেন না এবং উক্ত ট্রাস্টের কার্যাদি, লেন-দেন, হিসাব-নিকাশ ও একাউন্ট পরিচালনায় তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বা ছিল না। অর্থাৎ আত্মসাৎ তো দূরের কথা বেগম জিয়া বা তাঁর পরিবারের কোন সদস্য উক্ত একাউন্ট থেকে এক টাকাও উত্তোলন করেননি। কুয়েত দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক পত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দাতা কর্তৃক এই অর্থ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রদান করা হয়েছিল। এরপরেও আইনের মারপ্যাঁচে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এক টাকাও খরচ হলো না, অথচ জবানবন্দীতে দেওয়া ‘প্রশ্নবোধক’ চিহ্নকে ‘দাঁড়ি’ চিহ্ন বানিয়ে দুর্নীতির সহযোগী বানানো হলো তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে! মিথ্যা ও বানোয়াট সাক্ষী ও ঘষামাজা জালিয়াতির কাগজ দিয়ে নির্দেশিত রায়ে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে মূলতঃ গণতন্ত্রকে জেলে পাঠালেন শেখ হাসিনা। রায়ের অনেক আগে থেকেই শেখ হাসিনা বলে আসছেন এতিমের টাকা চুরির দায়ে বেগম জিয়ার শাস্তি হবে। তার অবৈধ মন্ত্রীরা বেগম জিয়ার সাজা ঘোষণা করেছেন বারবার। আর সেটা করার জন্যই একজন প্রধান বিচারপতি ও একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে পদচ্যুত করে এবং তারেক রহমানকে ভিত্তিহীন দুর্নীতির মামলায় খালাস দেয়া নিম্ন আদালতের বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করে তিনি অধঃস্তন আদালতের দখল নিজের হাতে নিয়েছেন। উদ্দেশ্য হলো, স্বৈরাচারী শাসক কিংবা মধ্যযুগের রাজা বাদশাহ্দের মতো চাইলেই যে কাউকে ইচ্ছামত সাজা শাস্তি দেয়া। দেশের জনগণ মনে করে, বিচার ব্যবস্থাকে কব্জা করে এই রায়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনা তার চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছেন। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর কয়েক ঘন্টা পরেই শেখ হাসিনা বরিশালের জনসভায় দম্ভ নিয়ে উপহাস করে বলেছেন ‘তিনি আজ কোথায়’? তার ছেলে বাণী দেয়, “জেলখানাই তাদের ঠিকানা”। একসময় শেখ হাসিনার পিতাও সিরাজ সিকদারকে হত্যার পরে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন – “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার ?” এরপরে কে কোথায় গেছে, তা দেশবাসীর জানা আছে।
 
বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের নামে দুর্নীতির মামলা নতুন কিছু নয়। এসব মামলায় কেউ কেউ কারাগারেও গিয়েছেন। ১৯৬০ সালে দুর্নীতি মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানেরও দু’বছর কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল (১৫ DLR ১৯৬৮)। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশের বৃহত্তম দুটি দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে যেতে হয়েছে। দেশবাসী তাদের কাউকেই প্রত্যাখ্যান করেনি – বরং তাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। যারা তাদের জেলে নিয়েছিল তারাই আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
 
২০০৯ সনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রাক্কালে ১/১১ এর সেনা সমর্থিত জরুরি সরকার বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা উভয়ের নামে মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যাহার কিংবা অনুগত বিচারকের মাধ্যমে বাতিল করিয়ে নেন।
 
২০১০ সালে ৩ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত মাত্র ৩ মাসের মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৫টি মামলা খারিজ করেন গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি বিচারপতি শামসুল হুদা এবং ৪ টি মামলা খারিজ করে দেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা বিচারপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মানিক। এ সকল মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলার বিচারকার্য প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। উল্লেখযোগ্য, ২০০৯ সালের ২২ মার্চ শেখ হাসিনা এই দুই বিচারপতিকে হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। নিজেদের এতগুলি দুর্নীতির মামলা ক্ষমতায় বসে অধীনস্ত প্রশাসন ও দলীয় বিবেচনায় নিযুক্ত কৃতজ্ঞ বিচারপতিদের দিয়ে কৌশলে প্রত্যাহার/ খারিজ করার পর তিনি এখন ‘সৎ’ সেজেছেন। যে দুর্নীতি দমন কমিশন কোমর বেঁধে বেগম খালেদা জিয়ার মামলা লড়েছে এবং তাঁর জামিনের বিরোধিতা করছে – সেই দুর্নীতি দমন কমিশন শেখ হাসিনার ১৫ টি মামলা খারিজ কিংবা প্রত্যাহার করার বিরুদ্ধে কেন অবস্থান নেয়নি ? কেন কোন আপিল করেনি ??
 
শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় তার বিরুদ্ধে মোট ১৫টি মামলা ছিল। তবে কোনো মামলায় তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি। ১৫টি মামলার মধ্যে ৬টি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। আর হাইকোর্টের মাধ্যমে খারিজ করিয়ে নেয়া হয় নাইকো’সহ ৯টি মামলা।
 
নাইকো দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার মতই শেখ হাসিনা একই ধরনের আরেকটি মামলার আসামী ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নিজের মামলা খারিজ করে নিলেও বেগম খালেদা জিয়ার মামলাটি চলমান রয়েছে। অথচ একই কারণে এই মামলাটিও খারিজ হওয়ার কথা।
 
শেখ হাসিনার আমলে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত এই দুই বিচারপতির একজন বিচারপতি শামসুল হুদার বেঞ্চে মাত্র তিন মাসে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫টি মামলা খারিজ করে দেয়া হয়। এই পাঁচটি মামলা হলো, ফ্রিগেট (যুদ্ধজাহাজ) ক্রয় দুর্নীতি মামলা (৪৪৭ কোটি টাকা), মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি মামলা (১৮ কোটি টাকা), নাইকো দুর্নীতি মামলা (১৩ হাজার ৬০০ কোটি ৫০ লাখ টাকা), ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি মামলা (৩ কোটি টাকা) এবং বেপজায় পরামর্শক নিয়োগের মামলা (২ কোটি ১০ লাখ টাকা)। ঠিক একই সময়ে হাইকোর্টের অপর বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকও মাত্র তিন মাসের মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চারটি মামলা খারিজ করে দিয়েছিলেন। এই চারটি মামলা হলো, নভোথিয়েটার দুর্নীতি সংক্রান্ত ৩ টি মামলা (৫২ কোটি টাকা) এবং মিগ যুদ্ধ বিমান ক্রয় দুর্নীতি মামলা (৭০০ কোটি টাকা)।
 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৎ হবেন, সেটাই সকল বাংলাদেশীর কামনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নামে চেকের মাধ্যমে সরাসরি ঘুষ নেয়ার মামলা যদি রাষ্ট্রীয় প্রভাব বিস্তার করে প্রত্যাহার করা হয় – তাহলে দেশে আইনের শাসন আর থাকে কিভাবে? দলের জেলা সভাপতিকে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ করে তারই কোর্টে ৩ মাসের কম সময়ে ৫টি মামলা প্রত্যাহার করা কি নৈতিকতা সমর্থন করে? এর পরেও আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা সাফাই গান আর চিৎকার করে বলেন আদালতের মাধ্যমে শেখ হাসিনার মামলা নিস্পত্তি হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নয়! বাংলাদেশের জনগণ কি এতই বোকা ? তারা কি কিছুই বোঝেনা ??
 
এক টাকাও দুর্নীতি না করে বেগম খালেদা জিয়াকে যদি জেলে যেতে হয়, তবে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার ও অন্যান্যদের কি শাস্তি হওয়া উচিৎ তা ভবিষ্যতে জনগণের আদালতেই নির্ধারিত হবে ইনশাআল্লাহ্।
——————————————————————————–
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি।
Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.