হঠাৎ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা আসছে: হাসিনাকে পরবর্তী টার্মের জন্য কনফার্ম করে দিয়ে বিএনপির সাথে ‘ব্লাফ গেম’ খেলছে ভারত!

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ক্রমশ জটিল থেকে জটিল হচ্ছে। বিশেষ করে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করার পরে ক্রমশ অনিশ্চিতয়ার পথে হাটছে দেশের রাজনীতি। এরই মধ্যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত তাদের ‘দেশ দুর্গ’ ধরে রাখার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপালের মত বাংলাদেশও দিল্লির কক্ষচ্যুত হতে যাচ্ছে- ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের এমন হুশিয়ারির পরে ভারত নড়ে চড়ে বসেছে। আর তাতে শেখ হাসিনার হয়েছে পোয়া বারো।

গত ৯ বছরের অধিককাল ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় আশির্বাদপুষ্ট আওয়ামীলীগ দেশে জনপ্রিয়তার সর্বনিম্নধাপে অবস্থান করলেও ভোটের কোনো তোয়াক্কা না করেই  প্রতিবেশীরা শেখ হাসিনাকে আরও এক বারের জন্য ক্ষমতায় বসানোর নিশ্চয়তা দিয়েছে। আর এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকেও তারা ম্যানেজ করার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এসব বিষয় চুড়ান্ত হলে মেয়াদপুর্তির আগেই যেকোনো সময় হঠাৎ সংসদ নির্বাচন দিয়ে নাম-কা-ওয়াস্তে ভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। এ লক্ষে ক্ষমতার প্রধান দাবীদার বিএনপি চেয়ারপারসনকে বানোয়াট মামলায় ইতোমধ্যে জেলে ভরে ফেলে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনী ক্যাম্পেনে নেমে গেছে। উদ্দেশ্য পূরণে, দরকার হলে, ৫ জানুয়ারির চেয়ে আরও নিম্নস্তরের নির্লজ্জ ঘটনা এবং অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে রাজনৈতিক গুম এবং অত্যাচারের পথে যেতেও দ্বিধা করবে না।

এর বিপরীতে, বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বও ভারতের উপরেই আস্থা রাখছে! বেগম জিয়ার কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়েই ভারত বড় রকমের ফায়দা তুলতে চায়। এর বিনিময়ে ভারত চায় বিএনপি নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্বাচনে থাকুক। যদিও বিএনপি আশা করছে, ভারত তাদের ক্ষমতায় যেতে সমর্থন করবে। বিএনপি এখনও বুঝতে পারছে না, ভারতীয় স্বার্থের কাছে বিএনপি কখনই আওয়ামীলীগের বিকল্প নয়। বিএনপির বর্তমান চালকরা ভারতের গোপন অভিসন্ধি বুঝতে না পরে এখনও ভারতের হাতেই বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানের স্বপ্নে বিভোর! এমনকি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের সাথে ঘনিষ্ট পদবিহীন কিছু কর্মচারীরাও আজকাল ভারতীয় লাইন ঠিক করার মূল কারিগর-এমন দাবী করছে!

দেশের দুই তৃতীয়াংশ জনগনের আস্থা অর্জনকারী দলটির নেতৃত্বের এই অবমৃশ্যকারিতা দেখে যার পর নাই ক্ষুব্ধ ব্যথিত দলটির শুভাকাঙ্খিরা। ভারতের আগ্রাসন এবং ব্লাফ গেম ঠেকাতে খুব দ্রুত চীনা লবির সাহায্য না নিলে বাংলাদেশ আবারও দীর্ঘমেয়াদী কুশাসনের নিগড়ে পড়বে- কোনো সন্দেহ নাই। পানিতে ভাসমান মালদ্বীপ দেখিয়ে দিয়েছে কি করে আগ্রাসন ঠেকাতে হয়। অসময়ে গান্ধিবাদী আন্দোলন করে বিএনপির ফায়দা আসার কোনো সম্ভবনা নাই, বরং গণঅভ্যুত্থানই দিতে পারে এ জাতির মুক্তি। এটা অসম্ভব নয়।

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.