খালেদা জিয়ার মামলা ফিরিয়ে দেননি ডক্টর কামাল হোসেন। দালাল মিডিয়া অপপ্রচার করছে। গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখতে চান তিনি

বিশেষ প্রতিবেদক॥
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন,সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে আপিল শুনানিতে থাকার অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে সরকার সমর্থক বিভিন্ন পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টালগুলো যে খবর প্রকাশ করেছে, তা সঠিক নয়। ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য না নিয়েই যে যার মত মনগড়া প্রতিবেদন তৈরী করেছেন। যা প্রকারন্তরে সত্যের অপলাপ এবং অপপ্রচার।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড. কামাল হোসেন এই প্রসঙ্গে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, উনারা (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ খালেদা জিয়ার আইনজীবিবৃন্দ) আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দেওয়া বিশেষ আদালতের রায়ের কপি আমাকে দিয়ে তারা বলেছেন যে,এ ব্যাপারে আপনার সাহায্য চাই। আমি বলেছি,আমি ক্রিমিনাল কেস কম বুঝি। আমি এই কেসে না লড়লেও আমার সাধ্যমতো উপদেশ-পরামর্শ দেবো। রায়ের কপি রেখেছি। পুরো মামলার খোঁজখবর নিয়েছি। বেশ বড় রায়। এই রায়টা পড়তে আমার দুই-তিন দিন সময় লাগবে। রায় পড়ে আমি তাদেরকে উপদেশ দিবো।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি উনাদেরকে বলেছি, সবাইকে সামনে থাকতে হয় না। পেছনে থেকেও কারো কারো বড় ভুমিকা রাখতে হয়। আমি পেছনে আছি। সাহস হারালে চরবে না। আমি মামলায় না লড়েও কাজ করতে পারবো। ক্রিমিনাল ল’তে অভিজ্ঞ আইনজীবী, দল ও দলের বাইরে প্রত্যেককে নিয়েই কাজ করতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, এসব মামলায় অহরহ জামিন হয় উচ্চ আদালতে। কিন্তু খালেদা জিয়াকে দেয়া হয়নি। তিনি ক্রিমিনাল নন । তার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। সময় ক্ষেপন করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ড. কামালের সাথে সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন আইনজীবি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ড. কামাল হোসেন সাহেব খুবই ইতিবাচক ছিলেন। পুরো মামলার খোঁজখবর নিয়েছেন। আমরা বিস্তারিত বলার পর, তিনি বললেন, সাজা হলো কীভাবে। যে প্রমাণ আছে, বক্তব্য আছে, তাতে তো এটা হওয়ার কথা না। তিনি পুরোটা শুনে দুঃখ প্রকাশ করলেন। সহানুভূতি প্রকাশ করলেন। আমাকে তিনি বললেন, ফাইলটা আমাকে দাও। আমি ফাইল দিয়েছি উনাকে। উনি আমাদের অনেক সাহস দিয়েছেন।

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.