বাংলাদেশ আ.লীগ Vs বাংলাদেশের কসমেটিক উন্নয়ন

[নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাঠকের মতামত]

আ.লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস নেমেছে, কিন্তু কেন? অনেক নেতা নেত্রী কে প্রশ্নটা করেছি, সবাই বলেছে এটা কি বললেন আপনি- মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করছে, আগের চেয়ে অনেক বেশী জিপিএ ৫ পাচ্ছে, শিক্ষার হার বাড়ছে, শিক্ষামন্ত্রী বাম রাজনীতির লোক, উনি ভালোই করছেন এবং করবেনও ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে কেউ কেউ বলছেন- বিএনপির শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলন সাহেব নকল প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছিলেন, আ’লীগ ক্ষমতায় এসে আবার এটা কি করলো? জিজ্ঞাসা করতেই মানুষটি তেলে-বেগুণে জলে উঠে বললো, আপনি সম্ভবত বিএনপির লোক, তাই আ’লীগের কোনো কাজ আপনার ভালো লাগবে না। আমি আরও অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদের সংগে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম কিন্তু কেউই বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। একজন শিক্ষাবিদ আমাকে আমার মতামত পেশ করতে বললো । আমি বললাম, আপনারা এমন একটি সামাজিক কাঠামো তৈরী করে ফেলেছেন, যেখানে একজন সৎ মানুষ প্রচণ্ড অসহায় এবং অসম্মান নিয়ে এই সমাজে বসবাস করছে। অথচ একজন অসৎ মানুষ প্রচণ্ড প্রভাব প্রতিপত্তি এবং সম্মান নিয়ে বসবাস করছে– এইরকম একটি সামাজিক অবক্ষয়ে আপনি কি একজন শিক্ষার্থীকে সৎ নাগরিক হিসাবে গড়ে ওঠো বলতে পারবেন? এবং আপনি বললেই কি শিক্ষার্থীটি সৎ নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে চাইবে? না চাইবে না, বরং বিপরীতটাই হবে এবং হচ্ছেও তাই। জ্ঞাননির্ভর শিক্ষা প্রদান তখনই সম্ভব হবে যখন অর্জিত জ্ঞানের সংগে বাস্তবতার মিল থাকবে।

আ’লীগ এবার ক্ষমতায় এসে কোনও শিক্ষার্থীকেই খালি হাতে না ফেরানোর জন্য যে ভয়ংকর আত্মবিধ্বংসী, আত্মপ্রতারণামুলক প্রকল্প চালু করেছেন, তা গোটা প্রজন্মকে পঙ্গু করে দেবার জন্য যথেষ্ট। আ’লীগ নেত্রী এটা ইচ্ছে করেই করেছেন দীঘদিন ক্ষমতায় থাকবার অভিলাষ থেকে। কেননা উনি এককভাবে দেশ ও দল পরিচালনা করছেন, তেমনি দলের মধ্যে কর্তৃত্ব করছেন তার অনুগ্রহজীবীদের নিয়ে, দক্ষ ও নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন আওয়ামীলীগারদেরকে ছেটে দিয়ে। তেমনিভাবে বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দুর্বল করে দিয়েছেন দলবাজ অনুগ্রহজীবী ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে বসিয়ে। কেননা ১৯৭৫ এর পর থেকে আ’লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলো না। যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা তাদের মত করে সবক্ষেত্রে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জন করে যাচ্ছিল। আ’লীগ গত ১০ বৎসরে প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দূর্বল করে ফেলেছে দলবাজ অনুগ্রহজীবি ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলিতে বসিয়ে। দক্ষ ও নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন শিক্ষিত নাগরিক কখনোই অনুগ্রহজীবী হয় না। তাই দলবাজ অনুগ্রহজীবী মানুষেরা দলীয় নেতা-নেত্রীর আশীবাদ নিয়ে দক্ষ ও নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষকে পেছনে ফেলে দিয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। প্রাইমারী ও মাধ্যমিক শিক্ষার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে যাতে উচ্চ ফলনশীল জিপিএ পাঁচ প্রকল্প এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধি হয়, ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েদেরকে শিক্ষক হিসাবে চাকরি দেত্তয়া যায়, সরকারের সফলতা দেখানো যায় এবং দলবাজ শিক্ষকদেরকে নির্বাচনের সময় কাজে লাগানো যায় । পুলিশ বিভাগেও একইভাবে হাত বাড়িয়েছেন এবং তাদেরকে ব্যবহার করছেন যেখানে সেখানে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি এবং দলবাজ পরজীবী মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপকতা গুরুতর অবস্থায় উপনীত হয়েছে, ৯৫+ শতাংশ দলবাজ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৮০ দশকে যে সব শিক্ষক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিলেন, তারা আগামী ২/৩ বৎসরের মধ্যে অবসরে যাবেন, যেহেতু কিছুসংখ্যক জ্ঞানী শিক্ষক বেঁচে থাকতে থাকতে, ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া গেলো না, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরো নিচে নেমে যাবে, ও রেটিং খারাপ থেকে খারাপতর হবে। তারপর নৈতিক অবক্ষয়সম্পন্ন, দলবাজ অনুগ্রহজীবী শিক্ষকগন যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা করবেন, তখন একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ণ্ডলিতে মারামারি, ভেদাভেদ, বৈষম্য, মর্যাদাহানিকর কাজকর্ম বেড়ে যাবে, অন্যদিকে নিম্ন মানের শিক্ষাসমৃদ্ধ নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে যাবে, তখন সমাজে ভেদাভেদ, বৈষম্য, মর্যাদাহানিকর কাজকর্ম বেড়ে যাবে, কেননা তখন খারাপের সংগে বেশী খারাপের প্রতিযোগিতা হবে। এর কিছুটা নমুনা প্রতিদিনের সংবাদপত্রে দেখতে পাওয়া যায়।

এভাবেই বাংলাদেশে অনুগ্রহজীবী মানুষের সংখ্যা এবং পরজীবী ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপকতা দিন দিন বাড়িয়ে ফেলেছেন। জীববিদ্যার সংজ্ঞা অনুযায়ী প্যারাসাইট একটি ছোট জীবাণু, এটি সাধারনত অন্য প্রাণীর উপর ভর করে বেঁচে থাকে এবং ভরকৃত প্রাণীটির কর্মশক্তি শোষন করে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। এই প্যারাসাইটগুলি তার জীবনের অধিকাংশ সময় অন্য প্রাণীর উপর ভর করে থাকে। তারা এত চটপটে যে আপনার স্নায়ুতন্ত্রের মানচিত্র, আপনার চিন্তার ফর্মগুলি ম্যাপ করতে পারে এবং তার চিন্তাগুলি আপনার মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারে। আপনার জ্ঞান এবং অভ্যন্তরীণ রাডার সিস্টেমকে প্রভাবিত করে, আপনি বুঝতেই পারবেন না, যে আপনি একটি প্যারাসাইট হোস্টিং করছেন। আপনি মূলত প্যারাসাইটের একটি ক্রীতদাস হয়ে তাকে জীবিত রাখবেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষগন বিশুদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুশীলন করে নিজেদের পরজীবী থেকে মুক্ত রাখে। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ছয় মাস পরপর এটা পালন করে নিজেকে পরিস্কার রাখে।

কিন্তু বাস্তব সমস্যাটি হয় তখন যখন তাদের অতিবৃদ্ধি হয়, কারন সমাজে প্যারাসাইটের অতিবৃদ্ধি ঘটেছে, এই অবস্থা কে parasitic stress বা পরজীবি চাপ বলা হয়ে থাকে । বিজ্ঞানীর পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন প্যারাসাইটের চাপ উঁচু মানের গণতান্ত্রিক দেশে সবচেয়ে কম এবং কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি। এটা বর্তমানের মত পরিস্থিতিতে বাড়ে এবং তারপর খারাপ থেকে খারাপতর হবে এবং অবশেষে যদি না সভ্যতার পতন ঘটে তবে অর্থনীতির পতন হবেই। সামাজিক প্যারাসাইটটি নিজেই হোস্ট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে (হোস্ট যখন দুবল হয়) এবং একই সামাজিক বৃত্তের মধ্যে অন্য ব্যক্তির সংক্রামিত হওয়ার জন্য এগিয়ে যাবে।

আ’লীগ এবং দলীয় অনুগ্রহজীবী
যেহেতু আ লীগ বেইমানী করে ক্ষমতায় বসে আছেন, (অবশ্য অনেকে এটা চালাকি বলে, আর আ লীগ বলে কৌশল বা রাজনৈতিক কৌশল)। আমি বেইমানী বলছি এই কারনে যে, জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারী সহ অন্যদেরকে বলেছিলেন যে, নিয়মরক্ষার জন্য নিবাচন করতেই হচ্ছে, খুব শীঘ্রই আর একটা নিবাচন হবে। আ লীগ সেটা করেননি, এটাকে জালিয়াতিও বলা যেতে পারে। আ’লীগের বেইমানী করার আরও রেকর্ড আছে, সেটা করেছিল এরশাদের সময় এবং বাংলাদেশের ১৪ কোটি মানুষের সংগে। আগের দিন চট্রগ্রামে এক জনসভায় বললেন, এরশাদের এই নির্বাচনে যে যাবে, সে হবে “জাতীয় বেইমান”। ঠিক তার পরের দিন আ’লীগ নেত্রী নিজেই এই উপমাটা নিয়ে নিলেন। আ’লীগ নেত্রী কেন এটা করেছেন – সেটা উনিই সঠিকভাবে বলতে পারবেন । এই কথাগুলো টেনে আনার কারন হলো, উনি সম্ভবত নিজের দলের মানূষের সংগে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন না । উনি অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা দেশের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেন। উপরের দিকের যে ক্ষতিগুলো উনি করেছেন, সেগুলো আ লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবীরা বুঝতে পারবেই না, বরং তাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বললে বা লিখলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি হবে :
১) যদি নেত্রীর গায়ে লাগে, তাহলে, উনি নিজেই ঐ ব্যক্তিকে তুলোধুনো করবেন এবং ঐ ব্যক্তির বাংলাদেশে বেচেঁ থাকা দায় হবে, ঐ ব্যক্তিটি আ লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবী হলেও।
২) ৫৪ বা ৫৭ ধারায় ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হবে কমপক্ষে ৬৫ টি (প্রতিটি জেলা আ লীগ থেকে ১টি করে এবং কেন্দ্রীয় আ লীগ থেকে ১টি),
৩) পুলিশের তরফ থেকে পুলিশ স্বতপ্রণোদিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়ে রাখতে পারে ।
৪) র‌্যাব চাইলে তাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলতে পারে ।
৫) নাম পরিচয় বিহীন বিশেষ বাহিনী ঐ ব্যক্তিকে গুম করে রাখতে পারে
৬) হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ঐ ব্যক্তিকে আদালতে এসে সরি বলে কয়েক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে বলতে পারে ।
৭) মিঃ আকন্দের মত আইনজীবীদের কেউ সংক্ষুুব্ধ হয়ে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।

এখন আপনারাই বলুন এইরকম একজন অনুগ্রহজীবী পরিবেষ্টিত নেত্রীর বিরুদ্ধে কে লিখতে যাবে। আ’লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবী শিক্ষক, উপাচার্য, আইনজীবী, বা বুদ্ধিজীবীরাও কখনো তাকে পরামর্শ দিতে সাহস রাখেন না। বরং উনারা নেত্রীর কাছে শুনতে যায় অথবা চেহারা দেখাতে যায় যদি কোনো ভালো পজিশন পাওয়া যায়। যেহেতু নেত্রী তাদের আদর্শ, তাই আ’লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবী, যে যে পদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আছেন, তারাও একই কাজ করছেন অধীনস্ত কমচারীদের সংগে।

একদিকে ক্ষমতাগর্বী রাজনীতিক এবং দলবাজ অনুগ্রহজীবী নাগরিক, অন্যদিকে গুজবপ্রবণ অক্ষম আমজনতা। অধিকন্তু, সব সেক্টরে, দক্ষ ও নীতি–নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে পেছনে রেখে দলবাজ অনুগ্রহজীবীদের সামনে নিয়ে বলছেন ২০২১ সালের মধ্যে এদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করবেন!! পারবেন না বরং বিপরীতটাই হবে, বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন যে কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক দলগুলি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পষ্টতই কর্তৃত্ববাদী রোগের বিস্তার লাভ হয়। যখন কর্তৃত্ববাদী রোগের অতিবৃদ্ধি হয়, তখন শাসনের উপর রোগের সরাসরি প্রভাব দেখা যায়, যা রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের উপর প্রভাব ফেলে এবং অনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র বা দুর্বল রাষ্ট্র ব্যাবস্থা চালু হয় ফলে ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং পরিশেষে ঔপনিবেশিকতাবাদ জন্ম নেবে।

যেহেতু আ লীগ গত ১০ বৎসরে প্রায় প্রত্যেকটি প্রাতিষ্ঠানের সক্ষমতা ধংস করে ফেলেছে দলবাজ অনুগ্রহজীবী ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলিতে বসিয়ে। তাই সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ এখন পাশ্ববর্তী দেশের সক্ষম মানুষের বাজারে পরিণত হয়েছে। গামেন্টস শিল্প তার বড় প্রমান। তদুপরি পার্শবর্তী দেশকে কড়িডোর দিয়ে দেওয়া। নিজ দেশের সক্ষমতা দূর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশকে বড় বড় বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া কোনো অবস্থায়ই দেশপ্রেমের লক্ষন নয় । আ’লীগ পাশের বাড়ির কৃপণ বড়লোকের কাছে তার মেয়ে বিয়ে দিয়েছে টাকার লোভে। সুতরাং আ’লীগের অসুবিধা হবে না, কিন্তু তাদের মেয়ের শান্তি নষ্ট হবেই। আাপনারা শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য দেশের ক্ষতি করেছেন, এজন্য Natural Justice আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে । আপনাদের ভিশন ২০২১ বা ভিশন ২০৪১ এর মুলা সহ আ’লীগ সংগঠনটির অস্বিত্ব হুমকির সম্মুক্ষীণ হবেই।

আপনিও লেখা পাঠাতে পারেন এই ফর্মটি পূরণ করে

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.