“ছাইড়া দে মা- কাইন্দা বাঁচি”

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের বানোয়াট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে তিনটি অর্জন করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা:

১. খালেদা জিয়াকে ‘এতিমের টাকা চোর’ হিসাবে জাতির সামনে প্রতিষ্ঠিত করা!
২. জেলে পাঠানোর পরে বিএনপি হরতাল অবরোধের ঘোষণা দিলে আগেরমত যুবলীগ-ছাত্রলীগ দিয়ে বোমা মেরে বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে জ্বালাও পোড়াওয়ে তান্ডব করতে চেয়েছিল। তখন ব্যাপক ধরপাকড় করে বিএনপির অন্তত ৫০ হাজার নেতাকর্মীকে দ্রুত বিচারে মামলা দিয়ে জেলে নিয়ে নির্বাচনের আগে বিএনপিকে কাবু করে ফেলা। আর বিদেশীদের কাছে বিএনপিকে ’সন্ত্রাসী দল’ হিসাবে প্রতিপন্ন করা।
৩. বেগম জিয়া জেলে গেলে বিএনপিকে টুকরা টুকরা করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করা।

কিন্তু বিএনপির স্মার্ট চালে তিনটি উদ্দেশ্য পূরণেই ব্যর্থ হয়েছেন লীগ নেত্রী হাসিনা। প্রথমত, বিএনপির তরফ থেকে ব্যাপক ভাবে প্রচার করা হয়েছে যে, অরফানেজের টাকা কেউ আত্মস্যাত করেনি, ২ কোটি টাকার মামলায় ট্রাস্টের একাউন্টে ৬ কোটি টাকা এখনও আছে। তাছাড়া টাকাটা কোনো সরকারী ফান্ড ছিলনা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার নামে এতিমখানা খুলতেই কুয়েতের আমির ঐ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। এইমর্মে কুয়েত দূতাবাসের চিঠিও প্রকাশ হয়েছে। ফলে জনগন বুঝতে পারছে- এই মামলার রায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছু নহে। একথা এখন বহু আওয়ামীলীগাররাও বিশ্বাস করে। যার ফলে খালেদা জিয়ার দুর্নাম হওয়ার চেয়ে বরং আপোষহীন মাজলুম দেশনেত্রী হিসাবে সমর্থন বাড়ছে প্রতিদিন।

দ্বিতীয়ত, বানোয়াট মামলায় জেলে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, রায় পিক্ষে গেলেও যেনো হরতাল ধর্মঘট না করে শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে থাকে বিএনপি। সেকথা মেনে বিএনপির হাইকমান্ড জনগনের কষ্ট উদ্রেককারী কোনো কর্মসূচি দেয়নি। ফলে সরকার ‘নিজেরা সন্ত্রাসী করে বিএনপি ওপর দায় চাপানো’র প্লান বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অবৈধ সরকার গোলক ধাধায় পড়ে যায়- এ কোন্ বিএনপি! আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ নেতারা বিভিন্নভাবে বিএনপিকে উস্কানি দিচ্ছিলো হরতাল দিতে। শত উস্কানির মুখেও বিএনপি কোনো হঠকারিতায় যায়নি। হরতাল দিলেই তো আর নেত্রী ছাড়া পেতেন না। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় দেশনেত্রী আইনী প্রকৃয়ায় খুব সহসাই বেরিয়ে আসবেন, সে বিশ্বাস আছে পুরো দেশবাসীর- অবৈধ সরকার ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। অন্যদিকে জনগনও দেখছে- বিএনপি কোনো অশান্তির পথে নাই। ফলে সাধারন ও নিরপেক্ষ জনগন বিএনপির প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেয়। যাকে বলে অহিতে বিপরীত!

তৃতীয়ত, রায় ঘোষণার আগের দু’সপ্তাহে বেগম জিয়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিক মিটিং করতে থাকেন। সরকারের শত বাধা উপেক্ষা করে সফলভাবে নির্বাহী কমিটির জরুরী বৈঠক করেন। হাসিনার তাগুদি রায়ে কারগারে যেতে হলে ক্রাান্তিকালীণ ব্যবস্থা হিসাবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করার ব্যবস্থা করে যান। এসকল নানাবিধ পদক্ষেপের ফলে দলে কোনো ভাঙ্গন ঘটাতে পারেনি অবৈধ লীগ সরকার। দল ভাঙ্গনের পরিবর্তে উল্টো ঘটনা ঘটেছে- দলে নেতাকর্মীদের মাঝে বন্ধন আরও শক্ত হয়েছে। আপৎকালে নিজেদের মধ্যে ছোটখাট ভুল বোঝাবোঝি ভুলে গিয়ে ইস্পাত কঠিন ঐক্য এখন দলে। বিএনপির ক্ষতি করতে গিয়ে হাসিনা বরং উপকার করে দিয়েছেন।

মোটকথা, তিনটি পয়েন্টেই হাসিনা ধরাশায়ি হয়েছে বিএনপির কৌশলের কাছে! উল্টো, অন্যায্য জেলে খালেদা জিয়া যত দিন থাকছেন, শেখ হাসিনা তথা আ’লীগের জনপ্রিয়তা তত নিম্নগামী হচ্ছে। এখন হাসিনার দশা হচ্ছে- ছেড়ে দে মা, কেন্দে বাঁচি!
সুত্র: ফেসবুক

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.