খালেদা জিয়ার ইস্যুতে পিছু হটছে সরকার: নেপথ্যে বিদেশীরা

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপরসনকে মামলার জালে জড়িয়ে ফেলার স্বপ্ন পুরণ হচ্ছে না সরকারের। খালেদা জিয়াকে আরও তিনটি বানোয়াট মামলায় “শ্যোন এরেস্ট” দেখানোর তিন দিনের মধ্যে সে আদেশ গোপনে প্রত্যাহার করতে হলো। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন ‘খালেদা জিয়াকে শ্যোন এরেস্ট’ হচ্ছে না’, পরে গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আবারো একই কথা প্রকাশ করলেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অবৈধ সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আর কোনো মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয় নি। কোনো মামলা শ্যোন এরেস্ট দেখানো হবে না।’  যদিও গত ১৩ ফেব্রুয়ারী কারা-মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘খালেদা জিয়াকে কুমিল্লা এবং ঢাকার তেজগাঁও ও শাহবাগ থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবন্দী হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বিদেশী কূটনীতিকদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাদেরকে তথ্য প্রমানাদি দিয়ে বোঝানো হয়েছে, অরফানেজ মামলাটি বানোয়াট। তাছাড়া খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দেয়া নিয়ে সরকারের টালবাহানায় কূটনীতিকরা যারপরনাই বিরক্ত। তারা এ নিয়ে ব্যাপক খোঁজ খবর নিয়েছে। এমনকি অনেক দূতাবাস জেলকোড সংগ্রহ করে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে ডিভিশন না দেয়ার কারন কি।

জানা গেছে, সরকারের পরিকল্পনায় ছিল খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার সাথে সাথেই হরতাল অবরোধ কর্মসূচি দিবে বিএনপি। আর তখনি সরকারী দলের বোমাবাজরা মাঠে নেমে যাবে, বার্ন ইউনিটগুলো সচল হবে, টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো হবে শেখ হাসিনার চোখ মুঝতে থাকা ছবি! বিদেশীদের বলা হতো, দেখুন বিএনপি কতবড় সন্ত্রাসী দল- আদালত মানে না- মানুষ পুড়িয়ে মারে। কিন্তু সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি বিএনপি। সূত্র জানাচ্ছে, বেগম জিয়ার কারাবন্দী হওয়ার সাথে সাথে তাঁর একজন বিশেষ সহকারী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সরকারের হিসাব কিতাবে গন্ডগোল দেখা দিয়েছে। সরকার আগের মত তথ্যও পাচ্ছে না, সরকারের পছন্দমত কর্মকান্ডও করানো না বিএনপিকে দিয়ে। ফলে অনেকটা বিরক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলতে বাধ্য হন, বিএনপি আন্দোলন করতে অক্ষম।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আদালতে প্রমান না হওয়ার পরেও কালা মানিকের বুদ্ধিতে যে আগ্রহ উদ্দীপনা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হলো, তা এখন ক্রমশ সরকারের জন্য গলার কাটা হয়ে উঠেছে।  বাইরে থেকে লেখা গোজামিলের রায়ের সার্টিফাইড কপি বিএনপির হাতে তুলে দেয়া হলে মামলার জাল জালিয়াতি এবং  যুক্তিহীন রায় প্রকাশ হয়ে পড়বে। তাই কপি দিতে বিলম্ব করে রায় সংশোধনের মত গর্হিত কাজ করছে ! আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে-

প্রথমত, রায়টি দেশের মানুষ এবং বিদেশীদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়নি। সবার একটাই প্রশ্ন, ২ কোটি টাকার মামলায় ৬ কোটি টাকা ব্যাংকে থাকার পরে আত্মসাত হলো কি করে।

দ্বিতীয়ত, জেলে নেয়ার পরে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হলো না কেনো? জেলকোডে পরিস্কার লেখা থাকার পরে সরকারের এহেন আচরন বিদ্বেষপ্রসূত অন্যায় আচরন হিসাবে দেখছে মানুষ।

তৃতীয়ত, যে পেন্ডিং মামলায় খালেদা জিয়াকে আগে গ্রেফতার করা হয়নি, অথচ জেলে যাওয়ার পরে ‘শ্যোন এরেস্ট’  দেখানোর ঘোষণা জনগনের কাছে মনে হয়েছে,  খালেদা জিয়াকে যেনো তেনো ভাবে আটকে রাখতে চেষ্টা করছে সরকার।

মামলার এসব খুটিনাটি এখন বিদেশীদের নখদর্পনে। তাদের থেকে বিভিন্নভাবে সরকারের উপরে চাপ দেয়া হয়েছে- খালেদা জিয়াকে নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার। এমনও কথা বলা হয়েছে, এরপর বিএনপি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাদের কিছু বলার মত মুখ থাকবে না। সর্বশেষে খালেদা জিয়ার বিষয়ে জাতিসংঘ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিদেশীদের চাপে পিছু হটছে সরকার।

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.