খালেদা জিয়ার প্রতি চরম নিষ্ঠুর অবিচারের কাঁদছে বাংলাদেশ “ম্যাডাম’ থেকে ‘মা’ হয়ে উঠেছেন প্রাণে প্রাণে

বিশেষ প্রতিনিধি।।
বিচারের নামে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার কোপানলে এক চরম নিষ্ঠুর অবিচারের শিকার হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপরসন তিন বারের প্রথানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রতি করা হচ্ছে ভয়াবহ নজিরবিহীন অমানবিক আচরণ। জনমানবহীন এক নির্জন কারাগারের এক ভুতুরে পরিবেশের মধ্যে একটি স্যাঁতস্যাঁতে ভবনেই কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শীর্ষ রাজনীতিবিদ বেগম খালেদা জিয়াকে। একটিবারের জন্যও ভাবা হয়নি তিনি তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন। এ কথাও বিবেচনা করা হয়নি তিনি ৭৩ বছর বয়স্ক একজন নারী, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তিনি একজন স্বামীহারা, এক সন্তানহারা মানুষ। তার স্বামী জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষক। সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের উন্নয়নে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছেন।

পরিত্যক্ত হবার কিছুদিন আগেও এই কারাগারে অনেকের ফাঁসির দন্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর সেখানেই তাকে একাকী রাখা হয়েছে। তিনি ছাড়া একজন বন্দীও সেখানে নেই। একজন নারী হিসেবে সামান্য মর্যাদাও কী তার প্রাপ্য ছিল না? এ কী নির্দয় ব্যবহার! তিনি যেনো জামিনে বেরিয়ে আসতে না পারেন, সেজন্য এখন একটির পর একটি মিথ্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর ষড়যন্ত্র চলছে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার একটি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তার নামে ৩৪টি মামলাই সচল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্রতি এই নির্মমতায় বাংলাদেশের মানুষ আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। বাংলাদেশের হৃদয়ই যেন ভেঙ্গে গেছে। মানুষের অন্তর কেঁদে উঠছে।

নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের অন্ধকার প্রকোস্টে আজ শুধু একজন ব্যক্তি খালেদা জিয়াকেই বন্দী করা হয়নি, বন্দী করা হয়েছে গণতন্ত্রকে। বন্দী করা হয়েছে মানুষের ভালোবাসাকে। তাঁকে কারান্তরীণ করায় দলটির নেতাকর্মীসহ দেশবাসী মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। প্রতিটি মানুষের চোখে ভেসে উঠছে খালেদা জিয়ার নিষ্পাপ মায়াভরা মুখখানি। অনেকের চোখে ঘুম নেই। নীরবে চোখের পানি ফেলছেন। কখনোবা ডুকরে কেঁদে উঠছেন। কাঁদছে দেশবাসী। নামাজ পড়ে অনেককে হাত তুলে মোনাজাত এবং কান্নাকাটি করছে। বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের কাছে দিবালোকের মতো স্পস্ট হয়ে গেছে, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে, জাল-জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। হাসিনা নিজেই আওয়ামীলীগের আইনজীবিদের দিয়ে দশ দিনে ছয়শত বত্রিশ পাতার রায় লিখিয়ে বিচারক ড.আখতারুজ্জানকে দিয়ে পাঠ করিয়েছে।

আদালত ঘোষিত “রং হেডেড” শেখ হাসিনা রায়ের পর তার প্রতিক্রিয়ায় চরম জিঘাংসা, ক্রুড়তা, অমানবিক, হৃদয়হীন এবং প্রতিহিংসাপরায়ন প্রকাশ করেছে। বরিশালে জনসভায় দম্ভের সঙ্গেই উচ্চারণ করেন “কোথায় আজ খালেদা জিয়া?” ঠিক তার পিতা শেখ মুজিব দেশপ্রেমিক সিরাজ সিকদারকে খুন করার পর চুয়াত্তর সালে সংসদে দাড়িয়ে হাসিনার মতোই দম্ভ করে বলেছিলেন, “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? মুজিবের মতোই হাসিনাও বিকৃত সুখ অনুভব করছেন, বন্য উল্লাসে মেতে উঠেছেন। রায় ঘোষণার আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে জনগণের উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। কোনো দুর্নীতি করেনি।’ বাংলাদেশের মানুষ তার এই কথা এক’শ ভাগ বিশ্বাস করেছে। তারা বিশ্বাস করেছে খালেদ জিয়া কোনো দুর্নীতি বা অন্যায় করেনি। নব্য ফেরাউন হাসিনার জুলুমের শিকার হয়েছেন তিনি। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার হয়না, অথচ মাত্র দুই কোটি টাকা নিয়ে এতো হুলুস্থুল। শেখ হাসিনার নামে ১৫ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পনেরটি মামলা গায়েব করে ফেলা হয়েছে এক ফুৎকারে।

জনগন সব জানে। খালেদা জিয়ার গগনচুম্বি জনপ্রিয়তায় নিদ্রাহীন হাসিনা তাকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে ক্যাঙ্গারু কোর্টকে ব্যবহার করেছে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ মজলুমের পক্ষে। হাসিনার অবিশ্বাস্য নির্মম জুলুমের শিকার বেগম খালেদা জিয়া এখন প্রতিটি মানুষের প্রাণোৎসারিত সবটুকু সহানুভূতি, আবেগ, ভালোবাসা অকাতরে উপছে পড়ছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়া হয়ে জনগনের প্রাণাধিক প্রিয়। মানুষের জীবনে সবচেয়ে আপনজন তার মা। মাতৃমুর্তি খুব খুব শক্তিশালী। আমরা দেশকে মায়ের সম্মান দেই।আমাদের মায়েরা কষ্ট সহ্য করেন, মুখে কিছু বলেন না; হয়তো নিরবে অশ্রুপাত করেন। বেগম জিয়াকে যে কষ্ট দেয়া হচ্ছে, তাতে কেবল দলের নেতাকর্মী নন, প্রতিটি বিবেকবান মানুষ তাঁকে মাতৃমুর্তি হিসাবে হৃদয়ের গহীনে গ্রথিত করছে। তাঁরা মনে করছে মা নিশ্চয় নিরবে অশ্রুপাত করছেন। মায়ের সেই অদৃশ্য কল্পিত কান্না, তাঁদের বুকে ক্রমাগত শেলের মতো বিঁধছে। ইতোমধ্যে পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভাবনীয় ,অভুতপূর্ব জনপ্রিয়তার অনুসঙ্গে গণমানুষের কাছে প্রতিভাত হয়ে উঠেছেন একজন মাতৃমুর্তি রূপ খালেদা জিয়া। হাসিনার প্রকাশ্য জিঘাংসার মুখে পড়ার পর তিনি কর্মী সমর্থকদের কাছে “ম্যাডাম” থেকে “মা” তে উত্তীর্ন হয়েছেন। বেগম জিয়াকে আর তারা ম্যাডাম বলে ডাকেনা, “মা” বলে ডাকে। মা । দেশের মানুষ তাকে ঠাঁই দিয়েছে মায়ের আসনে। জেলবন্দী মা খালেদা জিয়ার শক্তি এখন অকল্পনীয়। অসামান্য অনন্য উজ্জ্বল মাতৃমুর্তিতে যেই উচ্চতায় বেগম জিয়া পৌঁছেছেন, পৃথিবীতে আপাতত তার ধারে কাছে আর কেউ নেই। “বন্দি আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাবো না’, – এই শ্লোগানের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে দেশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে। দলীয় কর্মীসমর্থকদের কন্ঠে বুকঝিম ভালোবাসায় উচ্চারিত এই ধ্বনি, প্রতিধ্বনি হয়ে অনুরণিত হচ্ছে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে।

Facebook Comments