খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রাপ্য ডিভিশন সুবিধা না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ বিএনপি: আইজি প্রিজন্সকে তিরস্কার!

বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলেই কেবল পাঠাননি শেখ হাসিনা, জেলখানায় আইন মোতাবেক পাওনা ডিভিশন সুবিধাও দেয়া হয়নি। তিন দিন অযত্ন অবহেলায় রেখে আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার উদ্দীন আহমেদ রোরবার সকালে সাংবাদিকদের বয়ান দিলেন, “কারা বিধি অনুযায়ী যারা সাংসদ তারাই ডিভিশন পান। সাবেক প্রেসিডেন্টও পান। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী পান না। ১৯৬৪ ও ২০০৬ সালের কারাবিধিতে এ রকমের বিধি রয়েছে।”

জানা গেছে আইজি প্রিজন্স সত্য বলেন নি। ২০০৬ সালের কারা বিধির ৬১৭ ৭(i)তে বলা আছে, রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ থেকে ১৮ তালিকায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিরা জেলখানায় (হাজতি বা কয়েদী) ডিভিশন-১ পাইবেন। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ নম্বরে প্রেসিডেন্ট, ২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী, ১৩ নম্বরে আছে সংসদ সদস্য। ঐ ৬১৭ বিধির ৭ (২) ধারা অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকও ডিভিশন-১ পাইবেন। সে হিসাবে ৩টি ক্যাটাগরিকে বেগম খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ প্রাপ্য। এটা দিতে জেল কতৃপক্ষ বাধ্য। এর জন্য কোনো কোর্টে আদেশ প্রয়োজন হবে না। উল্লেখ্য ২০০৭ সালে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া দু’জনেই এই আইনে প্রথম শ্রেণীর বন্দী হিসাবে সংসদ এলাকায় সাবজেলে রাখা হয়।

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান আইজি প্রিজন্স ইফতেখার তখন ছিলেন মেডিকেল কোরের একটা বাচ্চা ক্যাপ্টেন মাত্র, তাই তিনি হয়ত  ভুলে গেছেন, কিন্তু আইন ও বিধি তো মহা পরিদর্শকের টেবিলেই থাকে। ৫ বার সংসদ নির্বাচন করে ২৩টি নির্বাচনী এলাকা থেকে খালেদা জিয়া কোথাও না হেরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা বিশ্ব রেকর্ড। এ ছাড়াও তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী ছিলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল বিএনপির প্রধান, ৭৩ বছর বয়স্ক একজন সিনিয়র সিটিজেন- এগুলো তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও অবস্খানের পরিচায়ক, যা কারাবিধির ৬১৭তে উল্লেখ আছে। সব মিলিয়ে মোট ৬টি ক্রাইটেরিয়ার যেকোনো একটিতে খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ পাওয়ার যোগ্য।

অথচ তিন বারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আইজি প্রিজন্স সাধারন কয়েদী হিসাবে রেখেছেন তিন দিন নি রাত্রিরও বেশি। খাইয়েছেন কাকড় সহ ভাত! ৭৩ বছর বয়স্ক অসুস্থ একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে (নির্বাচন দিলে যিনি যেকোনো সময় আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন) ডিভিশন-১এর সুযোগ সু্বিধা না দিয়ে প্রিজন্স অথরিটি অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, আইজি প্রিজন্স কি ৬১৭ ধারা পড়েন নাই? নাকি তাহার চক্ষে (এবিএম মুসার ভাষায়) বিলাই মুতিয়াছিল?
 
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ অবৈধ সরকারের আজ্ঞাবহ একটি আদালত একটি মিথ্যা মামলায় তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদন্ড দিয়ে জেলখানায় পাঠায়। কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার কথিত বড় ভাই এরশাদের আগেকার দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে কেবল বানোয়টি মামলায় সাজাই দেন নাই, আইজি প্রিজন্স রাখেন নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক সেন্ট্রাল জেলের পরিত্যাক্ত ভবনে! ঐ ভবন এখন আর জেলখানা নয়, বরং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত পাবলিক প্লেস। খালেদা জিয়াকে ঐ পরিত্যক্ত ভবনে বন্দী করার আগে সেটিকে জেলখানা ঘোষণা করে গেজেট জারী করা হয়নি। এটি একটি মারাত্মক ব্যত্যয়। ঐ জরাজীর্ণ ভবনে আর কোনো বন্দী নাই। ওটি এখন আর কোনো সরকারী জেল নয়, বরং প্রাইভেট বন্দীশালা। ২’শ বছরের প্রাচীন এ ভবনে হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখা হয়েছে কি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে? হয় তাঁকে ভয় দেয়া, অথবা ভবন ধসে হত্যা করার উদ্দেশ্য নয় তো?

জেল কতৃপক্ষের এহেন অন্যায় অত্যাচারের খবর প্রকাশ হওয়ার পরে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে আইজি প্রিজন্সকে তুলোধানা করা হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে- “আপনি কি মানুষ? নাকি জানোয়ার? আপনাকে এখন কি করা উচিত? এই দায়িত্বহীনতার জন্য আপনাকে এখনি চাকরিচ্যূত বা রিজাইন করতে বলা কি কম হবে? লজ্জা থাকলে আপনি পদত্যাগ করবেন”।

বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবিরা শুক্রবার শনিবার ২দিন আইজি প্রিজন্সের অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেছে ডিভিশনের দরখাস্ত নিয়া, যাতে তাঁকে ডিভিশন-১ নিশ্চিতভাবে দেয়া হয়, যদিও দরখাস্ত দেয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আইজি প্রিজন্স তার অফিসের সব গেট বন্ধ করে রেখেছিলেন। বাহিনী দিয়ে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন! সাধারন জনগনের প্রশ্ন – আইজি প্রিজন্স কোনো করেছিলেন ঐ কম্ম ? এটা কি আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার ইফতেখারের ঘাড়ে সোর্ড এবং বল্টু আছে, তাই? ওগুলো যেদিন খসে যাবে সেদিন তার কি উপায় হবে?

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.