খালেদা জিয়াকে দ্রুত সাজা দিতে ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় লিখে দিয়েছে কে?

বিশেষ প্রতিবেদক ।।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট  মামলায় ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে বিচারক ড.আখতারুজ্জামান। একজন মানুষ কিভাবে মাত্র ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্টার রায় লিখলো তা নিয়ে সারাদেশে সচেতন মহলে চলছে রীতিমত তোলপাড়। ড. আখতারুজ্জামান কি জ্বিন ভুত নাকি মানুষ? মানুষের পক্ষে এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রশ্ন তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। মাত্র ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় লেখা নিয়ে শেখ হাসিনা, জজ আখতারুজ্জামান এবং আইনমন্ত্রি আনিসুল হক পড়েছেন মহাবিপাকে। আইনমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে চলছেন।

নামে না প্রকাশ করার শর্তে জজ কোর্টের একজন বিচারক জানান, সাধারনত একজন পেশাদার কম্পোজার স্পস্ট ড্রাফট লিখা থাকলে প্রতি পেইজ বাংলা টাইপ করতে সময় লাগে কমপক্ষে ১০-১১ মিনিট, আর ইংরেজি হলে ৭-৮ মিনিট। প্রতি পৃষ্ঠা ড্রাফট করতে হাতে লিখলে সময় লাগে ২০-২৫ মিনিট (দুই হতে তিন পৃষ্ঠা হাতে লিখা ড্রাফট কম্পিউটার কম্পোজে এক পৃষ্ঠা হয়)। ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের হাতে লিখা ড্রাফট করে থাকলে তার জন্য হাতে লিখা পৃষ্ঠা হলো ৬৩২x২.৫ ( গডে ২.৫ পৃষ্ঠা হাতে লিখা কম্পোজে ১ পৃষ্ঠা হবে) = ১৫৮০ পৃষ্ঠা। প্রতি পৃষ্ঠা হাতে লিখতে গড়ে ১০ মিনিট লাগবে, কারন রায়টা পরীক্ষার হলে মুখস্ত রচনা নয়। সেই হিসাবে ১৫৮০ পৃষ্ঠা হাতে লিখা ড্রাফট করতে সময় লাগবে ১৫৮০০ মিনিট বা ২৬৪ ঘন্টা বা ৩২ কার্য দিন ( প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে)। আর ১৫৮০ পৃষ্ঠা কম্পোজ করতে ( ৬৩২ হবে) সময় লাগবে বাংলা হলে ৬৩২০ মিনিট বা ১০৫ ঘন্টা বা ১৩ কার্যদিবস। আখতারুজ্জামান হাতে নিয়েছিল ১০ দিন। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কোন লেবারও কাজ করে না। তারও ৫+৩০+৫ মিনিট ব্রেক থাকে ৮ ঘন্টা কাজে এবং ধর্ম কর্ম ও প্রাকৃতিক কাজেও চলে যায় ৩০/৩৫ মি। সেমতে এ রায় লিখার সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫-৬ ঘন্টা ব্যয় করা সম্ভব। রায় লিখতে সময় লাগবে ইংরেজী ড্রাফট না করে সরাসরি কম্পোজ করলে ১৭/১৮ দিন আর বাংলায় সরাসরি কম্পোজ করলে ২৫/২৬ দিন। আর যদি কম্পোজ এর পুর্বে ড্রাফট করা হয়ে থাকে তবে আরও চল্লিশ দিন যোগ করতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সাবেক বিতর্কিত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ওরফে কালা মানিক , আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ভারপ্রাপ্ত আইন সচিব আওয়ামীলীগ নেতা পিস্তল দুলাল ও তাদের লোকজন শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসরন করে এই রায় লিখে দিয়েছে। পুরো বিষয়টি তদারকি করেছেন হাসিনার অতি বিশ্বস্ত আইনজীবি আজমালুল হক কিউসি। রায়ের বিস্তারিত বিবরন আখতারুজ্জান নিজেও জানে না। সে শুধু ফরমায়েশী রায়ের সারাংশটুকু পড়েছে। পুরো রায় তার হাতে লেখা নয়।

রায়ের প্রিন্ট নেয়া হয়েছে গণভবন থেকে। রায় ঘোষণা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারন্তরীণ করার পরে এখন সার্টিফাইট কপি সরবরাহ নিয়ে টালবাহানা করছে সরকার। জানা গেছে, দ্রুত রায় ঘোষনা করার জন্য হাসিনার কড়া নির্দেশ পেয়েই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কালা মানিক, পিস্তল দুলাল এবং আওয়ালীগের কয়েকজন জজকে কাজের দায়িত্ব দিয়ে তদারকী শুরু করে। আনিসুল হকের ব্রিফিং পেয়ে ফরমায়েশী লেখা শুরু করে তারা। এই কুখ্যাত রায়ে ছত্রে ছত্রে মিথ্যা দিয়ে ভরা।

রায় ঘোষণা দেওয়ার আগেই সংক্ষুব্ধদের হামলার আংশংকায় জজ আখতারুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তা বিসিয়েছে সরকার। রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়ায়  আখতারুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে পুলিশের একজন এসআইসহ চার সদস্য বুধবার থেকে সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছেন। এ ছাড়া একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এক প্লাটুন বিজিবি এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওই বাড়িতে বিচারকের মা মোছা. মরিয়ম খাতুন, এক ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বসবাস করেন।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.