তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দপ্তর থেকে বিবৃতি প্রকাশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করলেন দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানর তারেক রহমান। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন দলটির এমন সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, চেয়ারপারসন কোনো কারণে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করবেন। এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান। গঠনতন্ত্রের ৭নং ধারায় উল্লেখ আছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করবেন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর বিবৃতি:

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-

ন্যায়নীতি বিবর্জিত বিচার ব্যবস্থা: আমরা অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।

বাংলাদেশ এখন দৃশ্যত: সকল প্রকার রাজনৈতিক ও বিচারিক সৌন্দর্যের রূপ হারিয়েছে। শাসকদল কোনো প্রকার রাখঢাক না করে তাদের খোলস খুলে ভয়ংকর একনায়কত্বের স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। আজ তারা প্রমান করেছে যে, ন্যায় বিচারের জন্য বাংলাদেশে আর সঠিক তদন্ত কিংবা অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। বরং শাসকদলের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকাই যেন সকল প্রকার নৈতিক, রাজনৈতিক, আইনগত কিংবা অর্থনৈতিক দুর্নীতি এবং স্বৈরাচার থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার উপায়।

সম্পূর্ণ নির্দোষ, নিরপরাধ ও প্রতিবাদী মানুষের শক্তিশালী কন্ঠস্বর দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে-ক্ষমতাসীনদের কদাচার, দুর্নীতি, দখলসহ নানা অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ যেন টু শব্দ উচ্চারণ করতে না পারে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী, যিনি তাঁর জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। ক্ষমতায় থাকতে দেশের সার্বিক উন্নয়নকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের জন্য তাঁর অনবদ্য অবদান দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালো জিয়া, যিনি সবসময় দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবেসে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে গেছেন, তাঁকে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ মদদে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রায়ের মাধ্যমে বিচারের নামে অবিচারের শিকার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। দেশের জনগণ বর্তমান একদলীয় স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে একটা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় ফেরত যাবার জন্য ব্যাকুলভাবে অপেক্ষা করছে। সেই সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই ধরণের রাজনৈতিক আক্রমণের মাধ্যমে শাসকদল জনগণের সামনে নিজেদের ভীতিকর চেহারাটাই উন্মোচন করেছে। এই সরকার বাক-স্বাধীনতা হরণ করেছে, স্বাধীনভাবে তথ্য ও মত প্রকাশে বাধা দিচ্ছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে দেশের যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি সেক্টরই বর্তমান সরকারের দলীয়করণের কবলে পড়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকার দেশের জনগণকেই জিম্মি করতে চাচ্ছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই পারে, বর্তমানের অন্ধকার ও বিপজ্জনক অবস্থা থেকে বাংলাশেকে আলোর ধারায় ফিরিয়ে আনতে।

গণতন্ত্র দীর্ঘজীবি হোক। আমরা অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।

 

Facebook Comments

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.